প্রয়াণ দিবসে কিংবদন্তির স্মৃতিচারণ! আরও একবার নতুন করে চিনে নিন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে!

আজ ১৫ নভেম্বর বাংলা সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রজগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায় স্মরণ করার দিন। কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর অবদান বাংলা সিনেমা, থিয়েটার, আবৃত্তি, সাহিত্য—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনন্য। কুষ্টিয়ার কয়া গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে কৃষ্ণনগর-হাওড়ার শৈশব পেরিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর প্রভাব আজও একইরকম উজ্জ্বল।
হাওড়া জেলা স্কুল থেকে মেট্রিকের পর সিটি কলেজে আইএসসি, তারপর বাংলায় অনার্স—পড়াশোনার মাঝেই তাঁর জীবন বদলে দেয় নাট্যাচার্য শিশির ভাদুড়ির সান্নিধ্য। এখান থেকেই অভিনয়কে তিনি নিজের নিয়তি হিসেবে বেছে নেন। প্রথমদিকে থিয়েটার আর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ঘোষক হিসেবে কাজ চালালেও তাঁর লক্ষ্য ছিল বড়পর্দা। ‘নীলাচলে মহাপ্রভু’-তে সুযোগ না পেলেও ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। ‘অপুর সংসার’-এ অপুর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে ইতিহাস তৈরি করেন।
পরবর্তী সময়ে সত্যজিৎ রায়ের একের পর এক ছবিতে তাঁর উপস্থিতি সৃষ্টি করে সৃষ্টিকর্তা ও শিল্পীর এক বিরল সম্পর্ক। ‘তিন কন্যা’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘শাখা প্রশাখা’— প্রতিটি চরিত্রে তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছে দর্শক। তবে বাংলা জনপ্রিয়তার শিখরে ঠাঁই পেয়েছে তাঁর ফেলুদা-রূপ। ‘সোনার কেল্লা’ ও ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ আজও বাংলা সিনেমার ক্লাসিক, আর ফেলুদার প্রথম ও অনন্য মুখ হিসেবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সময়ের সীমানা পেরিয়ে এক প্রতীক হয়ে আছেন।
শুধু অভিনয় নয়, সমান দক্ষতায় তিনি লিখেছেন কবিতা, নাটক, রচনা। পরিচালনা করেছেন মঞ্চনাটক, সৃষ্টি করেছেন একের পর এক স্মরণীয় প্রযোজনা— ‘টিকটিকি’, ‘তাপসী’, ‘নামজীবন’, ‘দর্পণে শরৎশশী’। সাহিত্যের পাতায় তাঁর ‘চরিত্রের সন্ধানে’, ‘মানিকদার সঙ্গে’ কিংবা কবিতার বইগুলো আজও পাঠকের প্রিয়। কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন পদ্ম ভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, ফ্রান্সের লিজিওন অফ অনার এবং একাধিক ডি.লিটসহ বহু সম্মান।
আরও পড়ুনঃ ‘এই ন্যাকা নায়িকাটাকে বদলান, জিতুকে নয়’- ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিককে ঘিরে নতুন ঝড়! জিতুর পাশেই সমাজ মাধ্যম!
২০২০ সালের নভেম্বরে কোভিড–১৯ এর সঙ্গে লড়াই শেষে তাঁর প্রয়াণ বাংলা সংস্কৃতির কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি। কেওড়াতলায় গান স্যালুটে বিদায় জানানো হয়েছিল এই মহাতারকাকে। তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কোনওভাবেই শুধু এক অভিনেতার নাম নন—তিনি বাংলা শিল্প-সংস্কৃতির চিরসবুজ প্রতীক। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, উচ্চারণ, শিল্পদৃষ্টিভঙ্গি আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে আরও বহু বছর। শিল্প জগতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আলো নিভে যায়নি—তিনি রয়ে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের চিরজাগ্রত স্মৃতিফলকে।

