মৃত্যু অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা পাল্টাতে পারেনি, শুধু পাল্টেছে নায়কের বন্ধুরা! নেয় না খোঁজ! অভিমানী সংযুক্তা

মৃত্যু অভিষেককে তাঁর থেকে আলাদা করে দিতে পারেনি এই কথা বার বার জানিয়েছেন প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়। প্রয়াত অভিনেতার জন্মদিনে তাঁরই ফেসবুকের পাতায় আবেগঘন পোস্ট লিখলেন সংযুক্তা চ্যাটার্জী। বিগত কোনও বছরের জন্মদিনের কেক কাটার ছবি পোস্ট করলেন সংযুক্তা। পোস্টে লিখলেন ‘প্রত্যেক নারীর স্বপ্ন থাকে এক আদুরে স্বামী ও কেয়ারিং বাবার। তুমি ঠিক তাই। সারা জীবন তুমি ঠিক তেমনটাই থাকবে। যত দিন যাচ্ছে তোমাকে আরও বেশি করে ভালোবেসে ফেলছি। ভালোবাসা আমাদের কখনও আলাদা করতে পারবে না। শুভ জন্মদিন প্রিয়…’

এই ৩০ এপ্রিল অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের ৫৯ তম জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে বড় পর্দা ভীষণভাবে মিস করছেন অভিনেতাকে। এই বিশেষ দিনে তার না থাকা বিনয় জগতকে জানান দিচ্ছে কত বড় নক্ষত্র হারিয়েছে তারা। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ রিয়্যালিটি শোয়ের শ্যুটিংয়ের মাঝেই অসুস্থ হয়ে আচমকাই মৃত্যু ঘটে অভিষেকের। গত মাসেই ছিল অভিনেতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

অভিষেক কে সবসময়ই নিজের মনের মধ্যে রাখেন তার স্ত্রী সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়। কখনো এক মুহূর্তের জন্য এমনটা অনুভব করেননি যে তার সঙ্গে নেই অভিষেক। অভিষেকের অবর্তমানে টলিপাড়ার সহকর্মীরা যোগাযোগ রাখেনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে। এক সংবাদ মাধ্যম তার সাথে যোগাযোগ করলে অভিষেকের স্ত্রী জানান, “ইন্ডাস্ট্রির কেউই সম্পর্ক রাখেননা, তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। অভি চলে যাওয়ার পর আর্থিক অবস্থা নিয়ে অনেক রকম কথা উঠেছিল। আমি এক বছরে দেখিয়ে দিলাম, আর্থিক ভাবে কতটা সচ্ছল। একটা মহিলা হয়ে আরও কত কিছু করা যেতে পারে একবছরে সেটাও প্রমাণ করে দিয়েছি। সবাই হয়তো কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ঠিক আছে, আমি এসব নিয়ে কিছু মনে করিনা।”

একটা সময় ছিল যখন অভিষেক চট্টোপাধ্যায় একের পর এক হিট ছবি দর্শককে উপহার দিয়েছেন। সংযুক্তার কথায়, “কলকাতাতে একটা সংস্থা রয়েছে, সেখানে বাচ্চাদের জন্য উপহার পাঠিয়েছি। সুন্দরবনে শিশুদের একটা বিদ্যালয় রয়েছে, সেখানেও বাচ্চাদের জন্য কেক, চকোলেট এবং উপহার পাঠানো হয়েছে। শুধু এই বিশেষ দিনটিতেই নয়, আমার উপার্জনের কিছুটা অংশ প্রতি মাসে এই দুটি সংস্থাকে দিয়ে, তাদের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করি। এছাড়াও আজ সুন্দরবনে অভিষেকের নামে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে, আমাকে অনেকবার সেখান থেকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। কিন্তু মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এতদূরে যাওয়া আজ সম্ভব নয়। তাই ওদের জন্য বাড়ি থেকেই সব রকমের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।” সংযুক্তার আরও বলেন, “স্বপ্নে দেখেছি, তাই সাঁইবাবার মন্দিরেও যাবো। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এইদিন বাইরেই খাবো।”

বারবারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন তিনি আর সেই সময়ই অভিষেকের সঙ্গে কাটানো কিছু ভালো স্মৃতি ভাগ করে নিলেন দর্শকদের সাথে। সংযুক্তার কথায়, “ব্যক্তিগত জীবনে অভিষেক খুবই সংসারী ছিলেন। সেই কারণে প্রতিবছর আমাকে এবং ডলকে নিয়েই জন্মদিন উদযাপন করতে পছন্দ করতেন। একবার সারপ্রাইজ দিতে ওকে না জানিয়ে, ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলাম। সন্ধ্যেবেলায় অভি যখন আমাদের নিয়ে বেরোনোর জন্য তাড়া দিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই সবাই মিলে একসঙ্গে এসে দরজায় বেল বাজায়। সবাইকে হঠাৎ দেখে অবাক অভিষেক। সেটাই ছিল আমার পক্ষ থেকে জন্মদিনে অভির জন্য সেরা সারপ্রাইজ।” অন্যান্য বছরের মত এবারেও উপহার কিনেছেন সংযুক্তা, কেক ও অর্ডার দিয়েছেন তিনি। উপহারের থেকে খাবারের প্রতি বেশি জোক ছিল অভিষেকের কারণ তিনি ছিলেন খাদ্য রসিক মানুষ। টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেকের অবদান সর্বদাই অনস্বীকার্য হয়ে থাকবে।

Back to top button