“অপয়া” তকমা মুছে ফেলে বর্তমানে বাংলা,হিন্দি এবং তেলেগু ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা! কেমন ছিল যিশু সেনগুপ্তর এই পথ চলা?

বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এক অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম হল যীশু সেনগুপ্ত। তবে শুধু বাংলা নয় তার পাশাপাশি হিন্দি, তেলেগু ছবিতেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। তবে তার অভিনয় জীবনের শুরুটা সাফল্যের সাথে হলেও মাঝে তার ক্যারিয়ার ধ্বংস হতে চলেছিল। এই প্রতিবেদনে তার সেই অজানা গল্পের কথাই রইল। বর্তমানে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা সব জায়গাতেই যিশু সেনগুপ্ত একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা। সম্প্রতি তাকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল স্টার জলসার জনপ্রিয় গানের রিয়ালিটি শো ‘সুপার সিঙ্গারে’ সঞ্চালকের ভূমিকায়। অভিনয়ে যেমন তার অত্যন্ত নাম রয়েছে সেই একই ভাবে সঞ্চালনার দিক থেকেও তিনি জনপ্রিয়।

যীশু সেনগুপ্তর জন্ম ১৯৭৭ সালের ১৫ ই মার্চ কলকাতার এক ব্রাহ্মণ পরিবারে । তার আসল নাম হল বিশ্বরূপ সেনগুপ্ত। তার বাবা উজ্জ্বল সেনগুপ্ত ছিলেন একজন বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা। তাই জন্য ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে তার চলচ্চিত্র জগতের চর্চা ছিল। তবে যীশু মূলত ছিলেন একজন ক্রিকেটার। সাব ডিভিশন স্তরে তিনি বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে ভাগ্যের ফেরে তাকে চলচ্চিত্র জগতেই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হয়েছিল। কিন্তু বাবা অভিনেতা হওয়ার জন্য যে তার এই পথটা খুব সহজ ছিল তা নয়। একটা সময় “অপয়া” বলে তাকে ইন্ডাস্ট্রি একেবারে এক ঘরে করে দিয়েছিল।

যীশুর প্রথম অভিনয় জীবন শুরু দূরদর্শনের ‘মহাপ্রভু’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। সেখানে তিনি প্রধান চরিত্র অর্থাৎ শ্রীচৈতন্যদেবের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। সেই চরিত্রে তার অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক মহলে। তারপরেই তার বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে, দিনেন সেনগুপ্তর পরিচালনায় ‘প্রিয়জন’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। কিন্তু সেটা কমার্শিয়ালি সাফল্য লাভ করতে পারে না। তারপর থেকে বেশ কিছু ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন কিন্তু সেগুলি সেভাবে সাফল্য পাইনি। যার ফলে আস্তে আস্তে তিনি মুখ্য চরিত্র থেকে সরে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। বেশ কিছু ছবিতে তাকে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকরা।

২০০৩ সালে ইন্দো বাংলাদেশের যৌথ পরিচালনায় ‘মনের মাঝে তুমি’ ছবিতে যীশু সেনগুপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে। সেই ছবিটি এই দেশে না চললেও বাংলাদেশে সেই বছরের সর্বোচ্চ ব্যবসা সফল ছবি ছিল সেটি। সেই সময় দীর্ঘ ৬ মাস আর কোন কাজ পাননি শুধুমাত্র যাত্রা করেই সংসার চালাতে হয়েছিল তাকে। সেই খারাপ সময়ে যিশু সেনগুপ্তকে কাজ দিয়েছিলেন পরিচালক স্বপন সাহা। ‘অভিমন্যু’, ‘কুরুক্ষেত্র’, ‘মহাগুরু’,’সজনী’, ‘সংগ্রাম’, ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’, ‘প্রেমী’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন।
![]()
এরপর তিনি বলিউডে শ্যাম বেনেগাল এর ‘নেতাজী সুভাশ চন্দ্র বসু: দ্য ফরগটেন হিরো’ সিনেমায় কাজ করেন কিন্তু সেখানেও সেভাবে জনপ্রিয়তা পান না। তারপরেই তিনি আসেন জনপ্রিয় পরিচালক ঋতুপর্ণ সেনগুপ্তর কাছে। আর তার হাত ধরেই তিনি আবার ইন্ডাস্ট্রিতে কামব্যাক করেন।
২০১২ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘চিত্রাঙ্গদা’ সিনেমায় তার অভিনয় অত্যন্ত ভাবে প্রশংসিত হয়েছিল সমালোচকদের কাছে। এছাড়া তিনি অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিচালনায় ‘নৌকাডুবি’, ‘আবহমান’, ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’, ‘দ্য লাস্ট ইয়ার’ প্রভৃতি। তবে ঋতুপর্ণ ঘোষের অকাল প্রয়াণের পর সকলে ভেবেছিল আবার হয়তো যীশু সেনগুপ্ত হারিয়ে যাবে। কিন্তু শ্রীজিৎ মুখার্জির পরিচালিত ‘জাতিস্মর’ ছবিতে তার অভিনয় অত্যন্ত ভাবে প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক মহলে।
View this post on Instagram
তারপর থেকেই একের পর এক ছবিতে তিনি কাজ করেছেন আর দারুণভাবে জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি একজন জনপ্রিয় অভিনেতা সে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি হোক বা বলিউড। এছাড়াও তেলেগু ছবিতে তিনি একজন জনপ্রিয় ভিলেন হিসাবেও খ্যাত। তিনি বলিউডে বহু জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন যেমন, ‘বরফি’, ‘পিকু’, ‘মনিকর্ণিকা’, ‘মার্দানি ২’, ‘সরক ২’ প্রভৃতি।

