‘আমি তো তিন নম্বর বউ…অভিনয় করি বলে আমি নিচু শ্রেণীর মানুষ!’ ‘শুধু শারীরিক বা মানসিক অ’ত্যাচার না তার পাশাপাশি…’ ‘আমি শুরুতে রাজাকে পছন্দ করতাম না!’ পর্দার হাসির আড়ালেই লুকিয়ে গভীর ক্ষত! জীবনসংগ্রামের সেই না বলা কথা শোনালেন নবনীতা দে!

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) দর্শকদের ড্রয়িংরুমে তিনি এক অতি পরিচিত নাম। কখনও স্নিগ্ধ মা, কখনও বা দাপুটে গৃহিণীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় বারবার মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। তিনি অভিনেত্রী নবনীতা দে (Nabanita Dey)। দীর্ঘ সময় ধরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলা এই অভিনেত্রী আজ হাজারো মানুষের কাছে সাহসের আর এক নাম। কেবল পর্দার সফলতাই নয়, বরং বাস্তব জীবনের কঠিন পিচে লড়াই করে জিতে ফেরার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি। নিজের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে যেভাবে তিনি আজ নিজেকে এক সফল নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
সম্প্রতি একটি বিশেষ পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রাপথ, বর্তমানের সুখী জীবন এবং নিজের লড়াইয়ের নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলোর কথা শেয়ার করেছেন, যা আরও একবার প্রমাণ করে যে আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। একসময় ঘরোয়া হিংসা ও চরম মানসিক অবসাদের শিকার হয়েও হার না মেনে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। শূন্য থেকে শুরু করে নিজের চেষ্টায় টলিপাড়ায় নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। বর্তমানে নিজের দ্বিতীয় স্বামী রাজা চট্টোপাধ্যায় এবং সন্তানকে নিয়ে সুখী নবনীতা।
তাঁর জীবনের প্রথম বিবাহিত জীবন ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। পডকাস্ট এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন যে, সেই সময় তিনি চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, নিজের আত্মমর্যাদা বাঁচাতে তিনি প্রায় শূন্য হাতে সেই ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। ভাঙা সময়কে জয় করে তিনি দ্বিতীয়বার ঘর বাঁধেন অভিনেতা রাজা চট্টোপাধ্যায়ের সাথে। রাজা এবং তাঁর পরিবার নবনীতাকে শুধু আশ্রয়ই দেয়নি, বরং ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে তিনি তাঁর স্বামী, কন্যা এবং শাশুড়ি মায়ের সাথে একটি সুস্থ ও সুখী জীবন অতিবাহিত করছেন।
অভিনেত্রী জানান তিনি ছিলেন তার প্রাক্তন স্বামীর তৃতীয় বউ। তিনি শারীরিক আঘাতের চেয়েও মানসিকভাবে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতেন। তাঁর কথায়, দিনের পর দিন তাঁকে ছোট করা এবং তাঁর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হতো। ডিভোর্স নিয়ে তাঁকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। তিনি জানান, সেই সময় অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি, উল্টে তাঁকেই দোষারোপ করা হয়েছিল। রাজা চট্টোপাধ্যায় নবনীতাকে সেই অন্ধকার সময় থেকে বেরিয়ে আসতে মানসিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার লড়াইয়ে মিঠি! বাড়িতে দুই ঠাকুমার কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লো বর্ষা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
বর্তমানে নবনীতা ও রাজা একটি সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। নবনীতা জানান, রাজা এবং তাঁর শাশুড়ি মায়ের সমর্থন ছাড়া তাঁর পক্ষে অভিনয়ে নিয়মিত হওয়া এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব হতো না। নবনীতা স্পষ্টভাবে বলেন, ‘ভালোবাসার আগে সম্মান প্রয়োজন।’ তিনি মনে করেন, একটি বিষাক্ত সম্পর্কে টিকে থাকার চেয়ে একাকী লড়াই করা অনেক ভালো।

