ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Film Industry) স্বর্ণযুগে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ পেয়েছিল অভিনেতা কালি ব্যানার্জিকে (Kali Banerjee)। কয়েক দশক টানা টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন। খুব অল্প বয়সেই বাংলার অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন। একদম শেষ বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত তিনি বাংলা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের গোটা জীবনটাই তিনি উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন টলিউডকে।
কালি ব্যানার্জি জন্ম ১৯২০ সালের ২০ নভেম্বর। কলকাতার কালীঘাট অঞ্চলে বড় হয়ে ওঠা। পিতা মনীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন আইনজীবী। নীল আকাশের নিচে, অযান্ত্রিক, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, বাদশা, ডাকহরকরা, পরশপাথর, বাড়ী থেকে পালিয়ে, পুতুল নাচের ইতিকথা, নাগরিক ইত্যাদি একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এরপর দাদার কীর্তি, গুরু দক্ষিণা ইত্যাদি প্রচুর বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করে প্রিয় অভিনেতা হয়ে ওঠেন।
সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ খ্যাতনামা পরিচালকদের ছবিতে যেমন অভিনয় করেছেন। তেমন প্রসেনজিৎ, রঞ্জিত মল্লিক থেকে তাপস পালদের সঙ্গে বহু সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করেছেন। এত বড় একজন অভিনেতা হয়েও নিজের জীবনের শেষ কয়েকটা দিন দুঃখ দুর্দশায় কাটাতে হয়েছে দিন। ভুগতে হয়েছে অর্থ কষ্টে।
শেষজীবনে আর্থিক কারণে সব রকম চরিত্রে তাঁকে অভিনয় করতে হয়েছে। অভিনয় করার জন্য হাত পর্যন্ত পেতেছেন একসময়। যা দেখে অনেকেরই দুঃখ হয়েছে। কিন্তু পেশাদার অভিনেতা হয়ে থেমে যেতে রাজি হননি জীবনের শেষ দিন অবধি অভিনয় করে গিয়েছেন। কিন্তু গুণী অভিনেতার কদর করতে পারেনি কেউ। তাই তো শেষ জীবনে এত অবহেলা, লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে।
অভিনয়কে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছেন। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত কাজ করে গিয়েছেন কালী ব্যানার্জী। অভিনয় করতে গিয়েই তার মৃত্যুটা হয়েছিল। শেষ ছবিতে বৃষ্টির দৃশ্যে শুটিং করছিলেন অভিনেতা। বৃষ্টিতে ভিজে তার নিউমোনিয়া রোগ হয়। তারপর চিকিৎসা চলেছিল কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ১৯৯৩ সালের ৫ই জুলাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।