‘আমার পিসিওডি রয়েছে, বিয়ের সময়ে…’ ‘এখন ঠিক আছি কারণ…’ ‘আমার ছাত্র-ছাত্রীদেরও আমি এভাবেই…’ যোগাসনের মাঝেই রেওয়াজ! কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করতে অভিনব পদ্ধতিতে গান শেখাচ্ছেন ইমন চক্রবর্তী!

গান শেখার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এবার এক অভিনব উপায়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন জনপ্রিয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। তানপুরা বা হারমোনিয়ামের সামনে বসে শুধু স্বরচর্চা নয়, বরং যোগাসনের সঙ্গে মিলিয়ে চলছে গানের রেওয়াজ। কুম্ভকাসনা বা প্ল্যাংক অবস্থায় থেকে সরগমের সাতটি স্বর গাওয়ার অনুশীলন করানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনেকের কাছেই বিষয়টি নতুন মনে হলেও ইমনের মতে, ভালো গান গাওয়ার জন্য শরীরের ভেতরের শক্তি এবং শ্বাস নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রশিক্ষণ ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন ইমন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীত নিয়েও গভীরভাবে কাজ করছেন। সেই প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই কণ্ঠচর্চার নতুন কিছু দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছেন তিনি। ইমনের মতে, শরীরের কেন্দ্রীয় অংশের পেশি বা কোর মাসল যত শক্তিশালী হবে, তত সহজে কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আগে নাভি থেকে শব্দ উৎপন্ন হওয়ার কথা শুনে অবাক হলেও এখন তিনি উপলব্ধি করেছেন, শরীরের কেন্দ্রীয় শক্তির সঙ্গে গানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
গান গাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ দম ধরে রাখা এবং শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমন জানান, প্ল্যাংক অবস্থায় থেকে একটি স্বর কতক্ষণ ধরে রাখা যায়, তা গায়কের সক্ষমতা অনেকটাই প্রকাশ করে। বর্তমান সময়ে শিল্পীদের শুধু বসে গান গাইলেই চলে না। মঞ্চে নাচ, হাঁটাচলা এবং নানা ধরনের পারফরম্যান্সের মধ্যেও গাইতে হয়। তাই ফুসফুসের পাশাপাশি শরীরের কোর মাসলকে শক্তিশালী রাখার প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। সেই কারণেই যোগাভ্যাসকে তিনি নিজের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছেন।
ইমনের মতে, শাস্ত্রীয় রেওয়াজ সুরকে নিখুঁত করতে সাহায্য করলেও দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখায় না। পাশ্চাত্য সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। গান গাওয়ার সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, প্রাণায়াম এবং যোগাভ্যাসের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাই এখন তাঁর প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! চিরতরে থেমে গেল স্বর্ণযুগের এক অনবদ্য কন্ঠ! ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন জনপ্রিয় গায়িকা! নিস্তব্ধ সংগীত জগত!
শুধু গানের ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও যোগাসন ইমনের জন্য বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই নিয়মিত যোগাভ্যাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে পিসিওডি এবং উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগলেও যোগাসনের মাধ্যমে অনেকটাই উপকার পেয়েছেন। আগে ছোটখাটো বিষয়েও দুশ্চিন্তা এবং রাগের প্রবণতা ছিল, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনের ফলে সেই সমস্যাগুলি অনেকটাই কমেছে। ইমনের বিশ্বাস, সুস্থ শরীর এবং সুস্থ মনই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সম্পদ।

