‘উত্তমকুমার আমার নাম দিয়েছিলেন “এক্স-রে আইজ”…’ কি কারণে মাধবীকে এই নামে ডাকতেন মহানায়ক? কি এমন দেখে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী?

টলিউডের (Tollywood) বর্ষিয়ান অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন মাধবী মুখোপাধ্যায় (Madhabi Mukherjee)। সাদাকালো সিনেমার সময় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী। জীবনের ৮২ টা বছর কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। দেখেছেন অনেকগুলি বসন্ত। সেই সময় বহু হিট ছবিতে অভিনয় করে তাক লাগিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়।

উত্তম কুমার থেকে শুরু করে সৌমিত্র সকলের সাথেই পর্দায় কাজ করেছেন অভিনেত্রী। একের পর এক ছবিতে চুটিয়ে অভিনয় করে তখন উত্তম মাধবীর জুটি দর্শকদের মনে ছাপ ফেলেছে। বাংলার প্রায় সমস্ত বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা যেমন সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, তপন সিনহা, তরুণ মজুমদার, পূর্ণেন্দু পত্রী, উৎপলেন্দু চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণ ঘোষ সকলের সাথেই কাজ করেছেন অভিনেত্রী।

বর্তমানে অভিনেত্রীকে বড় পর্দায় দেখা না গেলেও টেলিভিশনের পর্দায় কিন্তু এখনো অভিনয় করতে দেখা যায়। স্টার জলসার রোশনাই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। এই বয়সে এসেও অভিনেত্রীর অসাধারণ অভিনয় বারবার মুগ্ধ করেছে সকলকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী উত্তম কুমারের সাথে পুরোনো স্মৃতির কথা ভাগ করে নিয়েছেন। উত্তম কুমার মাধবী মুখোপাধ্যায়কে একটি বিশেষ নামে ডাকতেন। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয় অভিনেত্রীর চোখে উত্তম কুমার কেমন।

সেই গল্প বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, উত্তমকুমার কিছু বলতেন না। অন্য একজন যেভাবে অভিনয় করতেন, উত্তমকুমারও সেইভাবে রিয়্যাক্ট করতেন। আমি যদি একটু কমজোরি হই, উনিও কমজোরি হয়েই অভিনয় করতেন। উত্তমবাবুর সঙ্গে আমার একটা ছবি ‘থানা থেকে আসছি’। উনি সেখানে একজন পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আর আমার চরিত্রটি ছিল সমাজের এক নির্যাতিতা মেয়ের। ওই ছবিতে উত্তমবাবুর সঙ্গে আমার তেমন কোনো দৃশ্যই ছিল না। মনে আছে, একদিন উত্তমবাবু শট দিচ্ছেন, উনি চলে গেলে তারপর আমার শট নেওয়া হবে। আমি তো সেটে চলে গিয়েছি অনেকক্ষণ আগে, কিন্তু বসার জায়গা পাইনি, দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন উত্তমবাবু এসে আমায় বললেন, ‘ম্যাডাম, আপনি এখানে বসুন।’ আমাকে ‘ম্যাডাম’ বলায় ভীষণ অসুবিধেয় পড়লাম। বললাম, ‘আপনি আমাকে ম্যাডাম বলবেন না। মানুষকে চিহ্নিত করবার জন্য সব মানুষের একটা নাম দেওয়া হয়, আমারও একটা নাম আছে। আমার নাম মাধবী। আপনি মাধবী বলেই ডাকবেন।’ ওঁর সঙ্গে কথোপকথনের এই শুরু। তারপর তো একের পর এক সুপারহিট ছবি একসঙ্গে করেছি। খুব মনে পড়ে সেসব দিনের কথা। যখন আউটডোরে গেছি, সুপ্রিয়াদেবী রান্না করতেন। উত্তমবাবু, সুপ্রিয়াদেবী আর আমি তিনজন একসঙ্গে বসে খেতাম। আমি নাকি সবকিছু দেখতে পাই, তাই উত্তমকুমার আমার নাম দিয়েছিলেন ‘এক্স-রে আইজ’।

আরও পড়ুনঃ ‘কে ইমন? আমি ইমনের নামটাও শুনিনি…’- প্রকাশ্যে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়! জনপ্রিয় গায়িকাকে নিয়ে বিস্ফোরক! কেন এমন বললেন পরিচালক তথা অভিনেতা?

বর্তমানে অভিনেত্রীর বয়স বাড়ছে। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা, অভিনয় করার খিদে এখনো মরে যায়নি। তাই তো এই বয়সেও নিজেকে এত সুন্দরভাবে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন বারবার। মাঝে মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থতায় ভোগেন অভিনেত্রী। প্রসঙ্গত, ২০২৩-এ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী। তিনিও সেলুলাইটিসের সমস্যাতেই ভুগছিলেন।

Back to top button