রূপালী পর্দার বাইরে এক ভিন্ন জীবন! কোথায় হারিয়ে গেলেন ‘লাঠি’ খ্যাত ভিক্টর ব্যানার্জী? জানেন বর্তমানে সপরিবারে কোথায় রয়েছেন অভিনেতা?

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম এক উজ্জ্বল নাম ভিক্টর ব্যানার্জী (Victor Banerjee)। আশির দশকে পর্দা কাঁপানো মারদাঙ্গা নায়ক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা সব জায়গাতেই তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নিজের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে অভিনয় জগতে প্রতিষ্ঠা পান তিনি। সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তি পরিচালকের হাত ধরে সিনেমা জগতে তাঁর সফর শুরু হয়েছিল।
পর্দায় ভিক্টর ব্যানার্জীর উপস্থিতি মানেই ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ কিছু। ‘দুই পৃথিবী’, ‘প্রতিদান’, ‘প্রতিকার’ কিংবা ১৯৯৬ সালের বিখ্যাত ‘লাঠি’ তাঁর অভিনীত একের পর এক বাংলা ছবি দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। শুধু বাংলাতেই নয়, হিন্দি, অসমীয়া এবং ইংরেজি ছবিতেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন। হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক ডেভিড লিনের ‘এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’ ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
প্রসিদ্ধি ও সাফল্যের শিখরে থাকা সত্ত্বেও তিনি বরাবরই প্রচারের আলো থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতে ভালোবাসতেন। শহরের কোলাহল আর দূষণ তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না। তাই পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকার জন্য তিনি বেছে নেন পাহাড়ি জীবনের অভিজ্ঞতাকে। শৈশবের সেই পাহাড়ি ভালোবাসাকে সঙ্গী করে জীবনের এক বিশেষ পর্যায়ে তিনি কলকাতা ছেড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন উত্তরাখণ্ডের মুসৌড়িতে।
ব্যক্তিগত জীবনে ভিক্টর ব্যানার্জী অত্যন্ত শান্ত ও সুখী একজন মানুষ। স্ত্রী মায়া ব্যানার্জীকে নিয়ে মুসৌড়ির মনোরম পরিবেশেই কাটছে তাঁর দিন। তাঁদের দুই কন্যা কেয়া এবং দিয়া। দুজনেই নিজেদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দারুণভাবে প্রতিষ্ঠিত। এক মেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত, আর অন্যজন ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বা ভিএফএক্সের জগতে কাজ করছেন। দুজনেই এখন বিবাহিত ও নিজ নিজ জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত।
আরও পড়ুনঃ ‘একাই লড়েছি, হারিনি! ক্যামেরা বন্ধ হতেই শুরু হতো য’ন্ত্রণা!’ পর্দার চেনা হাসির আড়ালে অন্ধকার অতীত! শারীরিক-মানসিক নি’র্যাতন! এক হাতে সন্তানকে আগলে পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প!
বয়স আশির কাছাকাছি পৌঁছালেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আজও একইরকম সতেজ। তাই মুসৌড়ির শান্ত পরিবেশ থেকে সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে আসেন প্রিয় শহর কলকাতায়। প্রিমিয়ার, অনুষ্ঠান কিংবা নতুন ছবির শুটিং সবক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। সম্প্রতি ‘সন্ন্যাসী দেশনায়ক’ বা ‘রক্তবীজ’-এর মতো ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শকেরা দারুণভাবে পছন্দ করেছেন। বাংলা সিনেমার অনুরাগীদের কাছে তিনি আজও সমান প্রিয় ও শ্রদ্ধেয়।

