‘দ্বিতীয় পার্ট না এলেও কিছু যেত আসত না!’ ‘টিকিট কাটার আগে সাবধান!’ চূর্ণী-জয়া-কৌশিকের দুর্দান্ত অভিনয়! তবুও কেন মন ভরল না সমালোচকদের? কি বললেন কৌশিক সেন?

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় এবং প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘অর্ধাঙ্গিনী’-র অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার রূপালী পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এর বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় পর্ব ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। কৌশিক গাঙ্গুলী (Koushik Ganguly) পরিচালিত এবং চূর্ণী গাঙ্গুলী, জয়া আহসান ও কৌশিক সেনের মতো শক্তিশালী তারকা খচিত এই সিনেমাটি ঘিরে দর্শক ও সমালোচকদের মাঝে শুরু থেকেই ছিল তুমুল উদ্দীপনা। তবে সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই টলিপাড়ার ভেতরে ও বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

প্রথম কিস্তির গল্পটি যেভাবে এবং যে নাটকীয় মোড়ে এসে শেষ হয়েছিল, তাতেই দর্শক এক ধরণের মানসিক তৃপ্তি পেয়েছিলেন। ফলে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ নামে এর দ্বিতীয় একটি পর্ব তৈরি করার বাণিজ্যিক তাগিদ হয়তো ছিল, কিন্তু গল্প বা শিল্পের খাতিরে এর খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। সমালোচকদের মতে, প্রথম ছবির নিখুঁত সমাপ্তির পর এই নতুন গল্পটি জোর করে টেনে লম্বা করার মতো মনে হয়েছে। এই দ্বিতীয় পার্টটি যদি সিনেমা হলে নাও আসত, তাহলেও বাঙালি দর্শকের মনে ‘অর্ধাঙ্গিনী’র যে চিরস্থায়ী আসন তৈরি হয়েছিল, তাতে বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি বা তফাত হতো না।

অবশ্য গল্পের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও অভিনেতা ও কলাকুশলীদের অভিনয় দক্ষতার প্রশংসা করতে ভোলেননি সিনেমা সমালোচকেরা। কৌশিক সেন, চূর্ণী গাঙ্গুলী এবং জয়া আহসানের অভিনয় বরাবরের মতোই অত্যন্ত পরিপক্ক এবং সাবলীল ছিল।বিশেষ করে সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ফুটিয়ে তুলতে এই ত্রয়ী তাঁদের সেরা পারফরম্যান্সটাই উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু চিত্রনাট্যের দুর্বলতা এবং প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয় অর্ধে গল্পের গতি মন্থর হয়ে যাওয়ার কারণে অভিনেতাদের এই অসাধারণ পরিশ্রমও সিনেমাটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে বলে রিভিউতে অকপটে তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমান যুগে যেকোনো সিনেমা মুক্তির পেছনে ট্রেলার লঞ্চ, মিউজিক রিলিজ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকা অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে। এই সিনেমাটির প্রচারণার ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি এবং ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়েই এটি বাজারে আনা হয়েছিল। তবে আর্টেজ টিভির রিভিউতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে তা হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা চমক বা ইনফ্লুয়েন্সারদের কৃত্রিম প্রশংসা দিয়ে সাময়িকভাবে সিনেমা হলের টিকিট বিক্রি বাড়ানো গেলেও, তা দিয়ে একটি সাধারণ মানের ছবিকে কালজয়ী বানানো অসম্ভব। দর্শকেরা এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তাঁরা সিনেমা হলের ভেতরে নিখাদ গল্প দেখতে চান, শুধু প্রচারণার চমক নয়।

আরও পড়ুনঃ উজি ও নিশার অনবদ্য যুগলবন্দী! ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকে দুই অভিনেত্রীর অসাধারণ অভিনয়ে মুগ্ধ টলিপাড়া!

পরিশেষে বলা যায়, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি টলিউডের সিক্যুয়েল সংস্কৃতির একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ছবিটির বাণিজ্যিক সাফল্যকে পুঁজি করে দ্বিতীয় পার্ট বানানোর যে প্রবণতা বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিতে দেখা যাচ্ছে, এই ছবি যেন তারই এক প্রতিফলন। সাধারণ দর্শক এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একাংশের মতে, সিনেমাটি ব্যক্তিগতভাবে দেখার মতো বা উপভোগ্য হলেও, এটি প্রথম পর্বের সেই গভীর অনুভূতি বা আবেদনকে স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার আগে এই ধরণের সৎ ও স্পষ্ট রিভিউ দর্শকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে যেমন সাহায্য করছে, তেমনই নির্মাতাদেরও ভবিষ্যতে সিক্যুয়েল নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

Back to top button