পল্লবীর এঁটো জিলিপি খেয়ে নিল আদিত্য! দেখা মাত্রই কি ঘটালো পল্লবী? কোন দিকে এগোচ্ছে আদিত্য-পল্লবীর সম্পর্ক?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সম্রাটের পাগলামি দিন দিন যেন সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এবার সে ঝিনুককে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় জানিয়ে দেয় যে, জীবন তাকে চিরকাল কেবল ‘পারফেক্ট’ হতেই শিখিয়েছে। তাই এখন থেকে ঝিনুককেও তার মনের মতো একদম নিখুঁত বা পারফেক্ট হতে হবে। এই কথা বলেই সে ঝিনুকের হাতে একটি অত্যন্ত কঠোর রুটিন বা নিয়মাবলীর শিডিউল ধরিয়ে দেয়, যা তাকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। ভেতরে ভেতরে ভয়ে একদম সিঁটিয়ে গেলেও, কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায় না ঝিনুক। সে কেবল মুখ বুজে ইশারায় সম্রাটের এই অন্যায় শর্তে নিজের সম্মতি জানিয়ে দেয়।
অন্যদিকের গল্পে আবার দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আবেগঘন এক পরিবেশ। কমলা রাজুকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে পুজো দিতে যায়। সেখানে ঠাকুরের সামনে হাত জোড় করে কমলা নিজের মনের দুটি বড় ইচ্ছা বা প্রার্থনা জানায় প্রথমত, পল্লবীর জন্য যেন একজন ভালো জীবনসঙ্গী মেলে এবং দ্বিতীয়ত, রাজুর ভবিষ্যতের যেন একটা ভালো হিল্লে বা ব্যবস্থা হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই মন্দিরে প্রবেশ ঘটে রাজুর জীবনের বিশেষ সেই মানুষের। একটি মিষ্টি মেয়ে এসে পুজো ও ফুলের জন্য ঠাকুরমশাইকে ডাকতে শুরু করে।
মেয়েটির গলার আওয়াজ আর তার মিষ্টি রূপ দেখে রাজু আর নিজের চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে না। প্রথম দেখাতেই সে মেয়েটির দিকে একেবারে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। মন্দিরের সেই পবিত্র আবহে মেয়েটির আচমকা আগমন রাজুর মনে এক অন্যরকম দোলা দিয়ে যায়। দেখে মনে হতেই পারে যে, রাজুর জীবনে হয়তো এটাই প্রথম প্রেমের আগমন! মায়ের প্রার্থনার ঠিক পরপরই এই ঘটনা যেন কোনো এক শুভ ইশারার দিকেই ইঙ্গিত করে।
এদিকে আদিত্য সবার জন্য তার ঠাকুমার নিজের হাতে বানানো জিলিপি নিয়ে আনন্দ করে কমলাদের বাড়িতে হাজির হয়। সবাই মিলে হইচই করে জিলিপি খেয়ে ফেলার পর যখন পল্লবী বাড়ি পৌঁছায়, তখন আর একটা জিলিপিও অবশিষ্ট থাকে না। পল্লবীর মন খারাপ দেখে ঠিক সেই সময় আদিত্য কোনো দ্বিধা না করে নিজের ভাগের শেষ জিলিপিটাই তার দিকে এগিয়ে দেয়। পল্লবীও খুশি মনে সেই জিলিপিতে একটা কামড় দিয়ে প্লেটে রেখে দেয়।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দূর্ঘটনার কবলে সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়! শুটিং করতে গিয়ে ভাঙল হাত! সরে গিয়েছে আঙ্গুলের হার! এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?
কিন্তু গল্পের আসল এবং সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটি আসে ঠিক এরপর। পল্লবী জিলিপিতে এক কামড় দিয়ে প্লেটে রেখে দেওয়ার পর, আদিত্য কোনো রকম সংকোচ ছাড়াই সেই একই জিলিপি তুলে খেয়ে নেয়। আর এই পুরো ঘটনাটি পল্লবী আড়াল থেকে নিজের চোখেই দেখে ফেলে। দেখতে সাধারণ একটা দৃশ্য হলেও, এই ধরনের ছোট ছোট মুহূর্তই অনেক সময় চরিত্রগুলোর মনের ভেতরের অপ্রকাশিত ভালোবাসা বা অনুভূতি প্রকাশ করে দেয়। কোনো বড় সংলাপ বা নাটকীয় দৃশ্য ছাড়াই এই ছোট্ট আচরণটি অনেক কথা বলে দিল। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনাটি কি শুধু একটি মিষ্টি স্মৃতি হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি এখান থেকেই তাদের সম্পর্ক নতুন কোনো ভালোবাসার মোড় নেবে।

