জেলখানায় বসেই সংযুক্তার মাস্টার প্ল্যান! রায়ানকে মৃ’ত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করতে এবার নতুন ফন্দি আঁটলো পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সীমান্তের এক পরিত্যক্ত দুর্গের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ কেঁপে উঠল চারপাশ। এক বিকট বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। বারুদের কটু গন্ধে যখন বাতাস ভারী, তখনই উদ্ধার অভিযানে এক নাটকীয় মোড় আসে। বন্দি দশা থেকে মুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা রায়ানের চোখেমুখে যখন আতঙ্কের ছাপ, ঠিক তখনই ধোঁয়ার আড়াল থেকে রণংদেহী মূর্তিতে আবির্ভূত হন পারুল। হাতে রক্তমাখা অস্ত্র আর চোখে যুদ্ধের ক্লান্তি থাকলেও পারুলের লক্ষ্য ছিল স্থির। প্রহরীদের কঠোর বাধা ছিন্নভিন্ন করে তিনি যখন রায়ানের সামনে দাঁড়ান, তখন পরিস্থিতি এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল।

Zee Bangla Parineeta episode 22 March

এই পুরো ধ্বংসলীলার নেপথ্যে ছিল জেলে বন্দি সংযুক্তার এক গভীর ষড়যন্ত্র। সংযুক্তা তার নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জঙ্গিদের কাছে আগেভাগেই খবর পৌঁছে দিয়েছিল যে, ভারতীয় উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাবে। তার পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট এখান থেকে যেন কেউ জীবিত ফিরতে না পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই জঙ্গিরা দুর্গের চারপাশ ঘিরে ওত পেতে ছিল। পারুল যখন রায়ানসহ বাকি বন্দিদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জঙ্গিরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বন্দি উদ্ধারের এই অভিযান মুহূর্তেই এক রক্তাক্ত যুদ্ধে রূপ নেয়। দুপক্ষের মধ্যে চলে সমানে সমানে গুলি বিনিময়। পারুল ও রায়ান নিজেদের এবং বাকিদের রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন জঙ্গিদের ছোঁড়া একটি গুলি সরাসরি ঋত্বিকের গায়ে লাগে। রুকমিনিকে বাঁচাতে গিয়েই এই ভয়াবহ পরিণতির শিকার হন ঋত্বিক। রক্তাক্ত অবস্থায় ঋত্বিককে লুটিয়ে পড়তে দেখে রুকমিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ ‘৬ টা বছর লেগে গেল এটা বলতে…’ ‘এই দিনেই আমি নিজের সবথেকে কাছের মানুষটাকে…’ সব্যসাচী-সুস্মিতা বিতর্কের মাঝেই উঠে এল নিকিতা দাসের ‘অন্ধকার’ অতীত! দুই চোখে জল নিয়ে স্বীকারোক্তি অভিনেত্রীর!

চরম বিশৃঙ্খলা আর চারদিকে মৃত্যুর হাতছানির মাঝেও দমে যাননি পারুল। একদিকে আহত ঋত্বিক, অন্যদিকে জঙ্গিদের ক্রমাগত আক্রমণ সব মিলিয়ে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল দেয়ালে। এই সংকটময় মুহূর্তেই পারুল রায়ানকে কথা দেন যে, তিনি নিজে ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন এবং রায়ানসহ সবাইকে এই মৃত্যুপুরী থেকে অক্ষত অবস্থায় বের করে নিয়ে যাবেন। পারুলের এই অদম্য সাহসই এখন উদ্ধারকারী দলের একমাত্র আশার আলো।

ঋত্বিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং জঙ্গিদের সাথে এখনো বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ চলছে। পারুল কি পারবে তার দেওয়া কথা রাখতে? নাকি সংযুক্তার ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়ে শেষ হয়ে যাবে এই উদ্ধার অভিযান?

Back to top button