গ্রেপ্তার হলো সায়ন্তন! শয়তানের চোখে নতুন কোনো চ’ক্রান্তের আভাস? এবারও কি পুলিশের হাত গলে পালাবে সে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় এবং চর্চিত ধারাবাহিক হলো ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta)। টিআরপি তালিকার প্রথম সারিতে থাকা এই মেগা সিরিয়ালটি শুরু থেকেই তার টানটান উত্তেজনাপূর্ণ গল্প এবং একের পর এক চমকপ্রদ মোড় দিয়ে দর্শকদের ড্রয়িংরুমে পাকা জায়গা করে নিয়েছে। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গল্পের শুরুতেই দেখা যায় একটি বড়সড় রহস্য। ডাক্তার উজিকে হঠাৎ ফোন করে জানানো হয় যে, তাদের হাসপাতালে যে নার্স কাজ করতেন, তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তিনি আচমকাই উধাও হয়ে গেছেন। অন্যদিকে, নিশা চরম উত্তেজিত হয়ে ভানুকে ফোন করে ধমকাতে থাকে। নিশা সাফ জানিয়ে দেয় যে, পুলিশ যখন তার পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন ভানু সেখানে বসে মনের সুখে টাকা ওড়াচ্ছে!
ঘটনাক্রমে নিশা যখন ভানুকে ফোনে ধমকাচ্ছিল, তখন জিৎ বাসু লুকিয়ে সেই কথা আড়ি পেতে শুনে ফেলে। নিশার কথা শুনে জীতের মনে বড় একটা প্রশ্ন জাগে ভানু এত টাকা কোথায় পেল? এই টাকার উৎস তাকে খুঁজে বের করতেই হবে। জিৎ খুব ভালো করেই জানে যে চালাক নিশাকে সরাসরি ফাঁদে ফেলা সহজ নয়। তাই এবার সে ভানুকে টার্গেট করে তাকে দিয়ে নিশাকে ধরার জন্য ধীরে ধীরে একটি মোক্ষম চাল চালতে শুরু করে, যা গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এরই মধ্যে সায়ন্তনকে গ্রেফতার হতে দেখা যায়। তবে এই দৃশ্যটি দর্শকদের মনে একটা বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। ডাক্তার উজি যে অভিযোগে সায়ন্তনকে পুলিশে দিল, তা হলো একজন নার্সকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা। অথচ এর আগে সায়ন্তনের বিরুদ্ধে নিশাকে হত্যার চেষ্টা কিংবা উজিকে অপহরণ করার মতো অনেক বড় বড় অপরাধের প্রমাণ ছিল। সেসব গুরুতর অপরাধ বাদ দিয়ে কেন আবারও এমন তুলনামূলক দুর্বল অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হলো, তা নিয়ে দর্শকদের মনে সংশয় রয়েই গেছে।
অভিযোগ দুর্বল হওয়ার কারণে অনেকেরই মনে হচ্ছে, আগের বারের মতো এবারও হয়তো কোনো আইনি ফাঁকফোকর বা প্রমাণের অভাবে সায়ন্তন সহজে পার পেয়ে যাবে। যদি সত্যি তেমনটাই ঘটে, তবে এতদিন ধরে তৈরি হওয়া কাহিনীর সমস্ত উত্তেজনা মাটি হয়ে যাবে। দর্শকরা এখন শুধু সায়ন্তনের গ্রেফতার দেখতে চান না, বরং তার করা সমস্ত অপরাধের জন্য একদম বাস্তবসম্মত ও কঠোর শাস্তি দেখতে চান, যাতে নাটকের গল্পে সঠিক বিচার ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ পুষ্পিতা মুখার্জির হাত ধরেই শুরু দিদি নাম্বার ১! কখনও জুন মালিয়া, আবার কখনও দেবশ্রী রায়! সঞ্চালিকা হয়ে টিকতে পারেননি কেউই! বারংবার ফিরেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়! সেই জায়গার দখল নিলেন স্বস্তিকা! আর কি ফিরতে পারবে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়?
আগামী পর্বের প্রোমোতে দেখা যাচ্ছে, ঋষির মা যখন সায়ন্তনকে আশীর্বাদ করতে যান, ঠিক তখনই উজি শাশুড়ির হাত ধরে তীব্র কণ্ঠে বলে যে, আজ স্বয়ং ঈশ্বর এসে আশীর্বাদ করলেও সায়ন্তনকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। এরপর জিৎ বাসু সায়ন্তনের সামনে দাঁড়িয়ে নার্সকে ভয় দেখানোর অপরাধে তাকে গ্রেফতারের ঘোষণা দেয়। তবে সায়ন্তনের ধূর্ত চোখমুখ দেখে মনে হচ্ছে, সে হয়তো এবারও কোনো পুলিশ বা বাড়ির লোককে ঝাপটে ধরে ভয় দেখিয়ে নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।

