‘অনির্বাণে’র জন্য ছিল ঘৃণা, “কৃশানু’র জন্য বরাদ্দ ভালোবাসা! সুমন দে-র অভিনয়ে মজেছে নেটপাড়া!

বাংলা টেলিভিশন (Bengali Television) জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা সুমন দে (Suman Dey) বর্তমানে স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকে কৃশানু চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। তবে সম্প্রতি এই ধারাবাহিকের একটি বিশেষ মোড় দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে জি বাংলার ‘মিঠিঝোরা’ ধারাবাহিকের একটি পুরনো অধ্যায়কে। মজার বিষয় হলো, দুটি ধারাবাহিকেই গল্পের প্রেক্ষাপট এবং সুমন দে-র চরিত্রের পরিস্থিতি প্রায় এক, কিন্তু তাঁর অভিনীত দুটি চরিত্রের প্রতিক্রিয়া ও মানসিকতা আকাশ-পাতাল ভিন্ন। এই বৈপরীত্যই সুমন দে-র অভিনয় দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে উঠেছে।
‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে, মিঠির শারীরিক অসুস্থতা এবং কিছু লক্ষণ দেখে পরিবারের সবাই ধরে নিয়েছিল সে গর্ভবতী। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসায় ধরা পড়ে যে, মিঠি আসলে গর্ভবতী নয়, বরং তার শরীরে একটি বড় সিস্ট বাসা বেঁধেছে, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা প্রয়োজন। এই কঠিন সময়ে মিঠির হবু স্বামী কৃশানু যেভাবে পাহাড়ের মতো তার পাশে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃশানু মিঠিকে সন্দেহ করা তো দূরস্ত, বরং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা ভেবে তাকে সুস্থ করে তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তার এই সংবেদনশীলতা এবং ভালোবাসা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
অন্যদিকে, ‘মিঠিঝোরা’ ধারাবাহিকে সুমন দে যখন অনির্বাণ চরিত্রে অভিনয় করতেন, সেখানেও ঠিক একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নায়িকা রাইয়ের শরীরেও সিস্ট হওয়ার কারণে গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু সেই সময় অনির্বাণের প্রতিক্রিয়া ছিল চরম নেতিবাচক। অনির্বাণ সেখানে রাইকে অপমান করেছিল, তার চরিত্র নিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করেছিল এবং শেষমেশ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। একই অভিনেতা যখন ভিন্ন প্রোজেক্টে একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তখন তাঁর চরিত্রের এই বিবর্তন দর্শকদের জন্য দারুণ এক তুলনামূলক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুমন দে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই দুটি বিপরীতধর্মী ইমেজ ফুটিয়ে তুলেছেন। অনির্বাণ হিসেবে তিনি যখন ঘৃণা কুড়িয়েছিলেন, তখন কৃশানু হিসেবে তিনি পাচ্ছেন অফুরন্ত ভালোবাসা। একজন অভিনেতার কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না যে, তিনি একই চিত্রনাট্যের আদলে তৈরি দুটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের আবেগ নিয়ে খেলতে পারেন। ‘চিরসখা’র বর্তমান পর্বগুলি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সন্দেহ নয়, বরং কঠিন সময়ে একে অপরের ওপর বিশ্বাস রাখাই হলো প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয়।
আরও পড়ুনঃ টলিউড অভিনেত্রী সাগরিকা রায়ের অন্দরমহলে এক আশ্চর্য আবিষ্কার! যা সচরাচর দেখা যায় না কোনো তারকার বাড়িতেই! কি আছে অভিনেত্রীর বাড়িতে?
এই দুটি চরিত্রের মাধ্যমে আসলে সমাজের দুই ধরনের মানসিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে। ‘মিঠিঝোরা’র অনির্বাণ ছিল পুরুষতান্ত্রিক সন্দেহের প্রতিচ্ছবি, যেখানে কোনো নারী শারীরিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হলে প্রথমেই তার চরিত্রকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। কিন্তু ‘চিরসখা’র কৃশানু সেই প্রথাগত ধারণা ভেঙে একজন আদর্শ জীবনসঙ্গীর পরিচয় দিয়েছে। সে প্রমাণ করেছে যে, ভালোবাসা মানে কেবল সুসময়ের সঙ্গী হওয়া নয়, বরং যখন চারপাশের মানুষ আঙুল তোলে, তখন সেই মানুষটির হাত শক্ত করে ধরা।

