মুখ দেখে কেউ কাজ দিতে চায়নি! আজ টলিউডের সেরা খলনায়ক সুমিত গাঙ্গুলী

৯০ দশকের সময় বাংলা চলচ্চিত্র (Bengali Film Industry) জগতে নীলচে চোখ, ফোলাফোলা গাল নৃশংস দৃষ্টি এগুলো শুনলেই মনে পড়ে যেত অভিনেতা সুমিত গাঙ্গুলীর (Sumit Ganguly) কথা। খলনায়ক চরিত্রে ৯০ দশক থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্রতে তার ভূমিকা অপরিসীম। প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিত, মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে দেব, জিৎ, সোহম সকলের সঙ্গে ছবিতে কাজ করেছেন অভিনেতা। এক কথায় পুরনো প্রজন্ম থেকে নতুন প্রজন্ম সব ছবিতেই যখনই কোনো জাদরেল ভিলেন দরকার পড়েছে তখনই সুমিত বাবুকে দরকার পড়েছে। আজ তার সম্পর্কে কিছু অজানা কথা আপনাদের জানাবো।
চলুন জেনে নেওয়া যাক অভিনেতার জীবনের গল্প
সুমিতবাবুর জন্ম কলকাতার সন্তোষপুরে। এরপর তিনি গড়ফা ধীরেন্দ্রনাথ মেমোরিয়াল হাই স্কুল করে পড়াশুনা করেছেন। হিরোম্বো চন্দ্র কলেজ থেকে আর্টস নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। অভিনয়ের নেশা ছিল অনেক আগে থেকেই। মাত্র ছয় বছর বয়সেই পাড়ার বিভিন্ন থিয়েটারে কাজ করেছে। এরপর কলেজ জীবনেও বিভিন্ন গ্রুপ থিয়েটারে অংশ ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮১ সালে প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন তিনি। প্রথম দিকে বিভিন্ন ছোট ছোট বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছেন গ্রুপ থিয়েটারে অভিনয়। ভিক্টর ব্যানার্জীর সঙ্গেও কাজ করেছেন একসময়। সেই সূত্রে আলাপ হয় চিরঞ্জিত বাবুর সাথে। চিরঞ্জিতবাবু তার মঞ্চে অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। এরপর চিরঞ্জিতবাবুর হাত ধরেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু করেন নিজের বড় কাজ।

১৯৯৩ সালে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে ছবির হাত ধরে প্রথম সকলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে সুমিত বাবুর। ওই ছবি পর্দায় দারুন হিট করেছিল। এরপর একের পর এক ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ আসতে থাকে তার কাছে। সংসার সংগ্রাম, দেবীপক্ষ, বোম্বাইয়ের বোম্বেট, যুদ্ধ, এম এল এ ফাটাকেষ্ট, অভিমন্যু, আই লাভ ইউ এর মত একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। শয়তান ছবির হাত ধরেই ঘুরে যায় অভিনেতার ভাগ্যের চাকা। তারপর থেকে অভিনেতাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।
তবে অভিনেতাকে ইন্ডাস্ট্রিতে সকলে খলনায়ক হিসেবে জানলেও কিছু কিছু ছবিতে রোমান্টিক এবং কমেডিয়ান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ভিলেন চরিত্রে সুমিত বাবুর সুখ্যাতি ছিল বহুদূর পর্যন্ত। তবে পর্দায় আমরা তাকে যতটা ভয়ংকর, নৃশংস দেখি বাস্তব জীবনে কিন্তু অভিনেতা একেবারে অন্যরকম মানুষ। তিনি ভীষণই মজার, হাসিখুশি মানুষ। একটু রাগী বটে তবে খুবই এক্কেবারে মাটির মানুষ তিনি।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে ভালোবাসার কথা স্বীকার করল স্রোত! সার্থককে জড়িয়ে ধরে মনের কথা বলল সে!
এরপর ১৯৯২ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন শেলী গাঙ্গুলিকে। গ্রুপ থিয়েটারে করতে করতেই দুজনের পরিচয়, প্রেম এবং বিয়ে। যদিও নিজের ভালোবাসাকে পাওয়ার জন্য অনেক বাধা বিপত্তি পের হতে হয়েছে অভিনেতাকে। সেই সময় যেহেতু অভিনেতা সম্পূর্ণভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াননি সব ইন্ডাস্ট্রিতে স্ট্রাগেল করছেন তাই বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য তারা অনুমতি পাননি। অবশেষে ভালোবাসার মানুষ শেলির হাত ধরেই পালিয়ে যান। গিয়ে ওঠেন এক বন্ধুর বাড়িতে। এরপরে আইনিভাবে বিয়ে সারেন দুজনে। পরে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন, এরপর পেরিয়ে গেছে ৩০ টা বছর তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে তার নাম সৃষ্টি গাঙ্গুলী।

