‘এসব সত্যি কথা বলার পর আমি যদি বেঁচে থাকি…!’ ‘আমায় ফাঁসানোর আপ্রাণ চেষ্টা হয়েছে! ‘অন্যায় রুখলে যদি ফুটেজখোর বলে, তবে আমি বারবার ফুটেজখোর হতে রাজি!’ আবারও বিস্ফোরক জিতু কমল!

টলিউড (Tollywood) অভিনেতা জিতু কমল (Jeetu Kamal) মানেই যেন খবরের শিরোনাম। তবে এবার কোনো গুঞ্জন নয়, টালিপাড়ার ভেতরের নোংরা রাজনীতি, দলাদলি আর দুর্নীতি নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন অভিনেতা। সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক বোমা ফাটালেন তিনি। টালিপাড়ার একাংশ যে কতটা কলুষিত হয়ে পড়েছে এবং কীভাবে সততার সাথে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে পদে পদে বাধা পেতে হয়েছে, সেই সব সত্যি এবার প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেতা। একদম সোজাসাপ্টা ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা অন্যায়ের সাথে আপোশ করেননি।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই জিতু কমল তাঁর আগামী ছবি চোর এর প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সমাজকে একহাত নেন। পরিচালক অগ্নিদেবের পরিচালনায় তৈরি এই ছবিটির ডাবিং এখন শেষের মুখে। অভিনেতা জানান, সিনেমার নাম যখন চোর রাখা হয়েছিল, তখন তাঁরা ভাবেননি যে বাস্তব সমাজের সাথে এর এত মিল পাওয়া যাবে। বর্তমানে রাজ্যে ও দেশে যেভাবে একের পর এক দুর্নীতির খবর সামনে আসছে, তাতে ছবির চিত্রনাট্য যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। জিতুর কথায়, এই সিনেমাটি সমাজের সেইসব আসল চোরদের মুখোশ টেনে খুলে দেবে, যারা আড়ালে থেকে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে এবং কোনো নিরীহ মানুষকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। ডাবিং করতে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিল দেখে তিনি নিজেও অবাক হয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় বোমাটি অভিনেতা ফাটিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত সততা এবং তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা নিয়ে। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নারীঘটিত ব্যাপারে বা বিভিন্ন নোংরা স্ক্যান্ডালে ফাঁসানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, অতীতে বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের কাছ থেকে তাঁর ওপর নানারকম রাজনৈতিক ও মানসিক চাপও সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি একজন প্রযোজকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো দুর্নীতিও তাঁর চোখের সামনে ঘটেছে, যার বিরুদ্ধে তিনি একাই সোচ্চার হয়েছিলেন। জিতু জানান, অতীতে সিরিয়ালে অভিনয় করার সময় সহ-অভিনেত্রীদের সাথে সুস্থ সম্পর্ক বা বিয়ের পরিবেশ ছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ের মতো এত নোংরা ও কুৎসিত দলাদলি তখন ছিল না।
রাজনৈতিক সুবিধা না নেওয়ার কারণে তাঁকে কীভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল, সেই ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন জিতু কমল। তিনি বুক চিতিয়ে বলেন, কোনো বড় রাজনৈতিক মঞ্চে বা ২১শে জুলাইয়ের মতো সমাবেশে তাঁকে কোনোদিন দেখা যায়নি। লোভনীয় অর্থের অফার থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো দলের প্রচারে যাননি। আর এই সততার চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে তাঁকে। অভিনেতা জানান, বিগত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কোনো সরকারি অনুষ্ঠান বা বড় কোনো টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস থেকে তাঁর কাছে আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড পর্যন্ত পাঠানো হয়নি। এমনকি কিছু বেসরকারি নামী পুরস্কার অনুষ্ঠান থেকেও তাঁকে দূরে রাখা হয়েছিল। তবে এই অবহেলা নিয়ে তাঁর মনে কোনো আফসোস নেই, বরং ঈশ্বরের কৃপায় তিনি শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন বলে গর্ব বোধ করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘একজন মানুষ আর একজন মানুষকে এতটা ঠকাতে পারে?’ ‘ওর বাড়ি গিয়ে আমি ওকে অন্য মেয়ের সঙ্গে…’ ভালোবেসে চরম প্রতারণা! বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়!
সবশেষে, সমাজে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই যে তাঁকে বিতর্কিত বা ” ফুটেজখোর বলে তকমা দেওয়া হয়, তারও কড়া জবাব দিয়েছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, কোনো শুটিং সেটের টেকনিশিয়ানদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, মাঝরাতে ইউনিটের কোনো মানুষের অসুস্থতায় নিজের গাড়ি নিয়ে ছুটে যাওয়া কিংবা সহশিল্পীর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে একা প্রতিবাদ করাকে যদি লোকে “ফুটেজ খাওয়া” বলে, তবে তিনি এই তকমা অত্যন্ত আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে রাজি। তাঁর মতে, শুধু টাকা কামানো বা স্টারডম পাওয়াই জীবনের শেষ কথা নয়, মৃত্যুর পর মানুষ যেন মনে রাখে, সমাজের জন্য কী করে গেলাম সেটাই আসল। আর তাই সমাজের উপকারে লাগলে তিনি বারবার ” ফুটেজখোর হতেই ভালোবাসবেন।

