শেষ মুহূর্তে বন্ধুদের চরম বি’শ্বাসঘাতকতা! একাই পেলো পাপের শাস্তি! পুলিশের হাতে ধরা পড়ল শিরিন! জিতে গেল পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, নদীর ধারে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা কেয়ারটেকারকে হঠাৎই দেখে ফেলে মল্লার। পারুল বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার অন্তরাত্মা বলছিল, রায়ানকে নির্দোষ প্রমাণ করার আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে এই লোকটির কাছেই। অন্যদিকে, পারুল আর রুকু মিলে সুবলের জলে ভেজা ফোনটি ঠিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে, কারণ সেই ফোনেই রয়েছে সত্যের একমাত্র প্রমাণ।

শিঞ্জিনী ফোনটির খোঁজ জানতে চাইলে শিরিন অত্যন্ত নিশ্চিন্ত গলায় তাকে আশ্বস্ত করে বলে যে, জলে ভেজা ফোন থেকে কোনোভাবেই ভিডিও বের করা সম্ভব নয়। কিন্তু শিরিন ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি পারুল কতটা নাছোড়বান্দা। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে পারুল যখন রায়ানের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলে “তোকে যে ফাঁসানো হয়েছে, তার প্রমাণ আমি পেয়ে গেছি। কাল সকালটা আমাদের নতুন সকাল হবে”, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে গল্পের মোড় ঘুরে রায়ানের মুক্তি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

শিরিন যে মোবাইলটি জলে ফেলে দিয়েছিল, পারুল তা উদ্ধার করে ঠিক করায় এবং শেষ পর্যন্ত আদালতেই সেই ভিডিওটি চালিয়ে দেয়। ভিডিওটি দেখামাত্রই সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, অদ্রিজা ইচ্ছে করেই রায়ানকে ফাঁসানোর চক্রান্ত করেছিল। জোরালো প্রমাণ সামনে আসায় আদালত রায়ানকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দেয়। এরপর অদ্রিজা নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানায় যে টাকার লোভেই সে এই কাজ করেছিল এবং তার মুখ থেকেই শিরিনের চক্রান্তের কথা প্রকাশ পেয়ে যায়। ফলে আদালত অবিলম্বে শিরিনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। এতদিনের মানসিক অত্যাচার আর অপমানের পর রায়ান ভরা আদালতেই পারুলকে জড়িয়ে ধরে।

পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে আসছে জানতে পেরে শিরিন প্রাণভয়ে সংযুক্তা আর শিঞ্জিনীর কাছে ছুটে যায়। কিন্তু তারা নিজেদের বাঁচাতে সাফ জানিয়ে দেয় যে সবাই একসাথে ধরা পড়লে কারও রক্ষা হবে না তাই তারা শিরিনকে একা ফেলে লুকিয়ে পড়ে। এরপর রায়ান ও পারুল দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। সামনে শিরিনকে দেখেই পারুল নিজের রাগ সংবরণ করতে না পেরে তাকে সপাটে একটি থাপ্পড় মারে এবং রায়ানের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বলে।

আরও পড়ুনঃ পল্লবীর চোখের জলের বদলা! অফিসেই র’ক্তারক্তি! পল্লবীর আত্মসম্মান বাঁচাতে বসের উপর আদিত্যের তাণ্ডব!

পারুলের কথার জবাবে রায়ান অত্যন্ত জোরালো ভাষায় শিরিনকে বলে, “তুই আমাকে ছুঁবি, এটা ভাবতেই আমার ঘেন্না লাগছে।” এই একটি মাত্র বাক্যেই যেন বিগত দিনের সমস্ত অপমান ও যন্ত্রণার উপযুক্ত জবাব মিলে যায়। অবশেষে পুলিশ এসে শিরিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তবে সংযুক্তা ও শিঞ্জিনী পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ায় স্পষ্ট যে গল্প এখানেই শেষ হচ্ছে না, বরং আগামী দিনে পারুল ও রায়ানের জন্য আরও বড় কোনো লড়াই অপেক্ষা করছে।

Back to top button