‘সামনে দিদি বলে, পেছন ঘুরলেই গালাগালি দেয়!’ ইন্ডাস্ট্রির দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে সোজাসাপ্টা জোজো মুখোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) তথা বাংলার সংগীত জগতের অত্যন্ত পরিচিত এবং দাপুটে এক নাম জোজো মুখোপাধ্যায় (Jojo Mukherjee)। নব্বইয়ের দশক থেকে আজ পর্যন্ত নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর এবং গায়কী দিয়ে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। প্লে-ব্যাক থেকে শুরু করে স্টেজ পারফরম্যান্স সবক্ষেত্রেই তার অবাধ বিচরণ। দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি যেমন বহু কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন, তেমনি ইন্ডাস্ট্রির বিবর্তনকেও খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে তার করা মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শিল্পীর প্রধান অভিযোগের জায়গাটি হলো বর্তমান প্রজন্মের একাংশের ‘দ্বিমুখী আচরণ’। জোজো অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান যে, অনেক উঠতি শিল্পী বা তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তার সামনে এসে অত্যন্ত বিনয় প্রদর্শন করেন। তাকে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করেন এবং দাবি করেন যে তারা জোজোর কাজ দেখে অনেক কিছু শিখেছেন। কিন্তু এই শ্রদ্ধার আবরণটি কেবল সামনাসামনিই সীমাবদ্ধ। জোজো লক্ষ্য করেছেন, এই মানুষগুলোই তার আড়ালে বা তিনি পেছন ঘুরলেই অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেন এবং এমনকি গালাগালি দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এই ভণ্ডামি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
গালাগালি বা আড়ালে কুরুচিকর মন্তব্যের বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শিল্পী বর্তমান সময়ের নৈতিক অবক্ষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি সোজাসুজি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন, এই প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই প্রকৃত ‘রেসপেক্ট’ বা সম্মানবোধের জায়গাটি তৈরি হয়নি। সামনাসামনি তোষামোদ করা আর পেছনে গিয়ে কুৎসা রটানো এখনকার অনেকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। জোজোর মতে, এই আচরণ কেবল তাকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা নয়, বরং এটি পুরো ইন্ডাস্ট্রির সুস্থ পরিবেশকে কলুষিত করছে। সামাজিক মাধ্যমে লাইক বা ভিউ-এর দৌড়ে সাময়িক জনপ্রিয়তার লোভে অনেক সময়ই তরুণরা বড়দের প্রতি ন্যূনতম সৌজন্যবোধটুকুও হারিয়ে ফেলছেন।
শিল্পী আরও মনে করেন যে, বর্তমান প্রজন্মের শেখার মানসিকতাতেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তারা মুখে বড়দের আদর্শ মানার কথা বললেও আদতে নতুন কিছু শেখার ধৈর্য বা আগ্রহ তাদের মধ্যে দেখা যায় না। জোজো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখনকার ছেলেমেয়েরা মনে করে তারা সব জানে, তাই আলাদা করে শেখানোর কিছু নেই। অথচ যখনই কোনো গুণী মানুষের সামনে তারা আসেন, তখন স্রেফ সৌজন্যের খাতিরেই তারা শেখার কথা বলেন। এই কৃত্রিমতা এবং শিক্ষার প্রতি অনীহা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ হিমেশের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে! চ’ড় মারতে উদ্যত হয়েছিলেন গায়িকা? পঞ্চম দা-কে নিয়ে বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রিয়ালিটি শো-এর মঞ্চ!
হিমেশের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে! চ’ড় মারতে উদ্যত হয়েছিলেন গায়িকা? পঞ্চম দা-কে নিয়ে বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রিয়ালিটি শো-এর মঞ্চ! পরিশেষে জোজো তুলনা টেনেছেন তার বেড়ে ওঠার সময়ের সঙ্গে। তিনি জানান যে, তিনি যে সময়ের শিল্পী বা যে মাপের কিংবদন্তিদের কাজ দেখে বড় হয়েছেন, বর্তমান প্রজন্ম তাদের দেখার সুযোগই পায়নি। ফলে প্রকৃত শিল্পবোধ এবং জ্যেষ্ঠদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা কী হতে পারে, তা নিয়ে তাদের সম্যক ধারণা নেই। জোজো কোনো রাখঢাক না রেখেই ইন্ডাস্ট্রির এই অন্ধকার দিকটি তুলে ধরেছেন। তার এই কড়া সমালোচনা কি বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আনবে, নাকি এই দ্বিমুখী আচরণ চলতেই থাকবে তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।

