‘বিয়ের পর সন্তান চায়নি সে, ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে বলে…’ ‘নিজের বাবাকেই দেখিনি, আমি কারো দায়িত্ব নিতে পারব না!’ ‘আমি চেয়েছিলাম একটা সন্তান, কিন্তু…’ বৈবাহিক জীবনে সুখী হননি অভিনেতা! পূরণ হয়নি বাবা হওয়ার সাধ! মুখ খুললেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) ও বাংলা টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) তাঁর অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে বহু বছর ধরে দর্শক হৃদয়ে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। ‘এক আকাশের নিচে’, ‘মা’ থেকে শুরু করে বহু চর্চিত ধারাবাহিকে তাঁর উপস্থিতি অনুরাগীমহলে প্রশংসিত হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা এই অভিনেতা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারধর্মী ভিডিওতে তাঁর অতীত বৈবাহিক জীবন এবং সন্তান জন্ম দেওয়া কেন্দ্রিক পারিবারিক সিদ্ধান্তের এক অজানা অধ্যায় প্রকাশ্যে এনেছেন।
ভিডিওটিতে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় অকপটে তুলে ধরেছেন, কীভাবে বিয়ের পর পরিবার বড় করার স্বপ্ন দেখলেও প্রাক্তন স্ত্রীর অসম্মতির কারণে তা অধরাই থেকে গিয়েছিল। অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, বয়সের কথা বিবেচনা করে তিনি পরিবার গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গীর অনাগ্রহ ও ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক ভাবনার কারণে সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত অন্য মোড় নেয়।
নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে ভিডিওটিতে অভিনেতা সরাসরি বলেন, “ন্যাচারালি আমার বয়স হয়ে যাচ্ছে, তো আমি ওকে বলেছিলাম যে দেখো এখন না হলে এটলিস্ট এক বছরের মধ্যে একটা ফ্যামিলি স্টার্ট করা ভালো, না হলে এরপর আর কবে বাচ্চা মানুষ করবো, আর তো সম্ভব নয়। তো আমাকে বলল যে আমাকে একটা বছর দাও, সদ্য তো বিয়ে হলো আমাদের, একটা বছর পর আমরা এটা নিয়ে ভাববো। একটা বছর আমি একটু নিজের মতন থাকি। ঠিক আছে, তুমি কি করবে? বলে আমি বাড়িতেই থাকবো, না কোন চাপ নেই বাড়িতে থাকো, তুমি কাজ করো বা যা প্রাণ চায় তুমি করো না কেন। এক বছর গেল দেড় বছর গেল, তারপরে তো আমি ওকে বলেছি এবার আমাদের একটা ভাবনার সময় এসে গেছে, কারণ আর কিন্তু এরপর আর তোমারও বয়স বেড়ে যাচ্ছে, আমি তো একা বয়স বাড়ছে আমার তাও নয়। তো ও তখন আমাকে বলেছে, না আমি বাচ্চা আমার কোনদিন মানে আমি নিতেই পারবো না। কেন? কোন প্রবলেম? না প্রবলেম কিছু নেই, কিন্তু আমি কারো দায়িত্ব নিতে পারবো না। আমার বাবার ক্যান্সার হয়েছে তাকেই দেখিনি… আমি কারো দায়িত্ব নিতে পারবো না। আমার পক্ষে মানে বেবি তাকে কে মানুষ করার মানুষ তো দূরস্থান, আমি ১০ মাস ক্যারি করতে পারবো তাকে? আমার চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে, এসব হয়ে যাবে। তাহলে তুমি কি করবে? না আমি অ্যাক্টিং করবো।”
অভিনেতার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, সম্পর্কের মধ্যে সন্তান প্রতিপালন ও দায়িত্ব নেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিগত প্রার্থক্যই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিল। একদিকে ভাস্বর যখন বয়স এবং পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, অন্যদিকে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ধরে রাখা এবং অভিনয়ে মনোযোগ দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছেন। নিজের দায়িত্ব এড়ানোর পেছনে নিজের পারিবারিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমাদের নিজের ঘরেও ছাত্র-যুব আছে, ওদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব!’ ‘লাল পতাকার ইতিহাসটা একটু পড়ুন!’ রাজপথে ছাত্রদের পাশে টলিউড! পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি চন্দন সেন, ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক প্রবীণ অভিনেতার!
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এই ভিডিওটি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভেতরে আধুনিক জীবনধারা, সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে ভাস্বরের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সাধারণ দর্শকের কাছেও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

