‘চোখ দুটো খোলা ছিল, আমি চিনতেই পারছিলাম না!’ বিপ্লব দাশগুপ্তের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে শিউরে উঠেছিলেন আরত্রিকা মাইতি! চোখে জল নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী?

টলিউডের (Tollywood) অভিনয় জগতে ফের শোকের কালো ছায়া। দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্ত (Biplab Dasgupta)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা এবং বিশেষ করে কিডনির জটিল অসুখে ভুগছিলেন। চিকিৎসারত অবস্থাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি দেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশন জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। শক্তিমান এই অভিনেতার চলে যাওয়া চলচ্চিত্র মহলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা টলিপাড়ায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর সহকর্মী, পরিচালক এবং কলাকুশলীরা এই খবর শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অগণিত ভক্ত এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষেরা শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন। স্টুডিও পাড়া থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ানদের মধ্যে এখন শুধুই বিষণ্ণতা। পর্দার সেই পরিচিত মুখকে আর কোনো নতুন চরিত্রে দেখা যাবে না, এই সত্যটি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাঁর দীর্ঘদিনের পথচলার সঙ্গীদের। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করছেন যে, বিপ্লব দাশগুপ্ত শুধু একজন দক্ষ অভিনেতাই ছিলেন না, বরং মানুষ হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আরত্রিকা মাইতি প্রয়াত এই অভিনেতাকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আরত্রিকা জানান, শেষ বিদায়ে অভিনেতাকে দেখে তিনি চিনতেই পারছিলেন না। অসুস্থতার কারণে তাঁর চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল। অভিনেত্রী শিউরে উঠে জানান, তিনি লক্ষ্য করেছিলেন অভিনেতার চোখ দুটি খোলা ছিল, যা দেখে তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড অস্থির হয়ে পড়েন। সেই দৃশ্যটি তাঁকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলেন না যে এটিই সেই পরিচিত হাসিখুশি মানুষটি।
আরত্রিকা আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, বিপ্লব দাশগুপ্তের সাথে তাঁর সরাসরি অভিনয়ের সুযোগ খুব কম থাকলেও তাঁদের মধ্যে একটি সুন্দর পেশাদারি সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে মিঠিঝোরা ধারাবাহিকে কাজ করার সময় তিনি অভিনেতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। অভিনেত্রী উল্লেখ করেন যে, সেই সময় থেকেই বিপ্লব দাশগুপ্তের শরীর বেশ খারাপ ছিল। তাঁর হাত ও শরীর প্রায়শই কাঁপত। অভিনেত্রী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান যে, বিপ্লব দা পর্দার কোনো ‘মৃত্যুর দৃশ্য’ বা মারা যাওয়ার অভিনয় করতে একদম পছন্দ করতেন না। তিনি প্রায়ই প্রশ্ন করতেন কেন তাঁকে এমন দৃশ্য করতে হবে, কেন তাঁকে মরতে হবে। আজ বাস্তবেই তাঁর চলে যাওয়াটা যেন সেই না বলা কষ্টের সুরকেই বাজিয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ অন্ধকারের উপাসকদের কবলে দিতি! হিজলটলির জঙ্গলে ঘনিয়ে এলো চরম বিপদ! তান্ত্রিকদের বলির খাঁচায় বন্দি নায়িকা! এমন সময়… দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সবশেষে বলা যায়, বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতে এক বিশাল শূন্যস্থান তৈরি করল। অভিনয়ের প্রতি তাঁর একাগ্রতা এবং চরিত্র ফুটিয়ে তোলার শৈল্পিক দক্ষতা আগামীর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে টলিউডের প্রতিটি কোণ আজ নিস্তব্ধ। চিকিৎসকদের দীর্ঘ চেষ্টা এবং প্রার্থনা কোনো কিছুই তাঁকে আর আটকে রাখতে পারল না। বাংলা ছবির দর্শক তাঁদের প্রিয় অভিনেতাকে মনে রাখবেন তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং পর্দার সেই বলিষ্ঠ উপস্থিতির মাধ্যমে। ওপারে ভালো থাকুন প্রিয় অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্ত।

