ফের অতীতের সাক্ষী ব্রজধাম! নিজের অধিকার দাবিতে বাবা-মাকে নিয়ে হাজির পুলস্ত্য! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, নিজের বাবার কাছ থেকে সে জানতে পারে এক গোপন পারিবারিক ইতিহাস। এতদিন সে যে বাড়িটিকে নবদ্বীপের সাধারণ আদি বাড়ি বলে জেনে এসেছে, সেটি আসলে কোনো সাধারণ ভিটে নয় সেটিই তাদের বাড়ি।
পুলস্ত্য চলে যাওয়ার পর বাড়ির সবাই যখন একসাথে রাতের খাবারে বসে, তখন গোরার মা সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে দিতি সেখানে এসে হাজির হয় এবং গোরার মাকে বিশ্রাম নেওয়ার অনুরোধ জানায়। দিতি চায় আজ সে নিজে হাতে সবাইকে পরিবেশন করবে। গোরার মায়ের হাত থেকে খাবারের বাসন একপ্রকার কেড়ে নিয়েই তাকে জোর করে খেতে বসিয়ে দেয় সে। দিতির এই অতি-উৎসাহ দেখে উপস্থিত বাকিরা ভয়ে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে, কারণ তারা জানত গোরার মায়ের মেজাজ কেমন।

দিতি ভালোবেসে গোরার মাকে পরিবেশন করতে চাইলেও, তিনি বিষয়টিকে একেবারেই সহজভাবে নিতে পারেননি। দিতি যখন নিজের হাতে তাকে খাবার বেড়ে দেয়, তখন তিনি চরম ক্ষোভে খাবারের থালাটি ছুঁড়ে ফেলে দেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি দিতির হাতের খাবার খাবেন না। গোরার মায়ের এই রুক্ষ ব্যবহারে দিতি মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পায়। আসলে বাড়ির পুরোনো তিক্ততা বা গোরার মায়ের স্বভাব সম্পর্কে দিতি কিছুই জানত না, যার ফলে পরিস্থিতি এমন ঘোরালো হয়ে ওঠে।
দিতি আঘাত পেলেও দমে না গিয়ে গোরার শান্ত কথায় আশ্বস্ত হয় এবং আবারও গোরার মায়ের সাথে কথা বলতে তার ঘরে যায়। সে চেয়েছিল নিজের ভুল স্বীকার করে সম্পর্কটা সহজ করতে। কিন্তু ফল হয় উল্টো। দিতির প্রতিটি কথাকে গোরার মা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং চিৎকার করে তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। দিতিকে তিনি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না। এই অকারণ অপমান দেখে গোরা ও বিশাখার খুব খারাপ লাগে, কারণ দিতি নিছক ভালোবাসা থেকেই রাগ ভাঙাতে গিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ পরকীয়ার হাবুডুবু খাচ্ছে রায়ান! মাথায় ঠান্ডা জল ঢেলে সব শ’য়তানি ঘুচিয়ে দিল পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
বাড়ির এই অশান্ত পরিবেশের পূর্ণ সুযোগ নেয় কুন্তলী। সে গোরার মায়ের কানে বিষ ঢালতে শুরু করে এবং অত্যন্ত চতুরতার সাথে তাকে বোঝাতে থাকে যে, এই মেয়েটি আসলে তাদের রূপ নয় বরং অদ্বিতীয়া। সে দাবি করে, তাদের দিদি কোনোদিনই এমন আচরণের ছিল না। কুন্তলীর এই সুকৌশলী ব্রেনওয়াশ-এ গোরার মা প্রভাবিত হয়ে পড়েন এবং দিতির প্রতি তার বিদ্বেষ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, পুলস্ত্য তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ব্রজধামের সেই পুরনো ও রহস্যময় ঘটনাগুলো জানতে পারে। তাদের পরিবারকে কীভাবে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ব্রজধামের সাথে তাদের আসল সম্পর্ক কী, তা এখন তার কাছে পরিষ্কার। এরপরই পুলস্ত্য তার বাবা-মাকে সাথে নিয়ে ব্রজধামে উপস্থিত হয়। তাকে হঠাৎ সেখানে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেলেও, যখন সে তার বাবা-মাকে সবার সামনে নিয়ে দাঁড় করায়, তখন উপস্থিত প্রত্যেকেই চরম বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। এবারে দেখার অপেক্ষায় কি হয় আগামী পর্বে।

