‘মেকাপ রুমে ভিড়…রোদে, গরমে বাইরে হাঁটা চলা করতে হয়, বসার জায়গা থাকে না!’ ‘ঠিক করে ডেট দেয় না, সংসারটা তো চালাতে হবে…’ ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ ঘণ্টা কাজ বাকিটা অপেক্ষা! পর্দার আড়ালের বাস্তবতা তুলে ধরলেন কল্যাণী মণ্ডল!

দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে আসছেন অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডল। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা, নানা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মন জয় করেছেন বারবার। বর্তমানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আনন্দী’তে, যেখানে নায়কের ঠাম্মির চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ঋত্বিক মুখার্জি ও অন্বেষা হাজরার পাশাপাশি তাঁর চরিত্রও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও শুটিং ফ্লোরে তাঁর দিনযাপন মোটেই সহজ নয়।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এখনকার শুটিংয়ের নিয়ম অনেকটাই বদলে গিয়েছে। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্লোরে থাকতে হয় শিল্পীদের, সে দিন কাজ থাকুক বা না থাকুক। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ফ্লোরে উপস্থিত থাকতে হয়, আর অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেই কাটাতে হয়। মজা করে তিনি বলেন, অনেক সময় মনে হয় যেন কাজের জন্য নয়, বসে থাকার জন্যই পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া যতই খারাপ হোক, এই নিয়মে কোনও পরিবর্তন আসে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। সকাল সকাল কল টাইম থাকলেও অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ডাক আসে না। কখনও সকাল থেকে দুপুর, আবার কখনও সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় শুধুমাত্র একটি দৃশ্যের জন্য। তাঁর কথায়, এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় এমন মনে হয় যেন কোথাও ডেকে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে, কিন্তু কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই।
এছাড়াও ফ্লোরে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবের কথাও তুলে ধরেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। একসঙ্গে একাধিক শিল্পীকে একটি মেকআপ রুমে বসতে হয়, আর জায়গা কম থাকলে বাইরে গরমে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বয়সের কারণে দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে থাকা বেশ কষ্টকর হলেও সেই পরিস্থিতি মেনে নিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তাঁর মতে, এই সমস্যা শুধু তাঁর নয়, প্রায় সব শিল্পীর ক্ষেত্রেই একই।
তবে আগের সময়ের সঙ্গে এখনকার পার্থক্যও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। আগে শুটিং অনেক বেশি সুসংগঠিত ছিল, নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী কাজ হত। এখন সেই নিয়ম অনেকটাই বদলে গেছে। উপরন্তু, মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক কাজের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সেই সুযোগ মিলছে না। তবুও নিজের অবস্থান থেকে অভিযোগ না জানিয়ে কাজ করে যাওয়াটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি, কারণ তাঁর মতে, এই পেশায় দায়িত্ববোধই সবচেয়ে বড়।

