‘মিঠুনদার কান্ড কারখানায় আমি একবার ম’রতে বসে ছিলাম…’ ‘১৩ বছর বয়সে ওনার সঙ্গে আমার…’ জন্মদিনে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে অকপটে অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়!

মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিনে বহু পুরনো স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। তিনি জানান, খুব অল্প বয়সেই মিঠুনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সেই সময় জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা হিসেবে মিঠুন ইতিমধ্যেই পরিচিত মুখ। ‘নদী থেকে সাগরে’ ছবিতে প্রথমবার তাঁর বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান দেবশ্রী। শুটিংয়ের সময় এক মজার ঘটনার কথাও মনে করেন তিনি। শাড়ি পরার অভ্যাস না থাকায় দৃশ্যের মাঝেই পোশাক খুলে যেতে শুরু করেছিল। তখনই মজা করে দেবশ্রীর মাকে ডাকতে শুরু করেছিলেন মিঠুন। সেই সময় থেকেই দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।
দেবশ্রীর কথায়, মিঠুন চক্রবর্তী শুধু সহঅভিনেতা নন, বরং একজন প্রাণবন্ত এবং হাসিখুশি মানুষ। তাঁদের একসঙ্গে করা প্রায় সব ছবিই দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছিল। শুটিং ফ্লোরে উপস্থিত থাকলে পরিবেশ সবসময় প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। দেবশ্রী জানান, মিঠুন তাঁকে প্রায়ই মজা করে রাগিয়ে দিতেন, আর তিনি রেগে গেলে সেটাই নাকি অভিনেতার সবচেয়ে বেশি উপভোগের বিষয় ছিল। এই খুনসুটি বছরের পর বছর ধরে একইভাবে চলেছে।
একবার শুটিংয়ের সময় মিঠুনের একটি দুষ্টুমিতে সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন দেবশ্রী। ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ ছবির শুটিং চলাকালীন তাঁর কাঁধে একটি নকল সাপ রেখে দিয়েছিলেন অভিনেতা। হঠাৎ করে সেটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দেবশ্রী। পরে গোটা ঘটনাটি নিয়ে দু’জনের মধ্যে হাসি-মজাও হয়েছিল। অভিনেত্রীর দাবি, মিঠুনের এই দুষ্টু স্বভাব কখনও বদলায়নি। তবে সেই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত মেধাবী এবং দক্ষ অভিনেতা বলেও উল্লেখ করেন দেবশ্রী।
পর্দার বাইরেও দুই পরিবারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মুম্বই থেকে কলকাতায় এলেই মিঠুন প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে সময় কাটাতেন। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানেও নিয়মিত দেখা হতো। দেবশ্রী জানান, তাঁরা একই গুরুর শিষ্য হওয়ায় সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছিল। সম্প্রতি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে মিঠুনকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্যও অভিনেতাকে জোর করে বোঝাতে হয়েছিল বলে জানান দেবশ্রী।
আরও পড়ুনঃ মণ্ডপেই ঘটল বিরাট অঘটন! ঝিনুকের বিয়েতে আদিত্য-পল্লবীর সম্পর্কে নতুন মোড়! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
অভিনেত্রীর মতে, মিঠুন চক্রবর্তীর সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। নিজের পরিশ্রম এবং প্রতিভার জোরে তিনি বলিউডে শীর্ষস্থানীয় অভিনেতাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। দেবশ্রীর আক্ষেপ, এত বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তাঁকে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এসব বিষয় নিয়ে মিঠুন নিজে কখনও মাথা ঘামাতেন না বলেও জানান তিনি। জন্মদিনে তাঁর একটাই শুভেচ্ছা, মিঠুন চক্রবর্তী যেন সবসময় একই রকম প্রাণবন্ত, ইতিবাচক এবং চিরযুবক হয়ে থাকেন।

