শিরিনের জামিন করাতে কারাগারে পারুল-রায়ান! পারুলের সাহায্য নিতে অস্বীকার করলো শিরিন! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আদালতের কক্ষে অদ্রিজা নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানায় যে কেবল টাকার লোভেই সে এই অপকর্ম করেছিল। তার এই স্বীকারোক্তির পরপরই পুরো চক্রান্তের নেপথ্যে থাকা শিরিনের নাম প্রকাশ পেয়ে যায়। ফলে আদালত সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে শিরিনকে গ্রেফতারের নির্দেশ জারি করে। দীর্ঘদিনের অন্যায়, মানসিক অত্যাচার এবং অপমানের পর ন্যায়বিচার পেয়ে রায়ান আবেগ ধরে রাখতে পারে না; ভরা আদালতেই সে পারুলকে জড়িয়ে ধরে।
পুলিশ গ্রেফতার করতে আসছে জানতে পেরে প্রাণভয়ে শিরিন সংযুক্তা ও শিঞ্জিনীর কাছে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু চরম বিপদের মুখে নিজেদের বাঁচাতে তারা সাফ জানিয়ে দেয় যে সবাই একসঙ্গে ধরা পড়লে কারও রক্ষা হবে না, তাই তারা শিরিনকে একা ফেলে আত্মগোপন করে। ঠিক তখনই রায়ান ও পারুল দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। অতীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত অন্যায় ও রাগের সংবরণ করতে না পেরে পারুল সপাটে একটি থাপ্পড় মারে শিরিনকে এবং রায়ানের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে।
পারুলের কথার উত্তরে রায়ান অত্যন্ত জোরালো ভাষায় শিরিনকে জানিয়ে দেয়, “তুই আমাকে ছুঁবি, এটা ভাবতেই আমার ঘেন্না লাগছে।” এই একটিমাত্র বাক্যেই যেন বিগত দিনের সমস্ত অপমান ও যন্ত্রণার উপযুক্ত জবাব মিলে যায়। এরপর পুলিশ এসে শিরিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, যদিও সংযুক্তা ও শিঞ্জিনী সাময়িকভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকের ঘটনাপ্রবাহে, রায়ানের বাড়ি ফেরার আনন্দে বসু পরিবারে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। থিয়েটারের সাফল্য উদযাপন, পারুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আবেগময় মুহূর্ত সবই দেখা যায়, তবে যে কথাটির জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, সেই ভালোবাসার প্রকাশ আর ঘটে না। রায়ানের সঙ্গে পারুলের এত গভীর সম্পর্ক এবং সে রায়ানের সন্তানের মা হতে চলেছে জেনেও রায়ানের মনের কথা না বলতে পারার পেছনে রয়েছে এক গভীর রহস্য। পারুল রায়ানের সেই গোপন সত্যটি জেনে গেলেও দর্শকদের কাছে তা এখনও অগোচরেই রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ষড়যন্ত্রের শিকার শ্রীনিবাস! ঘটে গেলো ভয়ংকর দুর্ঘটনা! চাকরি হারিয়ে তীব্র সংকটে পুরো পরিবার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
আগামী পর্বের আগাম ঝলকে দেখা যাবে, পারুল, রায়ান, সৌমিত্র ও গায়ত্রী মিলে শিরিনের জামিন করাতে কারাগারে যায়। শিরিন প্রথমে ভেবেছিল তার মা তাকে নিতে এসেছে, কিন্তু সামনে পারুলকে দেখে সে চরম অবাক হয়। পারুল তাকে নিজের ভুল শুধরে নতুন জীবন শুরু করার পরামর্শ দেয় এবং জানায় যে রায়ানের সম্মতিতেই এই জামিনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত কিছুর পরেও শিরিনের অহংকার ও জেদ কমে না; সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাদের এই দয়া সে চায় না এবং নিজেকে এখন সবথেকে বড় লুজার বলে মনে হচ্ছে তার।

