সেদিনের সেই অত্যাচারিত অনাথ শিশু হয়ে উঠেছিলেন বাংলার গর্ব! তবুও শেষ বয়সে জুটেছে অপমান লাঞ্ছনা! কেমন ছিল সুখেন দাসের শেষ জীবন

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে (Tollywood Industry) জনপ্রিয় অভিনেতা (Actor) পরিচালকদের (Director) মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সুখেন দাস (Sukhen Das)। ছোটবেলা থেকে অনেক সংগ্রাম করে নিজেকে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন অভিনেতা পরিচালক। কিন্তু টলিউড তাকে যোগ্য মর্যাদা না দিলেও দর্শকের মনে আজীবন থেকে যাবেন সুখেন দাস। শৈশবে বাবা মা চলে যাওয়ার পর কাটিয়েছেন একটি অনাথ আশ্রমে। রামকৃষ্ণ সোসাইটি-অনাথ ভান্ডারে জীবনের একটা সময় কাটিয়েছিল। আর্থিক সমস্যায় পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি।পরে সেই অনাথ আশ্রমে অত্যাচারিত হওয়ার পর সেখান থেকে পালিয়ে যান।

তারপর একজন ডাক্তারের চেম্বারে আশ্রয় নেন। এই সময়ে তিনি ফিল্ম স্টুডিওগুলির কাছাকাছি ঘুরে বেড়াতেন। একদিন সেরকমই পরিচালক দেবনারায়ণ গুপ্তের নজরে পড়েন। তিনি তাঁকে দাসীপুত্র নামের ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ করে দেন। তারপর থেকে ওই স্টুডিও পাড়াতেই আশ্রয় খুঁজে নেন। এরপর অনেক পরিশ্রম করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। উত্তম কুমারের নজরে আসেন।

Unknown story of sukhen das

সুখেন দাস পরিচালিত একাধিক জনপ্রিয় ছবির মধ্যে অন্যতম হলো মান অপমান, দান প্রতিদান, ন্যায় দন্ড, দেনা পাওনা, মিলন তিথি, জীবন মরণ, প্রতিশোধ, ন্যায়-অন্যায়, বাবা তারকনাথ, বেহুলা লক্ষিন্দর, রামের সুমতি ইত্যাদি আরও অনেক। এছাড়া বিভিন্ন ছবিতে বেশিরভাগ সময়ে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। তার অভিনীত বেশ কিছু ছবি হলো অর্জুন আমার নাম, ফুল আর পাথর, বস্তির মেয়ে রাধা, দান প্রতিদান, তপস্যা, মণিকাঞ্চন, ন্যায়দণ্ড, দেনা পাওনা, মহাপীঠ তারাপীঠ ইত্যাদি।

সুখেন দাসের দুটি বিয়ে। তার ছেলে রজত দাস একজন অভিনেতা ও পরিচালক ছিলেন। তার ভাই অজয় দাস একজন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক। যেটা প্রাথমিক জীবনে অনেক কষ্টের পরে তিনি টলিউডের মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছিলেন। কিন্তু একাধিক হিট ছবি উপহার দেওয়ার পরেও টলিউডে তাকে ঠিকমতো কদর করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ আদির বুকেই ধরা দিল আনন্দী! টানটান উত্তেজনাময় আজকের পর্ব

সেই সময় সুখেন দাসের ছবি শুনে অনেকেই মুখ ঘুরিয়ে নিতেন কিন্তু মহিলা মহলে সুখেন দাস ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন দর্শকের মাঝে। উত্তম কুমারের সাথে বিভিন্ন ছবিতে কাজ করে অভিনেতার খুব প্রিয় কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন সুখেন বাবু। তারপর ২০০৪ সালের ৪ই এপ্রিল কলকাতার একটি নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা পরিচালক সুখেন দাস।

Back to top button