শিরিনের বো’মার জালে পারুল! অনিরুদ্ধকে উদ্ধার করতে গিয়ে রায়ানকেও বিপদে ফেলল সে! কিভাবে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে তারা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক পরিণীতাতে (Parineeta) দেখানো হয়েছে, পারুলের থেকে অপমানিত ও বিতাড়িত হয়ে শিরিন অপমানের জ্বালায় দগ্ধ হতে থাকে। কোনোভাবেই এই পরাজয় সে মেনে নিতে পারে না। তাই বসু পরিবারে যেন কোনো শুভ কাজের সানাই না বাজে, সেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে সে লোক লাগিয়ে পারুলদের ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি শুরু করে। শিরিনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় পারুলের সুখের পথে কাঁটা ছড়ানো। অন্যদিকে, বসু বাড়িতে তখন উৎসবের আমেজ। পিসিমণির আশীর্বাদের আয়োজন চলছে জোরকদমে। পারুল ও বাড়ির বাকি সদস্যরা আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছেন। কিন্তু এই খুশির আবহেই বিষাদের সুর বেজে ওঠে যখন বাড়ির গুরুদেব সতর্ক করেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আশীর্বাদ সম্পন্ন না হলে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে।
আশীর্বাদের সময় ঘনিয়ে আসলেও অনিরুদ্ধর দেখা না পেয়ে পারুল উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে ফোন করে। অনিরুদ্ধ জানান তিনি তৈরি, এখনই বেরোবেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তার দরজায় কলিং বেল বেজে ওঠে। অনিরুদ্ধ ভাবেন হয়তো পারুলই কাউকে পাঠিয়েছে, কিন্তু গেট খুলতেই তিনি দেখেন রায়ান ও তার বন্ধুদের। কিছু বোঝার আগেই রায়ান মিষ্টি কথার ছলে অনিরুদ্ধর মুখে অজ্ঞান করার স্প্রে ছিটিয়ে দেয় এবং তাকে অপহরণ করে একটি বয়েজ হোস্টেলে আটকে রাখে। এদিকে বসু বাড়িতে সময় বয়ে যায়, অনিরুদ্ধর অনুপস্থিতিতে গুরুদেবের আশঙ্কাবাণী সকলকে ভীত করে তোলে।

পারুলের সন্দেহ গিয়ে পড়ে রায়ানের ওপর। সে তৎক্ষণাৎ মল্লারকে অনিরুদ্ধর বাড়িতে পাঠায়, কিন্তু সেখানে গিয়ে মল্লার দেখে বাড়ি ফাঁকা এবং সদর দরজা খোলা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পারুল নিজেই অনিরুদ্ধর খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। পুলিশের সাহায্য নিয়ে সে জানতে পারে অনিরুদ্ধকে ওই নির্দিষ্ট বয়েজ হোস্টেলে আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে শিরিনের নিযুক্ত চর সব খবর শিরিনকে পৌঁছে দেয়।
পারুলকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য শিরিন হোস্টেলের পেছনের গেটে অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা ফিট করে আসে। পারুল সেখানে পৌঁছে গেট খোলার উপক্রম করতেই তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিতে ধরা পড়ে যে, গেটটি নাড়া দিলেই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে অথবা রায়ান সতর্ক হয়ে অনিরুদ্ধকে সরিয়ে নিতে পারে। তাই সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচিল টপকানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘কেউ কাজের বাইরে খোঁজ নেয় না…প্রয়োজন মেটালে ভালো, আর না হলেই খারাপ!’ ফুরিয়েছে ভালোবাসা! নেই সেই সম্পর্কের টান! অকপটে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য!
হোস্টেলের ভেতরে রায়ান যখন অনিরুদ্ধকে নিজের ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে শাসন করছে, ঠিক তখনই পারুল সেখানে পৌঁছায়। পারুল গেটে বোমা আটকানো দেখে থমকে যায়। শব্দ শুনে রায়ান ও তার সঙ্গীরা বাইরে বেরিয়ে আসে। রায়ান পারুলকে সেখানে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং তাকে বারবার সাবধান করে ওখান থেকে সরে যেতে বলে। কিন্তু পারুল অনিরুদ্ধকে না নিয়ে সরতে নারাজ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে রায়ান শেষ পর্যন্ত এক আবেগঘন সিদ্ধান্ত নেয়। সে বলে যে, বাঁচলে তারা একসাথেই বাঁচবে আর মরলে একসাথেই মরবে, তবুও সে পারুলকে এই বিপদের মুখে ফেলে যাবে না। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয় আগামী পর্বে।

