উধাও আয়াপ্পানের গুপ্তধন! ফাঁকা বাক্স দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল পারুলের! সৌমিত্র কাকুর আশঙ্কাই কি তবে সত্যি? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল সবার সামনে একটি রহস্যময় ম্যাপ উন্মোচন করে জানায় যে, এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে আয়াপ্পানের গুপ্তধনের হদিস। তবে এই পথ মোটেও মসৃণ নয়। ম্যাপের খবর বিদ্যুৎবেগে পৌঁছে যায় চরম শত্রু সংযুক্তার কানেও, যে তৎক্ষণাৎ নিজের বিশ্বস্ত অনুচরদের কালি মন্দিরের দিকে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে, একই গুপ্তধনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে শিঞ্জিনী আর শিরিনও। পারুল ও গায়ত্রী যদি শেষ পর্যন্ত সফলও হয়, তবুও তাদের হাত থেকে সম্পদ ছিনিয়ে নিতে ওত পেতে রয়েছে প্রতিপক্ষরা। রায়ান সবাইকে উৎসাহ দিয়ে মনে করিয়ে দেয় যে, এটি শুধু গুপ্তধনের খোঁজ নয়, বরং বুদ্ধি, পরিকল্পনা আর সময়ের বিরুদ্ধে এক মহা লড়াই।
সমস্ত বাধা-বিপত্তি ও কঠিন পরিস্থিতিকে নিজের অসীম ধৈর্য আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে মোকাবিলা করে পারুল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সে যখন মূল্যবান গুপ্তধনের হদিস পায়, তখন মনে হচ্ছিল সব কষ্ট বুঝি সার্থক হলো। কিন্তু গল্পের মোড় ঘুরে যায় ঠিক শেষ মুহূর্তে। ক্ষমতার লোভ আর নিষ্ঠুরতার প্রতীক সংযুক্তা নিজের প্রভাব খাটিয়ে একজন খোদ পুলিশ অফিসারকেই নিজের দলে টেনে নেয়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সবার চোখের সামনে থেকে আসল হীরেগুলো নিয়ে সে চম্পট দেয়।
হীরেগুলো হারিয়ে যাওয়ার পর চারদিকে এক গভীর রহস্যের জাল তৈরি হয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে হীরেগুলো সংযুক্তার হাতেই গেছে, কিন্তু সত্যিটা কি এতটাই সহজ? নাকি এই চুরির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো অদৃশ্য হাত? হয়তো মন্দিরের সাথে জড়িত কোনো চেনা মানুষই পুরো চালটি চেলে ঘটনাকে সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আসল অপরাধী কে, তা নিয়ে সংশয় ও রোমাঞ্চ আরও ঘনীভূত হতে থাকে।
আরও পড়ুন: গোপন চক্রান্ত ফাঁ’স! পল্লবী-আদিত্যর রহস্যময় আচরণে ঝিনুকের মনে তীব্র সন্দেহ! সব কি জেনে যাবে ঝিনুক? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
আগামী পর্বে দেখা যাবে, পারুলরা যখন অনেক আশা নিয়ে গুপ্তধনের বাক্সের কাছে পৌঁছায়, তখন তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। পুরো হীরার বাক্সটিই একদম ফাঁকা! ঠিক সেই চরম হতাশার মুহূর্তে কেউ একজন গোপনে পুলিশের টিমকে সেখানে ডেকে পাঠায়। পুলিশের আসার খবর পেয়েই আতঙ্কে শিউরে ওঠেন সৌমিত্র কাকু। তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন যে, পুলিশে ফোন দেওয়া মানে এখন তাদের সবার জন্যই এক বিরাট বিপদ ঘনিয়ে আসা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং সন্তানদের বাঁচাতে গায়ত্রী ব্যাকুল হয়ে পারুলকে অনুরোধ করে, “পারুল মা, তুই সবাইকে নিয়ে এখান থেকে চলে যা!” কিন্তু পারুল কোনোভাবেই নিজের মাকে বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যেতে রাজি নয়। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যা হওয়ার হবে, কিন্তু মাকে ছেড়ে সে কোথাও যাবে না। ঠিক এই আবেগঘন ও রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তেই সেখানে পুলিশের প্রবেশ ঘটবে, আর এর সাথেই শুরু হবে ভাগ্যের এক নতুন খেলা।

