রায়ানের চোখে পারুলই ‘মা দুর্গা’! স্ত্রীর জন্য রায়ানের বিশেষ উপহার! এত কিছুর পরেও আফসোস পারুলের মনে!দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, নিজের অপরাধ লুকাতে গিয়ে পাঁচ অপরাধী একে অপরকে দোষারোপ করা শুরু করতেই আসল ঘটনা সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়। পারুলের কৌশলী প্রশ্নে রাহুল এমনভাবে চাপে পড়ে যায় যে মুখ খুললেই তার নিজের কেচ্ছা ফাঁস হওয়ার ভয় তৈরি হয়। প্রিয়ঙ্কদাকেও রেহাই দেওয়া হয় না; একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের বিষোদ্গার পুরো ঘটনাটিকে এক চরম নাটకీయ ও মজার মোড়ে নিয়ে দাঁড় করায়।
পারুলের তৈরি ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে রায়ান তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় এবং তাকে ‘গ্রেট’ আখ্যা দেয়। কিন্তু পারুল সেখানেই থেমে না থেকে তার আসল খেলার ঘোষণা করে জানায়—‘ওদের হাতে মারা তো শেষ, এবার ভাতে মারার পালা!’ পুজো উপলক্ষে মোনালিরা হীরে কেনাবেচার জন্য দোকানে প্রচুর স্টক তুলছিল, কিন্তু রায়ান ও পারুল সেই দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে।
অবশেষে পারুলকে এতদিন ধরে হেনস্তা করে আসা মানুষগুলোর আসল চেহারা সবার সামনে আসতে শুরু করে। নিজেদের মধ্যে গোলমালে জড়িয়ে তারা ভুলবশত নিজেদের অপরাধের ভিডিও নিজেই প্রকাশ করে ফেলে। এর ফল হয় মারাত্মক ঘটনার জেরে রাহুলকে তার স্ত্রীর হাতে জুতোর বাড়ি খেতে হয় এবং একাধিক সম্পর্ক ভেঙে ছারখার হয়ে যায়। এতদিন যারা নিজেদের নিরাপদ ভাবছিল, তারা অবশেষে নিজেদের কুকর্মের ফল ভোগ করতে বাধ্য হয়।
ঘটনার সব কৃতিত্ব রায়ান পারুলকেই দেয়, যার ফলে পরিবারের সবার কাছে পারুলের অবদান স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর বাড়িতে দাদু যখন অপরাধীদের শাস্তির কথা জানতে চায়, ঠিক তখনই টিভির পর্দায় এবং সংবাদমাধ্যমে পারুলকে হেনস্তা করার সেই পুরোনো ভিডিওটি ভেসে ওঠে। নাতনির সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রমাণ দেখে দাদু চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, যারা পারুলের সঙ্গে এমন মানসিক অত্যাচার করেছে তাদের মানসিকতা কতটা নিচু! একই সঙ্গে রায়ানের কষ্টের কথাও সবার সামনে আসে।
আরও পড়ুনঃ অ্যা’ক্সিডেন্ট স্পটে ফেলে আসা ঘড়িই কি ডেকে আনবে সম্রাটের পতন? প্রমাণ লোপাটে সম্রাটের মাস্টারপ্ল্যান! অপরাধবোধে জর্জরিত শ্রীনিবাসের হাত ধরল কমলা!
সব ঝড়ের শেষে আগামী পর্বে পারুলের জন্য একটি বিশেষ চমক নিয়ে আসে রায়ান। প্যাকেটটি খুলতেই পারুল দেখতে পায় এক অপূর্ব ছবি মা দুর্গার রূপে পারুল এবং তার কোলে ছোট্ট সোনা। রায়ান আবেগপ্লুত হয়ে জানায়, পারুলের মধ্যেই সে মা দুর্গাকে খুঁজে পায়, তাই এই বিশেষ উপহার। উপহারটি হাতে পেয়ে মুগ্ধ পারুলও অনুরাগে রায়ানকে তার ‘শিব ঠাকুর’ বলে আখ্যা দেয় এবং স্বীকার করে যে, হাজার ঝগড়া সত্ত্বেও রায়ানকে ছাড়া তার জীবন একেবারেই অসম্পূর্ণ।

