‘কাছের মানুষটাকে হারালে কেমন বুক ফাটা কান্না আসে, ওরা জানে না!’ সর্বসমক্ষে কান্নাকাটি করে ট্রোলিংয়ের মুখে অভিনেত্রী! এমন নিষ্ঠুর ব্যবহারে গর্জে উঠলেন দেবলীনা দত্ত!

সম্প্রতি মুক্তি পেতে চলেছে প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Rahul Banerjee) জীবনের অত্যন্ত কাছের একটি স্বাধীন ধারার ছবি। কিন্তু সেই ছবির আবহে যখন বাবিনের স্মৃতিতে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, তখন সামাজিক মাধ্যমে একাংশের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এবার সেই ট্রোলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে নিজের মনের সমস্ত ক্ষোভ ও কষ্ট উগরে দিলেন অভিনেত্রী।

বাবিনের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়া এবং কান্না নিয়ে যারা সামাজিক মাধ্যমে দেবলীনাকে কটাক্ষ করছেন, তাঁদের তীব্র ভাষায় জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। দেবলীনা স্পষ্ট বলেন, “যারা এই ধরণের সমালোচনা করছেন, তাঁদের আশেপাশে হয়তো কোনো সংবেদনশীল মানুষ নেই, কিংবা তাঁরা নিজেরা ততটা অনুভূতিশীল নন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকা কোনো কাছের বন্ধু চলে গেলে যে বুক ফেটে কেমন কান্না আসে, সেই অভিজ্ঞতা হয়তো ট্রোলকারীদের কোনোদিন হয়নি।

অভিনেত্রী জানান, বাবিন চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত তাঁর বাড়িতে যান এবং পরিবারের পাশে থাকেন। সম্প্রতি তেমনই এক রাতে বাবিনের বাড়ি থেকে ফেরার সময় অভিনেতার মা নিজের আলমারি খুলে দেবলীনাকে একটি বিশেষ সাদা শাড়ি পরতে বলেন। কাকতালীয়ভাবে দেবলীনাও বেশ কিছুদিন ধরে সাদার ওপর সাদা কাজের একটি শাড়ি পরার কথাই ভাবছিলেন। ছবি মুক্তির দিনে সেই শাড়িটি পরেই ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি এবং এটিকে বাবিনের মায়ের আশীর্বাদ ও বাবিনের উপস্থিতির এক অদ্ভুত ইতিবাচক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই বিশেষ ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিনের একটি স্মৃতি হাতড়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দেবলীনা। তিনি জানান, সেদিন ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এর ফ্লোরে তাঁর সাথে বাবিনের দেখা হয়েছিল। বাবিন তখন একটি স্পেশাল এপিসোডের শুটিং শেষ করে বেরোচ্ছিলেন। দেবলীনাকে দেখেই অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সাথে বাবিন বলেছিলেন, “ফাইনাল তো? তাহলে ছবিটা হচ্ছে!” ছবির কাজ নিয়ে বাবিনের মনের ভেতর যে শিশুসুলভ আনন্দ ও পজিটিভ এনার্জি ছিল, তা আজও দেবলীনার মনে তাজা রয়েছে।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই ‘সিরিজ অফ ইভেন্টস’ বা আসল সত্য এখনো পরিবারের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। দেবলীনা জানান, বাবিনের বাড়ি গেলে আজও তাঁর মা, দাদা বা প্রিয়াঙ্কার সাথে এই নিয়ে প্রতিনিয়ত কথা হয়। তবে আইনি তদন্ত যে গুরুত্ব সহকারে চলছে, সেই আশ্বাস তাঁরা পেয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যা তাঁদের মনে সত্য উদঘাটনের কিছুটা আশার আলো জাগিয়ে রেখেছে।

আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় শিল্পী! শোকস্তব্ধ বিনোদন জগৎ!

সবশেষে দেবলীনা ট্রোলকারীদের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাইরের মানুষের সমালোচনা বা নোংরা মানসিকতা নিয়ে তিনি একদমই চিন্তিত নন। কারণ বাবিন এই ধরণের নেতিবাচকতা একেবারেই ‘ডিসার্ভ’ করে না। রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে বন্ধুর জন্য কষ্ট হলে, বুক ফেটে কান্না আসলে তিনি তা আড়াল করবেন না। সমাজ যাই বলুক না কেন, কাছের মানুষকে হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং কষ্টকে সঙ্গী করেই তিনি বাবিনের স্মৃতিকে সর্বদা বাঁচিয়ে রাখবেন।

Back to top button