‘মুকুট’ ছাড়ায় যুধাজিতের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর, একজোট হল গোটা টলিপাড়া! ব্লুজের পক্ষে নাকি বিপক্ষে কী বলছে তারা?

জি বাংলা চ্যানেলে এখন অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক হচ্ছে মুকুট। এই ধারাবাহিকটি সেই ভাবে টিআরপিতে জায়গা না পেলেও দর্শকদের এর মূল কারণ হচ্ছে টিআরপি। এখন টিআরপি সব। টিআরপি তালিকায় যে ধারাবাহিক যত ভালো নাম্বার পাবে, সেই ধারাবাহিকের মেয়াদ ততই বাড়বে তার। এই মুহূর্তে এক একটি ধারাবাহিক ১ বছরের সীমাও অতিক্রম করার আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মুকুট ধারাবাহিকের নাম উঠে এসেছিল বন্ধের খাতায়। তখনো বেশ চর্চায় এসেছিল এই ধারাবাহিক। বর্তমানে ধারাবাহিক চর্চিত হচ্ছে অন্য কারণে।
মুকুট ধারাবাহিকের অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছিল যুধাজিত ব্যানার্জিকে। এই মুহূর্তে তিনি ব্লুজ প্রোডাকশনের দুটি প্রজেক্টে কাজ করছেন। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো মুকুট। সম্প্রতি প্রোডাকশনের সাথে মনোমালিন্যের জেরে অপমানিত হতে হয় তাকে যার ফলস্বরূপ এই দুটি ধারাবাহিকই ছেড়ে দেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে এই কথা জানান অভিনেতা। তিনি সেখানে লেখেন “শিল্পীকে অপমান করে শিল্পের সম্মান দেওয়া যায় না।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রোডাকশন হাউজ নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অভিনেতা যুধাজিৎ। তিনি বলেন, “ছোবলটা খাবার জন্য অপেক্ষা করে থাকবো, তারপর আমি কাউকে ছোবল দেব, ছোবল খেয়েও নিচু করে থাকব এটা কিভাবে হয়, আমি তো মহাত্মা গান্ধী নই যে এক গালে চড় খেয়ে আরেক গালে চড় খাবো বলে বসে থাকবো। ব্যক্ত বিশেষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে লাইন লাইটে আসার আমার কোন দরকার নেই, আমাকে যে কয়জন চেনেন আমি তাতেই খুশি।”
তিনি আরো বললেন “অমুকের বেশি ফলোয়ার, অমুক ওখানে বেশি ফেমাস, একটা ব্লু টিক আছে। ওকে কাজে নাও। এখন বিষয়টা অনেকটাই এরকম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি চাই শিল্পী তার শিল্পের যথাযথ মর্যাদা পাক…কাজ নিয়ে সব সময় খুব ভয় ভয় থাকতাম, কখনো মনে হতো এটা করে ফেললাম এবার কি হবে। এইরকম ভয়ের সাথে কাজ হয় না। কিছুদিন হলো আমার বাবা মারা গিয়েছে। তিনি সবসময় আমাকে শিখিয়েছেন শিরদাঁড়া যার সোজা করতে। এখানে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না তাই বেরিয়ে আসা।”
যুধাজিতের মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তারকারা। মুকুট ধারাবাহিকের নায়িকা শ্রাবণী ভুইয়া যুধাজিতের নাম না করেই লেখেন, ‘আমি বর্তমানে ব্লুজ-এর মুকুট সিরিয়ালে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে আমি সসম্মানে কাজ করছি এবং আমি অভিনেত্রী হিসাবে নিজেকে ধন্য মনে করি ব্লুজ সংস্থা থেকে নিজের যাত্রা শুরু করে… ব্লুজ-এ প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রী সম্মানের সঙ্গে বিনা ভয়ে কাজ করে। শুধু শিল্পী নয়, প্রত্যেক টেকনিশিয়ানকেও আলাদা সম্মান দেওয়া হয়। সবাই খুব নিষ্ঠা মেনেই কাজ করে। মাসের শুরুতে তাঁদের সকলকে পারিশ্রমিকও দিয়ে দেওয়া হয়। ভীষণ ঘরোয়া পরিবেশে কাজ হয়। এমনকী আমরা দেখেছি কেউ কারও সমস্যার কথা বলে যদি কাজ চান, উনি দেন। ট্র্যাকের প্রয়োজনে যদি সেই সিরিয়ালে ডেট না পড়ে, উনি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করে দেন। যে বা যারা এই মন্দিরের মতো সংস্থা নিয়ে মিথ্যে কথা রটাচ্ছে তাদেরই নোংরা মানসিকতা প্রকাশ পাচ্ছে। আপনারা এই মিথ্যে রটনা বন্ধ করুন। কারও ভালো না করতে পারলে, অন্তত খারাপ করবেন না।’

প্রেরণা ভট্টাচার্য বলেন, “আমার জীবনে কাজের শুরুটাই ব্লুজের হাত ধরে। অনেক হিট সিরিয়াল দিয়েছে এই প্রোডাকশন হাউজ। কখনো কোন সমস্যা হতে দেয়নি। যথাযথ সময় পেমেন্ট পেয়েছি। খুব ঘরোয়া পরিবেশে কাজ করেছি। যখনই কোন সমস্যার কথা জানিয়েছি তৎক্ষণাৎ সেটা সমাধান করা হয়েছে।”

অভিনেত্রী ইন্দাক্ষী দে বলেন, “এক অভিনেতার দেওয়া ইন্টারভিউতে দেখলাম তিনি ব্লুজ প্রোডাকশন সম্পর্কে অনেক খারাপ কিছু কথা বলেছেন, এই প্রোডাকশনের নাম বদনাম করতে চাইছেন। আমি ইন্দ্রাক্ষি দে একজন অভিনেত্রী হিসাবে এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। কারণ আমি এই প্রোডাকশনের মধ্যে ছয় বছর কর্মরত, আজ পর্যন্ত আমার কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। আমার একবারের জন্যও মনে হয়নি যে আমাকে জোর করে কোন কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এবং এখানে কাজ করে আমি নিজেকে যথেষ্ট নিরাপদ মনে করি, আমাদের দাদা স্নেহাশীষ চক্রবর্তী সবাই কে একসঙ্গে নিয়ে এই প্রোডাকশন কে একটা পরিবারের মতো গড়ে তুলেছেন, আমি দেখেছি অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী উনার বাড়িতে কাজের জন্য ছুটে যান, এমনকি উনি আমাদের বিভিন্ন রকম সমস্যার সমাধান করতে পাশে দাঁড়ান। তাই ভুলভাল ধরনের কিছু কথা একতরফা না শুনে প্রোডাকশনের বাকি শিল্পীদের কাছে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করা উচিত তাদের থেকেও শোনা উচিত আসল ঘটনাটা কি।”

এনারা ছাড়া বহু অভিনেতা অভিনেত্রীরা রয়েছেন যারা স্নেহাশীষ চক্রবর্তীর এবং ব্লুজ প্রোডাকশনের হয়ে অনেক মন্তব্য করেছেন। তারা ঠিক কত ভালোভাবে সেই প্রোডাকশন হাউসে কাজ করেছে সেই অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছে সোশ্যাল মাধ্যমে।

