চাকরি হারালো শ্রীনিবাস! একদিকে শ্রীনিবাসের ওপর অবিচার, অন্যদিকে আদিত্য-পল্লবীর মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি! জমজমাট কমলা নিবাসের আজকের পর্ব!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ঝিনুকের ওপর সম্রাটের সন্দেহের সীমা যেন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েও সে শান্ত হতে পারেনি এবার তার সঙ্গে যুক্ত করেছে মাইক্রোফোন। এর উদ্দেশ্য একটাই ঝিনুকের মুখের প্রতিটি কথা যেন সরাসরি সম্রাটের কানে পৌঁছায়। ঝিনুক কাকে ফোন করছে, কার সাথে কী কথা বলছে, এমনকি সম্রাটের অনুপস্থিতিতে সে ঘরে কী করছে না করছে, সবকিছুই এখন সম্রাটের কড়া নজরদারিতে বন্দি। ঝিনুকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না।
এদিকে আদিত্য মন্দির থেকে পুজো দিয়ে প্রসাদ নিয়ে সোজা হাজির হয় কমলাদের বাড়িতে। সে কমলাকে জানায়, পল্লবীর ভালো চাকরি পাওয়ার আনন্দেই সে এই পুজো দিয়েছে। প্রসাদ দেওয়ার পাশাপাশি সে পরম যত্নে পুজোর ফুলটি পল্লবীর মাথায় ছুঁইয়ে দেয়। কথার মাঝে কমলা যখন আক্ষেপ করে বলে যে গাড়ি না থাকায় পল্লবী অফিসে যাওয়ার পথে ঝিনুককে খাবার দিয়ে যেতে পারছে না, আদিত্য এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজেই পল্লবীকে অফিসে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। আদিত্যের এই স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় যে, সে পল্লবীর পাশে থাকার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে চায় না, যা তাদের সম্পর্কের এক নতুন ও ইতিবাচক মোড়ের ইঙ্গিত দেয়।
অফিসে যাওয়ার পথে ঘটে যায় এক মজার কাণ্ড। পল্লবী পেছনের সিটে বসে থাকায় এবং আদিত্য গাড়ি চালানোয়, কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ পল্লবীকে গাড়ির মালিক আর আদিত্যকে ড্রাইভার ভেবে বসেন। এই ভুল ভাঙাতে পল্লবী যখন পেছনের সিট ছেড়ে সামনের সিটে এসে বসে, তখন আদিত্যের আনন্দ আর ধরে না! সে গাড়ি থেকে নেমে সোজা গিয়ে ওই ট্রাফিক পুলিশকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানাতে শুরু করে। পুরো ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক, মিষ্টি ও মজার ছিল যে পল্লবীও নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেনি।
এই যাত্রাপথের আরেকটি দৃশ্য দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়, যেখানে আদিত্য পল্লবীর মঙ্গলের জন্য মানত করে। সে সময় আদিত্য এমন একটি কথা বলে যা সত্যিই ভাববার মতো শুভকামনা বা প্রার্থনার কোনো আলাদা বাঁধাধরা নিয়ম হয় না। সমাজ সাধারণত মেয়েদেরই প্রিয় মানুষের জন্য মানত করতে অভ্যস্ত, কিন্তু ছেলেরা কেন পারবে না? আদিত্যের এই প্রগতিশীল ও সংবেদনশীল ভাবনা প্রমাণ করে যে, সে মন থেকে পল্লবীকে কতটা ভালোবাসে এবং তার শুভকামনা কামনা করে।
আরও পড়ুনঃ ‘অ’সভ্য শ্রীলেখা মিত্রকে দূর করুন…’ ‘আমাকে সরাতে গিয়ে আজ তো দলটাই মুছে গেল…’ ‘আমার বাড়ি কোনো মদের আসর নয়, ওটা আমার স্বর্গ!’ ভিতর থেকে খোকলা টলিউডের অন্দরমহল! মুখ খুললেন শ্রীলেখা মিত্র!
গল্পের অন্য প্রান্তে রহস্য আর টানাপোড়েন আরও ঘনীভূত হয়। অফিসে গিয়ে শ্রীনিবাস আকস্মিক এক ধাক্কা খায়; সে জানতে পারে আগামী মাসেই তার চুক্তি শেষ করে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে চাকরির আরও পাঁচ মাস বাকি ছিল। কারণ জিজ্ঞেস করলে তাকে কেবল জানানো হয় যে এটি ওপরের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, অফিস ছুটির পর পল্লবীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তার অফিসের স্যার। পল্লবী দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা অবস্থাতেই সেখানে গাড়ি নিয়ে হাজির হয় আদিত্য। আদিত্যকে দেখে পল্লবীর স্যারের মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। এখন দেখার বিষয়, এই সম্পর্কের রসায়ন এবং অফিসের এই জটিলতা আগামীতে কোন দিকে মোড় নেয়।

