‘অতীতকে পেছনে ফেলেই এগোতে চাই!’ ট্রোলের বন্যা থেকে ব্যক্তিগত লড়াই সব ভুলে কিভাবে নিজের জীবনে ‘প্রত্যাবর্তন’ খুঁজছেন ইমন?

সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত হয়েছিল ‘ছবি প্রত্যাবর্তন’-এর গ্র্যান্ড প্রিমিয়ার। টলিউডের তাবড় তারকাদের ভিড়ে সেখানে আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty) এবং তাঁর স্বামী নীলাঞ্জন ঘোষ। লাল গালিচায় তাঁদের রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথাগত প্রশ্নের ভিড়ে হঠাৎই উঠে আসে তাঁদের জীবনের ‘প্রত্যাবর্তন’ প্রসঙ্গ। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের লড়াই আর কঠিন সময় নিয়ে ঠিক কী ভাবেন ইমন? স্বামী নীলাঞ্জনের উপস্থিতিতেই এমন এক গভীর জীবন দর্শনের কথা শোনালেন গায়িকা, যা উপস্থিত সকলকেই ভাবিয়ে তুলেছিল। কিন্তু কী সেই বক্তব্য? সেই রহস্য সমাধানের আগে ফিরে দেখা যাক ইমনের কেরিয়ার আর সাম্প্রতিক নানা বিতর্কিত মোড়।

হাওড়ার মেয়ে ইমনের সংগীতের হাতেখড়ি তাঁর মায়ের কাছে। লোকগান এবং রবীন্দ্রসংগীতে পারদর্শিতা তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তবে ‘প্রাক্তন’ সিনেমায় ‘তুমি যাকে ভালোবাসো’ গানটি তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়, যা তাঁকে এনে দিয়েছিল জাতীয় পুরস্কার। সাফল্যের শিখরে থাকাকালীনই ২০২১ সালে সংগীত পরিচালক নীলাঞ্জন ঘোষের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। বিয়ের পর থেকে ব্যক্তিগত এবং কর্মজীবন দুই ক্ষেত্রেই নীলাঞ্জনকে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন ইমন। তাঁদের এই জুটি সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন জনপ্রিয়, তেমনই সংগীত জগতেও এক শক্তিশালী নাম।

ইমন চক্রবর্তী বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগে নিজের প্রয়াত মাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত নিম্নমানের ও কুরুচিকর আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। গায়িকার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর একটি পোস্টে জনৈক নেটিজেনের করা কদর্য মন্তব্য দেখে চুপ থাকেননি তিনি। লাইভে এসে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে যোগ্য জবাব দিয়েছিলেন ইমন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, নিজের কাজের সমালোচনা মেনে নিলেও তাঁর মৃত মাকে নিয়ে কোনও নোংরামি তিনি বরদাস্ত করবেন না। সেই সময় তাঁর এই সাহসিকতা টলিউড মহলে এবং সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

ইমনের কেরিয়ারে যেমন সাফল্য আছে, তেমনই আছে বিতর্কের কালো ছায়া। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদান এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মুখ খোলার কারণে বারবার তাঁকে ট্রোলের শিকার হতে হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ এবং নেটপাড়ার ট্রোলাররা তাঁকে ‘চটি চাটা’ শিল্পী বলে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। তবে কোনো বিতর্কেই মাথা নোয়াননি তিনি। শিল্প আর রাজনীতিকে আলাদা রেখে প্রতিটি আক্রমণের মোকাবিলা করেছেন অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর পরিচয় তাঁর কাজ, অন্য কিছু নয়।

আরও পড়ুনঃ ‘যখন রাগ হয়, তখন রাগই করি, জীবনের প্রতিটি ইমোশনকে তার যোগ্য জায়গা দি আমি!’ পাশে নেই রাহুল, কীভাবে নিজের ইমোশন কন্ট্রোল করছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার?

‘ছবি প্রত্যাবর্তন’-এর প্রিমিয়ারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইমন অবশেষে ভাঙলেন তাঁর জীবনের ‘প্রত্যাবর্তন’ মন্ত্র। যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে জীবনের কঠিন মোড়গুলো থেকে তিনি কীভাবে ফিরে আসেন, ইমন অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে জানান যে, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে চড়াই-উতরাই থাকে। তাঁর কথায়, “জীবনে অনেক সময় খারাপ দিক আসে, খারাপ সময় আসে। সেইগুলোকে আঁকড়ে ধরে বসে না থেকে আমি সেগুলোকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।” ইমনের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই প্রমাণ করে দেয় যে কেন তিনি আজকের দিনে টলিউডের অন্যতম লড়াকু ব্যক্তিত্ব। অতীতে পড়ে না থেকে বর্তমানকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়াই ইমনের জীবনের আসল প্রত্যাবর্তন।

Back to top button