‘অভিনয়ই আমার আশ্রয়, এটা ছাড়া আমার আর…’ ‘নিজের মনকে স্বাধীনতা না দেওয়া মানে নিজের সাথে অন্যায় করা!’ স্টার কিডের তকমা ঝেড়ে ফেলে কেন নিজের পরিবারের বিরুদ্ধেই লড়তে হয়েছিল অনুষাকে?

টলিউড (Tollywood) তথা বাঙালি দর্শকদের কাছে অনুষা বিশ্বনাথন (Anusha Viswanathan) এক অত্যন্ত পরিচিত নাম। বিশিষ্ট পরিচালক অশোক বিশ্বনাথন এবং অধ্যাপিকা ও বাচিক শিল্পী মধুমন্তী মৈত্রের কন্যা অনুষার রক্তেই বইছে শিল্প। কিন্তু রুপোলি জগতের এই ‘স্টার কিড’ পরিচয় ছাপিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন দক্ষ ও রুচিশীল অভিনেত্রী হিসেবে। প্রেসিডেন্সি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী অনুষা বরাবরই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। ‘দুর্গা সহায়’, ‘জেনারেশন আমি’ থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের একাধিক কাজে তাঁর অভিনয় দক্ষতা নজর কেড়েছে। গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে অনুষা নিজেকে বারবার ভেঙেছেন, গড়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান নিছক শখের নয়, বরং এক গভীর প্যাশন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনুষা নিজের ব্যক্তিগত লড়াই এবং পারিবারিক অনুশাসন নিয়ে যে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেছেন, তা রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর পরিবার তথা বাবা-মা কখনও চাননি তিনি এই বিনোদন জগতের চাকচিক্যে পা রাখুন। এমনকি একটা সময় নিজের প্যাশনকে জেতানোর জন্য বাড়ির লোকের সাথে একপ্রকার বিদ্রোহ বা লড়াই করতে হয়েছিল তাঁকে। তথাকথিত ‘প্রোটেক্টিভ’ পরিবার থেকে আসা এই মেয়েটির কাছে অভিনয় কেবলই গ্ল্যামার নয়, বরং বাস্তব জীবনের না বলা যন্ত্রণার এক উপশম। অনুষার কথায়, “অভিনয় আমার কাছে থেরাপিউটিক”, যেখানে তিনি তাঁর সমস্ত অবদমিত আবেগ আর বাস্তব জীবনের কঠোরতাকে চরিত্রের আড়ালে মুক্তি দেন।

ভিডিওটিতে অনুষার পরবর্তী প্রজেক্ট ‘শেষের কবিতা’র ইংরেজি রূপান্তর নিয়ে বিশেষ আলোচনা উঠে এসেছে। সোহাগ সেনের পরিচালনায় এই নতুন কাজে অনুষাকে দেখা যাবে ‘কেটি’র চরিত্রে। অমিত আর লাবণ্যর সেই চিরকালীন প্রেমের আখ্যানে কেটি চরিত্রটি যে কতটা আধুনিক এবং জটিল, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। সোহাগ সেনের কঠোর ডিসিপ্লিন আর অভিনয়ের দীর্ঘ রিহার্সাল প্রক্রিয়াকে তিনি অনেকটা ‘স্কুলিং’-এর মতো দেখছেন। তাঁর মতে, অভিনয়ের যে ‘ডাউনলোড’ এবং ‘আপলোড’ প্রক্রিয়া, সেখানে নিজেকে বারবার ঝালিয়ে না নিলে একজন শিল্পী স্থবির হয়ে পড়েন। ফিন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি বা কেবল টাকার জন্য কাজ না করে নিজের ভালো লাগা আর গ্রোথকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপটে বেশ ব্যতিক্রমী।

অভিনেত্রীর এই নতুন রূপ আর ভাবনা নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ তাঁর এই সোজাসাপ্টা এবং স্বাধীনচেতা মানসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার অনেকের কাছেই তাঁর এই ‘বিদ্রোহী’ মেজাজ এবং স্টার কিড ইমেজের বাইরের লড়াইটা তর্কের খোরাক জোগাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে তাঁর যুক্তিপূর্ণ বিতর্ক অনেকেরই নজর কেড়েছে। অমিত-লাবণ্যর সম্পর্কের যেমন কোনো সামাজিক তকমা ছিল না, অনুষাও যেন তাঁর ব্যক্তিজীবনে এবং ক্যারিয়ারে তেমনই এক নামহীন স্বাধীনতার অন্বেষণ করছেন। তাঁর এই সাহসী এবং অপ্রথাগত চিন্তাধারা টলিপাড়ার অনেক সমীকরণই ওলটপালট করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুনঃ পল্লবীর বিয়েতে হাত তুলে নিল দাদা-দিদি! অভাবের সংসারে জীবনের বড় শিক্ষা পেলো শ্রীনিবাস! কীভাবে হবে পল্লবীর বিয়ে?

পরিশেষে, অনুষার এই সাক্ষাৎকারটি কেবল এক অভিনেত্রীর পেশাগত জীবনের গল্প নয়, বরং এক নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জার্নি। নিজের মনকে স্বাধীনতা না দেওয়াকে তিনি ‘অন্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা জীবনের এক পরম সত্য। তিনি বিশ্বাস করেন যে, কাউকে আঘাত না করে নিজের ভালো থাকাটা সবথেকে জরুরি। বর্তমানে তিনি যে এনার্জি আর ভালোবাসা দিয়ে নিজেকে তিলে তিলে গড়ছেন, তা পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। বিতর্কের উর্ধ্বে গিয়ে অনুষা বিশ্বনাথন আজ প্রমাণ করেছেন যে, অভিনয় তাঁর কাছে শুধু রুটিরুজি নয়, বরং নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য আয়না। টলিউডের এই ‘কেটি’ আগামী দিনে দর্শকদের আরও কতটা অবাক করেন, এখন সেটাই দেখার।

Back to top button