‘আদিকে মিথ্যা বলতে পারিনি!’ ছেলেকে কোন সত্যিটা জানালেন সুদীপা? অগ্নিদেবের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কি বললেন তিনি?

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় পরিচালক অগ্নিদেব চ্যাটার্জী (Agnidev Chatterjee) বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সম্প্রতি ভয়াবহ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এই দুঃসংবাদটি প্রকাশ্যে আসতেই বিনোদন জগতে গভীর উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। পরিচালকের স্ত্রী এবং জনপ্রিয় সঞ্চালিকা সুদীপা চ্যাটার্জী একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁর স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং এই পরিস্থিতির পেছনের কারণগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। বর্তমানে অগ্নিদেব আইসিইউ-তে (ICU) চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
সুদীপা চ্যাটার্জী জানান, ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আগে অগ্নিদেবের টানা দুদিন ধরে তীব্র মাথাব্যথা ছিল এবং মাথার শিরা ফুলে যাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের মাইগ্রেনের সমস্যা থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে সাধারণ মাইগ্রেন ভেবেই অবহেলা করা হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেন যে, এই ছোট অবহেলাই বড় বিপদে পরিণত হয়েছে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিচালকের বাঁদিকের দৃষ্টিশক্তি (আইসাইট) চলে গিয়েছে এবং শরীরের বাম অংশ অবশ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তিনি দাঁড়াতেও পারছিলেন না। বর্তমানে তাঁর সুগার লেভেলও অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘মদ খেয়ে নেশা করে এসব…’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যু ঘিরে প্রতিবাদে ভাঙন! জীতু-অভ্রজিতের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত টলিউড!
পরিবারের এই কঠিন সময়ের মধ্যে সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে তাঁদের ছোট ছেলে আদিদেবের ওপর। সুদীপা জানান, তিনি আদির কাছে কোনো সত্য গোপন করেননি। অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন আদিকে বলতে যে “বাবা শুটিংয়ে গেছে”, কিন্তু সুদীপা মনে করেন বর্তমানের বাচ্চারা মোবাইলে সব খবর দেখে ফেলে, তাই আদিকে তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে তাঁর বাবার শরীর খুব খারাপ। ছোট্ট আদি বর্তমানে মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছে এবং বারবার বাবাকে দেখতে যাওয়ার জেদ করছে। কিন্তু আইসিইউ-তে শিশুদের প্রবেশের অনুমতি না থাকায় তাকে বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে, যা সুদীপার জন্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
অগ্নিদেবের এই অসুস্থতার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। সুদীপা জানান, তাঁদের আসন্ন ছবি ‘চোর’-এর কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য পরিচালক দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছিলেন। অভিনেতা জিতু কমলের ডেট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ১২ দিনের শুটিং শিডিউল মাত্র ৯ দিনে শেষ করতে হয়েছিল। শুটিং শেষ করার পরেও ডাবিং এবং এডিটিংয়ের জন্য টানা রাত জেগেছেন অগ্নিদেব। এই প্রবল শারীরিক ধকল ও অনিয়মই শেষ পর্যন্ত ব্রেন স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বর্তমানে পরিবারটির ওপর দিয়ে এক ভয়াবহ ঝড় বয়ে যাচ্ছে, কারণ অগ্নিদেবের দিদিও একই হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
অবশেষে, সুদীপা চ্যাটার্জী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে একটি জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন যে, সামান্য মাথাব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তিকে যেন কেউ নিজে নিজে ওষুধ খেয়ে (সেলফ মেডিকেশন) ধামাচাপা না দেন। বিশেষ করে মাইগ্রেনের ব্যথার সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণের যে সূক্ষ্ম তফাত থাকে, তা সময়মতো ধরতে না পারলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে চিকিৎসকরা অগ্নিদেবকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। টলিউড মহলের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকরাও পরিচালকের দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন।

