“ওর কাছে যাস না, লোকটা বদমাইশ”- মানসিক যন্ত্রণা চেপে পেটের দায়ে অভিনয় করে গিয়েছেন বিপ্লব চ্যাটার্জী!

সম্প্রতি আরজিকর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধ’র্ষণ করে খু’নের ঘটনায় উত্তাল হয়েছে সারা বাংলা। এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও রাজ্য জুড়ে চলছে প্রতিবাদের ঝড়। এই আবহাওয়াই টলিউডের ভিতর থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর খবর। যৌ’ন নি’গ্রহের অভিযোগ উঠেছে পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে। এমনকি অভিনেতা জয়জিৎ ব্যানার্জীর বিরুদ্ধেও উঠেছে যৌ’ন নিগ্রহের আঙ্গুল। যার ফলে টলিউডকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই যৌ’ন নি,গ্রহ, যৌ’ন হে’নস্তার ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুললেন বাংলা সিনেমার একসময়ের ‘খলনায়ক’।
চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে পর্দায় তাকে বারংবার করতে হয়েছে ধ’র্ষণ বা শ্লীল’তাহানি। তার মত ‘দুষ্টু লোক’ বাংলা সিনেমার জগতে খুব কমই তৈরি হয়েছে। তার নামই হয়ে গিয়েছিল ‘ভিলেন ধর্ষক’। এইসব ধ’র্ষণ, শ্লীল’তাহানির দৃশ্যে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন মরসিয়ার অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়।
তিনি বারংবার একটা কথাই বললেন কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই সব দৃশ্যে অভিনয় করতে না চান তবে তবে কোনওরকম অস্বস্তিতে পড়তে হয় না সহকর্মীকে। দায়িত্বের সাথে, সৎভাবে সহকর্মীর বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে কাজ করতে পারলে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না শুটিংয়ে। নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ” আমি একবার একটা বোম্বের (মুম্বইয়ের) ছবিতে কাজ করেছিলাম। যিনি অভিনেত্রী ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ‘এই একটা মানুষকে দেখলাম, যিনি পুরো অভিনয়টাই করলেন, কিন্তু আমার শরীর স্পর্শ করলেন না’। এখন মজা হচ্ছে এগুলো তো কেউ বিশ্বাস করে না।”
অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেন শুটিংয়ের সময় এইসব ঘটনা যারা ঘটায় তারা বদমাইশি করেই ঘটায়। অভিনয় করতে গিয়ে কখনও সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়ে যেতে পারে, কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সহকর্মীকে অস্বস্তিতে ফেলাটা কখনোই ঠিক কাজ নয় বলেই মনে করেন অভিনেতা। এ কথা বলতে গিয়েই তিনি আরও একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন ” এমন কত ঘটনাই মনে পড়ে। একটা যেমন, দিলীপ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত একটি ছবি। প্রফুল্ল রায়ের গল্প। সেখানে দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে আমার এমন একটা সিক্যোয়েন্স ছিল। আমি ওকে দেখে বলেই ফেললাম- ‘বাবা, আমি তোর সঙ্গে এই পাঠটা করব?’ ও বলেছিল– ‘আমি তো ভরসা পাচ্ছি তুমি আছ বলেই।’ এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। দৃশ্যটা এমন ছিল আমায় দেবশ্রীর ব্লাউড ছিঁড়ে ফেলতে হবে। আমি জানতামই না, মহিলাদের ব্লাউজে পিঠে পট্টিটা থাকে। আমি চেষ্টা করেও ছিঁড়তে পারছি না। এরপরই সিনটা কাট করা হল। তারপর কাঁচি দিয়ে ব্লাউজের সেই অংশটা কাটা হল, তারপর আবার টেক।”। যাদের ইচ্ছে থাকে, তারা ভালভাবেই এই দৃশ্যে অভিনয় করতে পারেন। অভিনয় করতে গিয়ে বিপরীত দিকে থাকা মানুষটার সম্মান রক্ষা আমার দায়িত্ব বলেই মনে করেছি চিরকাল বলে জানালেন তিনি।
এইরকম ধ’র্ষণ বা শ্লীলতা’হানি করার দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে কেঁদে ফেলতেন বলেও জানালেন অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন “আগে আমাদের সময় পুরো সেটটাই ছিল একটা পরিবার। কেউ কাকু, কেউ জেঠু, দাদা, বন্ধু…। সকলে মিলে একটা ভাল কাজই ছিল লক্ষ্য। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করেছি। তবে সেই টিমে যদি কোনও অপরিচিত অভিনেত্রী চলে আসতেন, আর তাঁর সঙ্গে আমায় এমন অভিনয় করতে হত, খুব অস্বস্তি হত। আমি কেঁদে ফেলতাম।”
আরও পড়ুন: টাকার গন্ধে হাজির সুইটি! ফাঁদে পা দিতেই তাকে খপাৎ করে ধরল পর্ণা!
এইসব চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা। এমনকি খারাপ কথা শুনতে হয়েছে বাচ্চাদের সামনেও। একবার এক অনুষ্ঠানে একটি বাচ্চা তার কাছে আসতে চাইলে সবার সামনেই সেই বাচ্চার মা নাকি বলে ওঠে ‘যাস না, লোকটা ভীষণ বদমায়েশ’। অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ” অসম্ভব কষ্ট। সে মানসিক য’ন্ত্রণা বলে বোঝানো যায় না। এই কাজ করার জন্য আমি তো জন্ম নিইনি। কিন্তু করতে হয়েছে পেটের দায়ে”।

