মেয়েরা অবলা নয়, মেয়েদের বাঁচার জন্য পুরুষের প্রয়োজন নেই! মা-মেয়ের চরিত্রে ফুটে উঠছে নারীদের ক্ষমতা! ভক্তদের মনে দাগ কাটতে বাধ্য মিঠি-কমলিনী!

নারীরা দশভূজা, এই কথাটা আমরা অনেককাল আগে থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু এই কথাটা প্রচলিত থাকলেও নারীদের কিন্তু দশভূজা রূপে সব সময় সম্মান দেওয়া হয় না। বরং যুগের পর যুগ ধরে নারীরা অবহেলিত হয়ে এসেছে। কিন্তু সেই সমস্ত নিপীড়িত নারীদের মধ্যে থেকেও কিছু নারী রয়েছে যারা মাথা তুলে দাঁড়াতে জানে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জানে। নিজের জন্য বাঁচতে জানে। আর সেরকমই একটি নারীকেন্দ্রিক গল্প নিয়ে স্টার জলসার (Star Jalsha) পর্দায় কয়েক মাস আগে শুরু হয়েছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের (Leena Gangopadhyay) লিখিত ধারাবাহিক চিরসখা (Chirosokha)।
বাকি পাঁচটা নারীকেন্দ্রিক ধারাবাহিকের চেয়ে এই ধারাবাহিক বেশ খানিকটা আলাদা। এখানে একা বিধবা কমলিনীর লড়াইয়ের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শুরু থেকে। তার তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে তার বেঁচে থাকার গল্প দেখানো হয়েছে। তার অস্তিত্ব লড়াইয়ের গল্প, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প, ঠগ স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার গল্প ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে প্রতিটি পর্বে।
ধারাবাহিকে আমরা কমলিনী চরিত্রটি প্রথম থেকেই নরম চরম স্বভাবের দেখে এসেছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কমলিনী নিজের হয়ে লড়াই করতে শিখেছে। নিজের হয়ে কথা বলতে শিখেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছে। সে যতই স্বামী হোক বা অন্য কেউ অন্যায় কে অন্যায় বলতে শিখেছে। আর মায়ের মতই হয়েছে মেয়ে মিঠি। ধারাবাহিকে মিঠি চরিত্রে অভিনয় করছে অভিনেত্রী ঐশী ভট্টাচার্য।
দর্শকেরা এই দুই চরিত্রকে ভীষণভাবে পছন্দ করছেন। ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই প্লুটো নামের একটি ছেলের সাথে বন্ধুত্ব ছিল মিঠির। স্কুল কলেজে তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছে, ধীরে ধীরে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে পরিণতি পেয়েছে। কিন্তু মিঠির কোনো ভালো কিছুই সহ্য করতে পারে না তার মামার মেয়ে মৌ। তাই প্লুটোকেও ছলে বলে কৌশলে মিঠির থেকে আলাদা করে দিয়েছে সে। আর প্লুটোও সেই ফাঁদে পড়ে মিঠির থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে। এখন যখন বারবার প্লুটো মিঠির সামনে এসে ক্ষমা চায় তার কাছে ফিরে আসতে চায় মিঠি তাকে কিছুতেই মেনে নেয় না। প্লুটোকে বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে অন্যায়ের সাথে আপোষ মিঠি করে না।
আরও পড়ুনঃ ‘সাত বছরেও মেয়ের মুখে ‘বাবা’ ডাক শুনিনি!’ ‘অভিনয় ছাড়িনি, অভিনয়ই আমাকে ছেড়ে দিয়েছে!’— ছোটবেলায় ২০০ ছবির তারকা মাস্টার রিন্টু, আজ মেয়ের চিকিৎসার খরচ তুলতেই যুদ্ধ!
অন্যান্য ধারাবাহিকে যেমন আমরা দেখে এসেছি নায়িকারা নায়কের মিষ্টি কথায় ভুলে গিয়ে বারবার তাদের ক্ষমা করে দিয়েছে। কিন্তু মিঠি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। প্লুটো যখন তাকে ছেড়ে মৌয়ের কাছে গিয়েছিল তখন সে প্রাপ্তবয়স্ক তার বোধ বুদ্ধি, বিচার বিবেচনা সবই হয়েছিল। জোর করে তাকে কেউ কোনদিনও একটা সম্পর্কে ঠেলে দিতে পারত না। আর এটাই বারবার প্লুটোকে বোঝাতে চায় মিঠি। তাই এখন প্লুটো যতই মিঠির পায়ে পড়ে ক্ষমা চাক, তার কাছে ফিরে আসতে চাক মিঠি তার সিদ্ধান্তেই অনর থাকবে। অন্যদিকে কমলিনীও সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে তার জীবনটা সে আর অন্যের ইচ্ছাতে বাঁচবে না। নিজের মতো করে বাঁচবে। যেই নতুন এতদিন কমলিনীর মাথায় ছাতা হয়েছিল তার পাশে বিপদে-আপদে ছিল সেই নতুনের সেবা করেই বাকি জীবনটা কাটাবে কমলিনী। সকলের সামনেই সে কথা জানিয়ে দেয় সে। আচ্ছা আপনাদের কমলিনী এবং মিঠির এই দৃঢ় চরিত্র কেমন লাগে? তাদের এই সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সহমত জানান?

