দর্শকদের মন খারাপ করে অকালে শেষ হয়ে গিয়েছিল স্টার জলসার মেগা, এবার নিজের যোগ্য সম্মান পেয়ে নিন্দুকদের মুখ্য বন্ধ করলো

স্টার জলসার একটি অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ছিল মাধবীলতা। ‘মাধবীলতা’ সিরিয়াল শুরু হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই তা পছন্দ হতে শুরু করেছিল দর্শকের। শহুরে দর্শকও এই সিরিয়ালকে ভালবাসা দিয়েছেন। রাত ০৮.৩০টায় সম্প্রচারিত হতো ‘মাধবীলতা’। এর আগে এই স্লটে চলত ‘মন ফাগুন’ সিরিয়ালটি, অর্থাৎ ঋষি-পিহুর প্রেমে মজেছিল দর্শক। সেই সিরিয়াল বন্ধ করে শুরু হয় ‘মাধবীলতা’।
কাঠের চোরাচালানকারী ‘অসুর শ্বশুর’ এবং ‘বকাসুর খুড়শ্বশুর’কে ভালই শিখিয়ে-পড়িয়ে মানুষ করছিল পুরুলিয়ার জঙ্গলাহাটার প্রকৃতিবান্ধব আদিবাসী মেয়ে মাধবীলতা। শেখাচ্ছিল অ, আ, ক, খ… শেখাচ্ছিল পরিবেশে গাছের প্রয়োজনীয়তা। সে বারবারই বলত, ‘জঙ্গলাহাটা আমার প্রাণ, আর গাছ আমার মা…’। ডাকাবুকো মাধবীলতার চরিত্রটিকে ছোটপর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য পুরুলিয়ার ভাষা রপ্ত করেছিলেন অভিনেত্রী শ্রাবণী ভুঁইয়া। তাঁর নামেই সিরিয়াল। তিনিই হিরো। পুরুষদের মতো একাধিক চোরাচালানকারীর সঙ্গে একাকী মারামারি করতে পারে মাধবীলতা। কিন্তু এই সব পরিশ্রমই বৃথা করে দিয়েছিল চ্যানেল।
এরপর একদিন হঠাৎ শোনা যায় বন্ধ হয়ে যাবে মাধবীলতা। সাধারণত সিরিয়াল বন্ধের জন্য অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে টিআরপি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে, ‘মাধবীলতা’র স্কোর বোর্ড ছিল বেশ ভাল। প্রায়সই ৬-৭ এর ঘরে থাকতো টিআরপি। সুতরাং, ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া এই সিরিয়াল বন্ধ হচ্ছে জেনে কিছুতেই হিসেব মেলাতে পারেননি শিল্পী এবং কলাকুশলীরা।
দর্শকের পছন্দের সিরিয়াল কেন এমনভাবে বন্ধ হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন জেগেছে তাঁদের মনেও। প্রত্যেকের খুব মন খারাপ হয়েছিল। তাঁরাই জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর শেষ এপিসোডের শুটিং হবে ‘মাধবীলতা’র। ৪ ডিসেম্বর শেষ সম্প্রচার। তারপর সেই সিরিয়ালের জায়গায় আসে নতুন ধারাবাহিক ‘পঞ্চমী’।
স্লট লিড করা অবস্থায় হঠাৎই কোন কারণ ছাড়াই চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এই ধারাবাহিকটির। তাই সেই মুহূর্তে ধারাবাহিকটিকে যোগ্য সম্মান দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাঁচ মাস পর এই মেয়েরা তার যোগ্য সম্মান অর্জন করল। টিভি নাইন বাংলার ঘরের বায়োস্কোপ অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড পেল মাধবীলতা ধারাবাহিকের প্রধান অভিনেত্রী শ্রাবণী ভূঁইয়া। তার এই সফলতায় ভীষণ খুশি মাধবীলতার ভক্তরা।

