‘একটার পর একটা সিনেমা বন্ধ করেছে…’— চারটি ছবিতে মুখ্য চরিত্র, তবু একটিও মুক্তি পায়নি! ইন্ডাস্ট্রির আঘাতে কষ্ট, হার মানেননি রূপসা! এবার পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ অভিনেত্রীর!

টলিউডের দর্শকপ্রিয় মুখদের তালিকায় অভিনেত্রী ‘রূপসা গুহ’র (Rupsha Guha) নাম হয়ত নেই। তা সত্ত্বেও ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, ধারাবাহিক থেকে সিনেমা—সবখানেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। তবু গত কিছু সময় ধরে রূপসাকে যেন পর্দায় দেখা যাচ্ছে না পর্দায়! অনুরাগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, অভিনেত্রী কি তবে নিজেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে? না, বরং চলেছেন এক অন্য লড়াইয়ের পথে—সেই পথে রয়েছে অপেক্ষা, হতাশা, কিন্তু রয়েছে এক অদম্য ইচ্ছাশক্তিও।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর, সম্প্রতি রূপসা চারটি সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও একটিও বড়পর্দায় মুক্তি পেতে দেখেননি! কখনও রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এক যে আছে শহর’ কিংবা ‘সেনাপতি’, কখনও অশোক বিশ্বনাথনের ‘হোয়াটস ইন এ নেম’, আবার কখনও ইন্দিরা ধর মুখোপাধ্যায়ের ‘স্বদেশিনী বিদেশিনী’—সিনেমার কাজ শেষ হলেও প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছয়নি একটিও! তবে, বারবার বন্ধ দরজার মুখে দাঁড়িয়ে থেকেও রূপসা ভেঙে পড়েননি।

উল্টে এক সাক্ষাৎকারে বললেন, “কষ্ট হলেও, আমি এখানেই থেমে যাব না!” আর তারপরেই নিজের নামের অর্থকে তুলে বললেন, “রূপসা তো একটা নদীর নাম। যে চিরপ্রবহমান, থামতে জানে না!” আর তাই অভিনয়ের ফাঁকেই এবার পরিচালনায় পা রাখলেন রূপসা। তাঁর ডেবিউ সিনেমা ‘হাউ আর ইউ ফিরোজ’ নিয়েই এখন চরম ব্যস্ততা। শূন্য বাজেট, কোনও বড় প্রোডাকশন হাউস নেই, কিন্তু তবু একাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন পুরো গল্প বলার দায়িত্ব।

এই ছবির শ্যুটিং হয়েছে এক অপূর্ব পুরনো বাড়িতে, যেখানে প্রতিটি জিনিসপত্র যেন একেকটা স্মৃতির পাতার মতো। বাড়ির মালিক, যিনি একাকী জীবন কাটাচ্ছেন, তিনিই হয়ে উঠেছেন রূপসার গল্পের প্রাণভোমরা। রূপসার মতে, এই ছবি শুধু একটা রোমান্টিক গল্প নয় বরং ভালোবাসা কীভাবে সময়কে অতিক্রম করেও টিকে থাকে, তার এক নিঃশব্দ প্রমাণ। ক্যামেরার পিছন থেকে দৃশ্য গড়ে তুলতে গিয়ে রূপসা যেন নিজেই অনেকটা বদলে গিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘শুয়ারের বাচ্চাটা কই?’— ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এমন কটুক্তি! শাশ্বত সাক্ষী, সেদিন নার্সিংহোমে এমন হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন ভানু! অভিনেতা স্মৃতিচারণ করে জানালেন, এই ভাষা কেন ব্যবহার করেন কিংবদন্তি কৌতুক শিল্পী?

রূপসা আরও বললেন এদিন, ” বর্তমানে যেখানে একটার পর একটা সম্পর্ক ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে, আমি চাই এই ছবিটা দিয়ে একটু হলেও ভাঙার বদলে আগলে রাখার চেষ্টা করুক মানুষ। আমি জানি, যাত্রাপথ কঠিন, তবু থেমে গেলে চলবে না।” একদিকে পরিচালনার নতুন অধ্যায়, অন্যদিকে অতীতের না-মুক্তি পাওয়া ছবির যন্ত্রণা—সব মিলিয়েই যেন রূপসার লড়াইটা আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁর কথায়, “শুধু একটা গল্প বলার তাগিদ ছিল, আর কিছু নয়।” এতেই প্রমাণ হয়, তিনি শিল্পী নন শুধু, একজন সত্যিকারের গল্পকার।

Back to top button