বিধবা হয়েও ফুলকিকে বরণ করলো শাশুড়ি! ‘মায়ের আবার সধবা বিধবা’ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জেঠু মনির উদ্যোগে ‘ফুলকি’ দেখে মুগ্ধ দর্শক

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা বর্তমান যুগের সাথে এখনো অব্দি নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারেননি। সেই পুরনো চিন্তাভাবনা ধ্যান ধারণাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের সেই ধ্যান-ধারণাকে প্রতিমুহূর্তে চাপিয়ে দিচ্ছেন নিজের পরবর্তী প্রজন্মের উপর। এর মধ্যেই মিশে রয়েছে কিছু কুসংস্কার যেগুলি বর্তমান সমাজকে ভ্রান্ত ভাবনায় ভরিয়ে তুলছে। সমাজকে শিক্ষিত হওয়ার পথে বাধা দিচ্ছে এবং আধুনিকতা থেকে বিরত রাখছে।

এমন অনেক মানুষ আছেন যারা এখনো বিশ্বাস করেন স্বামী মারা গেলে স্ত্রীদের আমি ছোঁয়া পাপ, কোন শুভ আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা পাপ, এমনকি কোন শুভ কাজে বেরোনোর আগে যদি তাদের মুখ দেখা হয় তাহলেও নাকি সেই কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এই ভ্রান্ত ধারণা চাপিয়ে দিতে দিতে তারা ভুলে যান যাদের উপর এই নিয়ম লাঘু হচ্ছে তারা ঠিক কতটা হীনমন্যতায় ভুগছেন।

কিছু অলিখিত সামাজিক নিয়ম একটি মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে যে সে ঠিক কতটা অশুচি। আদতে কিন্তু এসবের কোন মূল্য নেই। সবটাই ভ্রান্ত, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন কিছু রীতিনীতি। এই বিষয়গুলিকে বদলানো এত সহজ নয়। কারণ যারা এই সমস্ত কিছুকে বিশ্বাস করেন তাদের সামনে এসব বললে তারা কখনোই সেগুলিকে পাত্তা দেবেন না। কারণ তাদের কাছে তাদের নিজেদের মতাদর্শই সঠিক।

আর এই মতাদর্শকেই পরিবর্তন করতে এগিয়ে এলো জি বাংলার সদ্য শুরু হওয়া জনপ্রিয় ধারাবাহিক ফুলকি। এই মুহূর্তে বাংলা ধারাবাহিক মানুষের অন্যতম সঙ্গী। এখানে দেখানো বিষয়বস্তু গুলিকে মানুষ অনেকটাই আত্মস্থ করেন। তাই এবার এই ধারাবাহিকের মধ্যে দিয়েই কুসংস্কারকে কিছুটা মুছে ফেলার একটি ছোট্ট প্রয়াস করা হলো।

এদিনের পর্বে দেখা যায় ফুলকিকে বরণ করতে দ্বিধাবোধ করে তার শাশুড়ি কারণ সে বিধবা। কিন্তু নায়কের জেঠুমনি জোর করেন তাকে। তাকে বলা হয় মা তো মাই হয় মায়ের আবার সধবা বিধবা হয় নাকি? সত্যিই তো, মায়েরা কখনো অমঙ্গলের ছায়া ডেকে আনতে পারে সন্তানের জীবনে? কখনোই না। এই ছোট্ট একটি মুহূর্তে কুসংস্কার আচ্ছন্ন সমাজকে একটা বড় শিক্ষা দিল ফুলকি।

Back to top button