কাজের অভাব হলেও করবেন না অন্তরঙ্গ দৃশ্য, পড়বেন না ছোট পোশাক! জানালেন শ্বেতা ভট্টাচার্য

বাংলা বিনোদন জগতের অতি জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী তিনি। দীর্ঘ ১০ বছর তিনি কাটিয়েছেন অভিনয় জগতে। প্রথম ধারাবাহিক থেকেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন শ্বেতা। সেই জায়গা এখনও রয়ে গেছে একইভাবে। রূপে-গুনে বরাবরই সকলে মুগ্ধ করেছেন তিনি। ভালোবাসা ডট কম, সিঁদুরখেলা, যমুনা ঢাকি, জোড়োয়ার ঝুমকো, কনক কাঁকন, সোহাগ জল সহ একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন শ্বেতা। বর্তমানে জি বাংলার কোন গোপনে মন ভেসেছে ধারাবাহিকে শ্যামলীর চরিত্রে ফের দর্শকদের নজর কেড়েছেন শ্বেতা ভট্টাচার্য (Sweta Bhattacharya)।

দীর্ঘসময় ধরে ছোটপর্দায় অভিনয় করার পর সম্প্রতি বড় পর্দায় পা রেখেছিলেন শ্বেতা। ২০২২ সালে দেব, মিঠুন চক্রবর্তী এবং মমতা শঙ্কর অভিনীত প্রজাপতি সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তাকে দেখেছেন দর্শকরা। সেইসময় একটি সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে নিজেকে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন নিয়ে নানান কথা তুলে ধরেছিলেন শ্বেতা। সংবাদ মাধ্যমকে প্রজাপতি সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেছিলেন “প্রথম ছবি, খুব ভাল লাগছে। অভিজিৎদা, অতনুদাদের অনেক ধন্যবাদ। সিরিয়ালের চাপের জন্য অনেক কিছুতে উপস্থিত থাকতে পারিনি। সেগুলোও মেনে নিয়েছেন। এটাই বড় প্রাপ্তি। আমি কৃতজ্ঞ।”

Bengali actress

১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন ছোটপর্দায় বিরতি নেওয়ার ইচ্ছে হয়নি কখনও?

উত্তরে অভিনেত্রী জানিয়েছেন “আমার ভাল থাকার ওষুধ হল কাজ। আমি কাজে থাকলে অবসাদ (ডিপ্রেশন) থেকে দূরে থাকি। এমন নয় যে, ছুটি চাই না। সিরিয়াল শুরুর আগেই আমি বলে দিই আমার শর্তগুলো। এই যেমন রবিবার আমি ছুটি চাই। ১ জানুয়ারি আমি কাজ করি না। শো এলে আমায় আগে ছেড়ে দিতে হবে। আমরা তো প্রচুর ‘মাচা শো’ করি, তখন আগে ছাড়তেই হয়। আমি চাই পর পর হাতে কাজ থাকুক।”

ছোটবেলায় জীবন ছিল দুর্বিষহ, জানালেন অভিনেত্রী শ্বেতা

যদিও সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেননি শ্বেতা। ছোটবেলা কেটেছে খুব কষ্টতে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা ছিল একসময়। একবেলা খেলে আরেকবেলা কি খাবেন সেকথা ভাবতে হত তাদের। অভিনেত্রীর কথায়, “ছোটবেলা তো আরও কঠিন ছিল। মোটেই সহজ ছিল না। নুনভাত খেয়ে কাটিয়েছি। আমার দাদা ছিলেন, সে-ও মারা গিয়েছে। আমার ছোটবেলা বলতে বসলে ইতিহাস হয়ে যাবে। মা বাইরে বেরোনোর আগে শিখিয়ে দিতেন, কেউ জিজ্ঞেস করলে যেন বলি, মাছভাত বা মাংস-ভাত খেয়েছি। দুপুরে খেয়ে রাতে ভাবতে হত, কী খাব? এখন তাই একটাই লক্ষ্য, আমার মা-বাবা যেন ভাল থাকেন।” তবে বর্তমানে ফিরেছে আর্থিক সচ্ছলতা। দুটো ফ্ল্যাট বাড়ি সবই হয়েছে তাদের। যদিও বর্তমানে অসুস্থ অভিনেত্রীর মা। ইতিমধ্যেই দুইবার খেয়েছে স্ট্রোক। সেইকারণেই মাকে সবসময় চোখে চোখে রাখেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: নীলুর মতো দুমুখো সাপ বোনের থেকে শৌর্যের মতন শত্রু থাকা অনেক ভালো, দাবি নেটিজেনদের❗

খোলামেলা পোশাক পরি না, জানালেন শ্বেতা ভট্টাচার্য?

তবে অভিনেত্রী হলেও পোশাক-আশাক নিয়ে বেশ সচেতন শ্বেতা। অভিনেত্রীর মতে, “আমি এত মরিয়া হয়ে যাইনি কখনও কাজের জন্য, যে যা বলবে তাই করব। কোনও সিদ্ধান্ত এমন নিইনি যে, পরে অনুশোচনা হতে পারে। আমি যেমন সিনেমা বা শুটিংয়ের জন্য হলেও ছোট খোলামেলা পোশাক পরি না, হাতকাটা জামা পরি না। এগুলো আমার আগে থেকেই বলা থাকে। কাজের প্রয়োজনে আমি ক্যামেরার সামনে চুমু খেতে পারব না।”

Back to top button