উত্তম কুমার থেকে শুরু করে রঞ্জিত মল্লিক সকলের সঙ্গেই সমান দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন! স্বর্ণযুগের এই অভিনেত্রী এখনো চুটিয়ে কাজ করছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে, রইল রত্না ঘোষালের অজানা কাহিনী

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এমন বহু অভিনেতা অভিনেত্রীরা রয়েছেন যারা বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের সময় থেকে আজ পর্যন্ত অভিনয় করে আসছেন। তাদের সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীদের মন সব সময় জয় করে এসেছেন। মুখ্য চরিত্র হোক বা পার্শ্ব চরিত্র সব চরিত্রতেই অসাধারণ অভিনয় করেছেন এবং মানুষকে বিনোদন দিয়েছেন। বহু তবোর-তাবোর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মাঝে পড়েও শুধুমাত্র সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন আর এমনই একজন অভিনেত্রী হলেন রত্না ঘোষাল। বর্তমানে বড়পর্দায় তাকে সেভাবে দেখা না গেলেও ছোট পর্দাতে একইভাবে অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি।

রত্না ঘোষালের জন্ম হয় কলকাতাতেই। সেখানেই বড় হওয়া এবং নিজের জীবনটা কলকাতার চলচ্চিত্র জগতকেই দিয়েছেন তিনি। তার পিতার নাম ছিল গোপাল চন্দ্র ঘোষাল এবং মাতার নাম ছিল আশালতা ঘোষাল। দাদা ছিলেন শংকর ঘোষাল যিনি একজন বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা ছিলেন। রত্নার লেখাপড়া ছিল কলকাতার দ্যা একাডেমি স্কুল থেকে। তবে লেখাপড়ার থেকে বেশি নাচ এবং অভিনয়ের প্রতি তার টান বেশি ছিল। ছোট থেকেই চাইতেন একজন অভিনেত্রী হতে। তিনি আগাগোড়াই খুব হাসিখুশি এবং প্রাণ খোলা স্বভাবের মানুষ একজন। আর নিজের অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন অত্যন্ত ছোট বয়সে।

তার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৬৫ সালে বিজয় বসু পরিচালিত ‘রাজা রামমোহন’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রের অভিনয় করে। এরপর ‘দেবী তীর্থ’, ‘কামরূপ কামাখ্যা’, ও ‘কেদার রাজা’ ছবিতে চরিত্রাভিনেত্রী হিসাবে কাজ করার পর ১৯৬৯ সালে প্রথম মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। সেই ছবির নাম ছিল ‘পান্না হিরে চুনি’। তারপর থেকেই একের পর এক ছবিতে কাজ করার সুযোগ পান তার মধ্যে অন্যতম হলো, ‘অচেনা অতিথি’, ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘ঘটকালী’, ‘দেনা পাওনা’, ‘ছোট বউ’, ‘সতী’, ‘হীরক জয়ন্তী’, ‘রিফিউজি’, ‘মহা সতী সাবিত্রী’, ‘ভালবাসার গল্প’ প্রভৃতি। তবে বড় পর্দার পাশাপাশি তিনি কাজ করেছেন ছোট পর্দা এবং ওয়েব সিরিজেও।

বর্তমানে তিনি ছোট পর্দাতেই বেশি অভিনয় করেন। তার অভিনীত ধারাবাহিক গুলির মধ্যে অন্যতম হলো, ‘রাজা গজা’, ‘সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে’, ‘বয়েই গেল’, ‘গোয়েন্দা গিন্নি’, ‘জয় কালী কলকাত্তাওয়ালী’, ‘কনক কাঁকন’, ‘খড়কুটো’, ‘ত্রিনয়নী’, ‘ধুলোকণা’, ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’। তবে বর্তমানে তাকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বাংলা মিডিয়ামে’ যেখানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই ধারাবাহিকে তিনি নায়ক ভিকির ঠাকুমার চরিত্রে অভিনয় করছেন। যার কারসাজিতেই নায়ক ভিকি এবং নায়িকা ইন্দিরা বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তিনি ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন।

অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী তার খুব ভালো বন্ধু ছিলেন কিন্তু খুব অল্প বয়সেই বন্ধুকে হারান তিনি। বাংলার পাশাপাশি তাকে হিন্দি ছবি করতেও দেখা গেছে। এছাড়া ১৯৮০ সালে তিনি একটি নাচের দল নিয়ে গিয়ে ছিলেন আমেরিকা এবং কানাডাতে, সেখানেও তার প্রতিভার প্রশংসা হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি ‘ইউনিফোকাস’ নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা তৈরি করেন। সেই সংস্থা বেশ কিছু বাংলা এবং হিন্দি ধারাবাহিক দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহ করেছেন পরিচালক সুশীল দাসকে। তবে রত্না দেবীর কখনোই অভিনয় নিয়ে বাদ বিচার ছিল না। মুখ্য চরিত্র থেকে পার্শ্ব চরিত্র সব জায়গাতেই কাজ করেছেন তিনি। বয়সের ভারে বর্তমানে বেশ কিছুটা শরীর ভেঙে গেলেও এখনো পর্যন্ত অসাধারণ অভিনয় ক্ষমতার মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করে নিচ্ছেন। তাই সকলের প্রার্থনা তিনি যেন সবসময় এমনই সুস্থ থাকেন।

Back to top button