‘রাহুল দা বেঁচে গিয়ে হাসপাতালে থাকলে এত ভিড় হতই না…’ ‘বেঁচে থাকতে শিল্পীর কদর করতে শিখুন…’ গলায় আক্ষেপ নিয়ে আর্টিস্ট ফোরামের দিকে অভিযোগের আঙুল জীতু কমলের!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেতা জীতু কমল (Jeetu Kamal) তাঁর শক্তিশালী অভিনয় এবং স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য বরাবরই দর্শক মহলে পরিচিত। সত্যজিৎ রায়ের লুকে পর্দায় নিজেকে তুলে ধরে তিনি যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তেমনই বাস্তব জীবনেও কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজের মতামত জানাতে ভালোবাসেন তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ কর্মপদ্ধতি নিয়ে তাঁকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও আবেগপ্রবণ হতে দেখা গেছে, যা এখন বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
জীতু কমল তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানিয়েছেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কদর করার মানসিকতা যেন দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পী বেঁচে থাকতে যে সম্মান বা সাহায্যের প্রয়োজন থাকে, তা সময়মতো পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, অনেক সময় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা মেলে না। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তাঁর করা অভিযোগটি হয়তো তিনি তুলেও নিতে পারেন, কারণ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন যে নিজের লড়াইটা নিজেকেই লড়তে হবে।
সাক্ষাৎকারের সবথেকে বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। জীতু বলেন যে, রাহুল দার মৃত্যুর পর আজ মানুষের যে ভিড় এবং আর্টিস্ট ফোরামের যে বিপুল তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা হয়তো তিনি বেঁচে থাকাকালীন দেখা যায়নি। জীতুর দাবি অনুযায়ী, রাহুল দা যদি আজ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকতেন, তবে হয়তো এত মানুষ বা সংগঠন তাঁর পাশে দাঁড়াত না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত মরশুমী সহানুভূতির দিকেই আঙুল তুলেছেন।
শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ও সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জীতু বলেন, একজন শিল্পী যতক্ষণ না মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছেন, ততক্ষণ সমাজ বা ইন্ডাস্ট্রি তাঁর গুরুত্ব বুঝতে চায় না। আর্টিস্ট ফোরামের মূল দায়িত্ব নিয়ে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, কোনো শিল্পী চলে যাওয়ার পর শোকসভা করার চেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো তিনি বেঁচে থাকতে তাঁর কাজের পরিবেশ ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করা। শিল্পীর চরম সংকটে সংগঠনকে পাশে পাওয়াটাই আসল প্রাপ্তি হওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ ‘পেটে সন্তান, ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওরা!’ ‘শুটিং চলাকালীন মায়ের মৃ’ত্যু সংবাদ…’ ‘রাহুলের মৃ’ত্যু আমার ঘাটাকে র’ক্তাক্ত করেছে!’ প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে তোপ কনীনিকা ব্যানার্জির!
পরিশেষে জীতু কমলের এই ভিডিওটি বাংলা বিনোদন জগতের এক কঠিন বাস্তবকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। ফোরামের বর্তমান সক্রিয়তাকে তিনি সাধুবাদ জানালেও, তাঁর বক্তব্যে এক গভীর একাকীত্ব এবং প্রতিবাদের সুর ধরা পড়েছে। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যেও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, জীতু কমল যা বলেছেন তা অত্যন্ত কঠোর বাস্তব এবং শিল্পীদের এই মানসিক যন্ত্রণার অবসান হওয়া এখন সময়ের দাবি।

