এতো ভালো অভিনয় করেও মেলেনি প্রাপ্য সম্মান? হারিয়েছেন ভারতের প্রবেশাধিকার! জেনে নিন ফেরদৌস আহমেদের অজানা গল্প

ফেরদৌস আহমে (জন্ম ৭ জুন ১৯৭৪) বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে আবির্ভূত একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র নায়ক সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজবুকের ভিতর আগুন, এটির পরিচালক ছিলেন ছটকু আহমেদ। তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পরিচালনায় পৃথিবী আমারে চায় না। পাশাপাশি তিনি কলকাতার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন। মিট্টি নামে ২০০১ সালে একটি বলিউডের চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি চলচ্চিত্রকার বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত হঠাৎ বৃষ্টি ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশপাশি তিনি মডেলিং, টিভি উপস্থাপনা ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন।

Firdous ahamed

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তার অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কারে ভূষিত করে। এগুলো হচ্ছে হঠাৎ বৃষ্টি (১৯৯৮), গঙ্গাযাত্রা (২০০৯), কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১), ও এক কাপ চা (২০১৪)। ফেরদৌস অভিনীত সফল চলচ্চিত্রের মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি (১৯৯৮), পৃথিবী আমারে চায় না (১৯৯৮), চুপি চুপি (২০০১), এই মন চায় যে (২০০১), সবার উপরে প্রেম (২০০২), প্রেমের জ্বালা (২০০২), বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ (২০০৩), প্রাণের মানুষ (২০০৩), চন্দ্রকথা (২০০৩), খায়রুন সুন্দরী (২০০৪), দুই নয়নের আলো (২০০৫), ফুলের মত বউ (২০০৬), গোলাপী এখন বিলাতে (২০১০), গেরিলা (২০১১) অন্যতম। এছাড়াও ফেরদৌস আহমেদ চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে, নৃত্য অনুষ্ঠানের প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।

ফেরদৌস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। চলচ্চিত্রে আসার আগে ফেরদৌস র‍্যাম্প মডেল হিসেবে কাজ করেছেন ফ্যাশন সেক্টরে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলের হাত ধরে র‍্যাম্পে তার হাতেখড়ি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বড় বড় বেশ কিছু ফ্যাশন শোর র্যা ম্পিংয়ে তিনি অংশ নেন। ২০১৫ সালে আরএফএল-এর ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হন এবং তিনটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। ফেরদৌস ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বর তানিয়া ফেরদৌসকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান। ছেলে নুজহাত ফেরদৌস ও মেয়ে নুজরান ফেরদৌস।

Firdous ahamed

 

তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। যেমন – বিজয়ী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – হঠাৎ বৃষ্টি (১৯৯৮)

বিজয়ী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – গঙ্গাযাত্রা (যৌথভাবে চঞ্চল চৌধুরী’র সাথে মনপুরা ছবির জন্য) (২০০৯)

বিজয়ী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১)

বিজয়ী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – এক কাপ চা (২০১৪)

বাচসাস পুরস্কার

বিজয়ী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – গঙ্গাযাত্রা (২০০৯)

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

মনোনীত: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (পুরুষ) (দর্শক জরিপ) – গেরিলা (২০১১)

মনোনীত: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (পুরুষ) (দর্শক জরিপ) – হঠাৎ সেদিন (২০১২)

মনোনীত: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী (পুরুষ) (দর্শক জরিপ) – বৃহন্নলা (২০১৪)

টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ডস – ২০১৫

২০১৯ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কলকাতায় প্রচারে নামেন তিনি। যার ফল মোটেই সুখকর হয়নি ফেরদৌসের কাছে। বিরোধী দল তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। প্রশ্ন ওঠে একজন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কিভাবে তিনি ভারতের রাজনীতিতে যোগ দিলেন? লোকসভা ভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রচারে কীভাবে অংশ নিলেন? এরপর পরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভিসা বাতিল করে দেন। এর আড়াই বছর পর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও তার পর থেকে কলকাতায় আর কখনোই দেখা যায়নি ফেরদৌসকে। টলিউড তথা সমগ্র কলকাতা থেকে প্রায় মুছেই যান ফেরদৌস। তবে বাংলাদেশে এখনো বিভিন্ন চরিত্র অভিনয় করে চলেছেন এই অভিনেতা।

Back to top button