‘চেয়ার ছাড়ুন, নিরপেক্ষ তদন্ত হতে দিন’! ‘মিথ্যে বলে লাভ নেই, আমার কাছে স্ক্রিপ্টটা এখনও আছে!’ সেটে নিরাপত্তায় গাফিলতি? নাকি পেশাদারিত্বের অভাব? হুশিয়ারি পরিচালক পারমিতা মুন্সীর!

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) মর্মান্তিক মৃত্যু টলিউডের অন্দরমহলের অনেক অপ্রিয় সত্যকে সামনে এনে দিয়েছে। সম্প্রতি এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে পরিচালক পারমিতা মুন্সি ইন্ডাস্ট্রির কর্মসংস্কৃতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। শুটিং সেটে অভিনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ—সবকিছুই এখন আতসকাঁচের তলায়। রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই প্রতিবাদ এখন কেবল শোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
পারমিতা মুন্সি তার বক্তব্যে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, টলিউডের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে আছেন, তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন, যাতে রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কোনো প্রভাব ছাড়াই বেরিয়ে আসতে পারে। পরিচালকের মতে, যদি সঠিক বিচার না পাওয়া যায়, তবে এই ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হয়ে পারমিতা অভিযোগ করেছেন যে, শুটিং সেটে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবিধি মানা হয় না। ওড়িশার তালসারিতে রাহুলের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সময় কেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়ে তিনি তদন্ত চেয়েছেন। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই প্রবণতাকে ‘মানসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর কঠোর নিন্দা জানান। তার কাছে থাকা লোগো সংবলিত ২৩ পাতার স্ক্রিপ্টটি এই তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘যেন দুই বোন’ মায়ের পাশে মেয়ে অন্বেষা! প্রিমিয়ারে নজর কাড়লেন স্বস্তিকা কন্যা! বর্তমানে কি করছেন অন্বেষা?
ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই পরিচালক। তিনি জানিয়েছেন যে, অনেক সময় শিল্পীরা নিজের ইচ্ছামতো দৃশ্য বা সংলাপ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, যা মূল চিত্রনাট্যের ভারসাম্য নষ্ট করে। একজন পরিচালকের সৃজনশীলতায় এই ধরনের বাধা এবং পেশাদারিত্বের অভাব কাজের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। পারমিতার মতে, কাজের জায়গায় শৃঙ্খলা না ফিরলে এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।
রাহুলের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে ইতিমধ্যেই ৭ এপ্রিল থেকে টলিউড জুড়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের ৭০০০-এর বেশি সদস্য এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে শুরু করে রাজপথের মিছিলে একটাই দাবি—’নিরাপদ কর্মস্থল’। পারমিতা মুন্সির মতো পরিচালকদের এই সাহসী অবস্থান সাধারণ শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জোগাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণ অকালে ঝরে না যায়।

