‘একটা গোছানো সমাপ্তির জন্য সামান্য ইচ্ছেটুকু প্রয়োজন’, সংলাপের দ্বারা সুন্দর পরিসমাপ্তি! মাত্র পাঁচমাসেই মনে গেঁথে গেল মেয়েবেলা

টিআরপিতে তেমনভাবে জায়গা তৈরি করতে না পারলেও দর্শকদের মনে পাকাপাকিভাবে জায়গা তৈরি করে স্টার জলসার একটি অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিকে পরিণত হয়েছে মেয়েবেলা। ধারাবাহিকের নায়ক নায়িকার মিষ্টি সম্পর্ক বিশেষভাবে নজর কেড়েছে দর্শকদের।
আর পাঁচটা ধারাবাহিকের মতন এই ধারাবাহিকের যাত্রা অতটাও মসৃণ ছিল না। শুরুতে মেয়েবেলা ধারাবাহিকের মূল আকর্ষণ ছিল আট বছর পর মেগা সিরিয়ালে ফিরে আসা অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী। কিন্তু চরিত্র মনঃপুত না হওয়ায় মাঝপথেই ধারাবাহিকের হাত ছেড়ে দেন অভিনেত্রী। আর তারপর থেকেই শুরু হয় মেয়েবেলার পতন।
এর মাঝে বীথির জায়গায় আনা হয়েছে নতুন অভিনেত্রীকে। অনেক ঝড়ঝাঁপটার সামলে কম্পিটিশনে টিকে থাকতে লড়াই চালিয়ে গেছে এই ধারাবাহিক। আর এর মাঝেই দর্শকদের মনের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে ডোডো আর মৌ। দর্শকদের হতাশ করে স্লট বদলে গিয়েছিল এই ধারাবাহিকের তবে এর মাঝেও হাল ছাড়েনি মেয়েবেলা। মাঝে যাই হয়ে থাকুক না কেন একটা সুন্দর সমাপ্তি দর্শকদের উপহার দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে এই ধারাবাহিক।
জানা গিয়েছিল মেয়েবেলা সিরিয়াল লিপ নিতে চলেছে। হলও ঠিক তাই। একেবারে শেষ দিনে এসে ২৭ বছরের লিপ নিল গল্প। অর্থাৎ দেখানো হলো মৌ আর ডোডোর পরবর্তী প্রজন্মকে। শাশুড়ি হিসেবে মৌ ঠিক কেমন হবে তা দেখার যাদের ইচ্ছে ছিল, তাদের মনস্কামনা একটু হলেও পূরণ হয়েছে আশা করা যেতে পারে।
গল্পের প্রত্যেকটি চরিত্রকে দেওয়া হয়েছে একটি সুন্দর সমাপ্তি। শুধু ইহলোক ছেড়ে চলে গিয়েছেন আম্মা। ডোডোর মা-বাবা থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই পেয়েছে একটি সুন্দর জীবন। প্রত্যেকের জীবনই এসেছে অনেক ওঠা পড়া তবে হার মানেনি কেউ। দর্শকদের মতে বাইরে থেকে দেখলে হয়তো ধারাবাহিকটিকে ব্যর্থ বলেই মনে হবে, আর পাঁচটা অসফল ধারাবাহিকের মতনই অসময়ের শেষ হয়ে যাচ্ছে মেয়ে বেলা, কিন্তু শেষ দিনে নিজের লক্ষ্য পূরণে একটুও সফল হয়নি এই ধারাবাহিক। যাত্রা শেষে দিনে প্রত্যেকটি সদস্যর জীবনে পরিপূর্ণতা নিয়ে এলো ধারাবাহিক। এমন একটা সমাপ্তিতে সন্তুষ্ট ভক্তরাও।

