মায়ের কোল ছেড়ে পর্ণার স্বামী হয়ে কৃষ্ণাকে উচিত জবাব দিল সৃজন, তরঙ্গ দত্তের কথায় ভয় পেয়ে গেল পর্ণা

বহুদিন ধরে নায়কের চরিত্রে পরিবর্তন দেখতে চাইছিলেন দর্শক মহল। জি বাংলার (Zee Bangla) নিম ফুলের মধু (Neem Fuler Modhu) ধারাবাহিকের নায়ক সৃজন যেভাবে কথায় কথায় তার স্ত্রীকে সন্দেহ করে এবং মায়ের কথায় নাচানাচি করে এসব একেবারেই পছন্দ করছিলেন না ভক্তরা। তবে এইবার সৃজন এর মধ্যে অনেক বদল ঘটেছে। সে ঠিক এবং ভুলের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে সেটা বুঝতে শিখেছে। আর এমনটা বহাল থাকলে খুশি হবেন দর্শকরা। বর্তমানে ধারাবাহিকের টিআরপিও তুঙ্গে।

বর্তমান গল্প অনুযায়ী, পর্ণা চেষ্টা করছে তার হোমস্টে টাকে আরো সুন্দর করে তুলতে। কিন্তু তাদের কাজে বাধার সৃষ্টি করে চলেছে অয়ন আর মৌমিতা। যদিও তার উচিত শিক্ষা ইতিমধ্যেই পেয়েছে তারা। তবে এভাবে চুপ করে বসে থাকার লোক তারা নয়। পাশাপাশি পর্ণা তাই দ্বিতীয় গেস্টকে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত কারণ সে কোনও ডিটেলস ফিলাপ করেনি। আর তাকে নিয়ে বেশ খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছে পর্ণা।

ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, পর্ণা রাতের স্বপ্নের কথা ভাবতে থাকে। আর সৃজন বারবার বোঝাতে থাকে এটা তার মনের ভুল। ঠিক তখন সেখানে এসে উপস্থিত হয় জিনিয়া আর পিকলু। তারা কিছু বিদেশী গ্রাহক পেয়েছে যাদের সামনে গান গাওয়ার একটা সুযোগ তাদের কাছে এসেছে। তারা পর্ণাকে বলে যদি এই কনসার্ট টা দত্ত বাড়িতে করা যেত তাহলে এই হোমস্টের একটা প্রমোশন হয়ে যেত। পর্ণা এতে রাজি হয়ে যায়। ঠিক তখনই সেখানে আসে বর্ষা আর আবারো পিকলুর সাথে জিনিয়াকে দেখে তার মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়। এই বিষয়টা নজর এড়াতে পারেনি পর্ণার। সবাই চলে গেলে সে বর্ষাকে বলে, “পিকলুর প্রেমে পড়েছ তুমি। এটা কোন খারাপ বিষয় নয় কিন্তু সেটা যদি স্বাভাবিকতা নষ্ট করে তাহলে এমন কিছু না থাকাই ভালো। তুমি বদলে যাচ্ছে বর্ষা। এসবের জন্য নিজেকে বদলাতে দিও না।” বর্ষা কথাগুলো শোনার পর নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারে আর নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে।

তখনই চলে আসে অনুভব। সে এসে এই হোমস্টের বিজনেসে একটা নতুন আইডিয়া দেয়। যেটা শুনে বেশ পছন্দ হয় প্রত্যেকের। অয়ন বিষয়টাকে ভালোভাবে নেয় না কারণ অনুভবের এসবের মধ্যে না গলানো তার পছন্দ হচ্ছে না। অয়ন অনুভবকে দুচার কথা শোনালে সৃজন তার প্রতিবাদ করে এবং বলে, অনুভব এক কথায় তাদের বিজনেসে ইনভেস্ট করতে রাজি হয়ে যায়। আর ও হচ্ছে এই হোমস্টের বিজনেস পার্টনার, তাই ওর সম্পূর্ণ অধিকার আছে ওর মতামত জানানোর। শুনে সহ্য করতে না পেরে তাড়াতাড়ি মৌমিতাকে গিয়ে কথাগুলো জানায় অয়ন। অন্যদিকে রাস্তায় মৌমিতাকে ধরে ইশা। সে বুঝতে পেরেছিল কোন একটা গন্ডগোল হয়েছে আর এত সহজে মৌমিতাকে হাতছাড়া করতে পারবে না সে। আবার মৌমিতার মধ্যে প্রায় নিভে যাওয়া আগুন তাকে উসকে দেয় ইশা।

এদিকে সৃজনকে একা পেয়ে কৃষ্ণা চলে আসে আবার তার কানে বিষ ঢালতে। পর্ণার নামে আবার দুটো খারাপ কথা বললে সৃজন বলে, “অনুভবকে আমি বিজনেস পার্টনার করতে বলেছিলাম ও কিছু বলেনি। পর্ণা ভয় পেয়েছিল। আর সব সময় তুমি ওকে বাঁকা চোখে কেন দেখো? তোমার জন্য পর্ণা এক কথায় টাকা জোগাড় করতে রাস্তায় নেমে পড়েছিল, তোমাকে বাঁচিয়েছে। তারপরও সব সময় ওর দোষ কেন ধরো তুমি?” কথাগুলো শুনে বেশ গায়ে লাগে কৃষ্ণার তবে একটুকুও পরিবর্তন হয় না সে উল্টে আরও বেশি রেগে যায় অকৃতজ্ঞ কৃষ্ণা। পর্ণা অফিসে গিয়েও সেই তরঙ্গ দত্তের কথা ভাবতে থাকে। রুচিরা এই সমস্ত ভাবতে বারণ করে তাকে। তখন একটা আলোর নম্বর থেকে ফোন আসে পর্ণার কাছে। ফোনটা করে তরঙ্গ দত্ত। সে বলে, “আমি বারো হাজার টাকা এডভান্স করে দিচ্ছি। আমার বুকিং টা কনফার্ম করে দিন আর তিনদিনেরটা এক সপ্তাহ করে দিন।” এই বলেই ফোন রেখে দেয় সে। এসব শুনে একেবারেই ভালো লাগেনা পর্ণার।

Back to top button