“শুধু নেটিজেনরাই নয় মোটা বলে কটুক্তি শুনতে হয়েছে অভিনেত্রীদের থেকেও”, ইন্ডাস্ট্রিতে ব’ডি সে’মিং’য়ের শিকার অভিনেত্রী সঙ্ঘশ্রী নিজেই জানালেন সে কথা

তন্নী, ছিপছিপে, ঈর্ষণীয় ফিগার, এই কোনও বিশেষণই তিনি পাননি কোনওদিন। অভিনেত্রী বলতেই মানুষের মনে যে ধারণা থাকে, তার সঙ্গে তেমন খাপ খান না তিনি। তবুও কেবল অভিনয়ের জোরেই টলিউডে ছাপ ফেলেছেন, ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় অভিনও করছেন চুটিয়ে। চরিত্রের প্রয়োজনে একাধিকবার ওজন কমাতে হলেও, তিনি নিজেই স্বীকার করেন, বহুবার জিম থেকে পালিয়েছেন তিনি।
একদম মায়ের মত সেজে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করতেই কটাক্ষের শিকার পর্দার ‘অরুণা’। বাস্তবের সঙ্ঘশ্রী সিনহা মিত্র। অকপট অভিনেত্রী ভাগ করে নিলেন বাস্তব ও পর্দার জীবনের অভিজ্ঞতার কথা। আগামী ১২ই মে মুক্তি পাচ্ছে পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘ফাটাফাটি’। সেখানে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঙ্ঘশ্রী।
হঠাত্ই পর্দার চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবের মিল ঘটল ফেসবুকের সৌজন্যে। ‘ইস! কী রোগা তুমি’- শাড়ি পরা ছবিতেও ভেসে এল কটাক্ষ। চুপ করে থাকার পাত্রী নন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতে ট্রোলারকে দিলেন যোগ্য জবাব। লিখলেন, ‘ইস কেন? রোগা হলেও ইস! মোটা হলেও ইস! আপনার প্রোফাইল দেখে মনে হচ্ছে বিবর্তন হয়নি। তাই আপনার জন্য একটা বড় ইস!’ মোক্ষম জবাবে তিনি পাশে পেয়েছেন অনুরাগীদের।
সঙ্ঘশ্রীর কথায়, ‘বাড়িতেও তো শুনতে হয়- এত মোটা হচ্ছিস কেন! আর বাইরের কথা না হয় বাদ-ই দিলাম। আমার এক বোনের গায়ের রং চাপা। তাকে নিয়ে বাড়ির লোকের সে কত টেনশন। আমার পিসিও একাকীত্বে, অবসাদে ভুগতেন গায়ের চাপা রং নিয়ে। রোগা হোক বা মোটা, সমালোচনা হবেই। ওবেসিটি যে একটা রোগ সেটা এখন মানুষ জানেন হয়তো। কিন্তু আমি ছোট থেকেই বডি শেমিংয়ের শিকার। এখন আর পাত্তা দিই না। আমার পুরুষালি স্বভাবের জন্যেও কথা শুনতে হয়।’
View this post on Instagram
কাকতালীয় ভাবে, ‘ফাটাফাটি’ ছবিতেও বডি শেমিংয়ের শিকার সঙ্ঘশ্রী। ছবির জন্য ঋতাভরী ওজন বাড়িয়েছেন অনেকটাই। ওজন নিয়ে সামাজিক ট্যাবু আছে। শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও এর শিকার। সেই জন্যেই প্রাসঙ্গিক ‘ফাটাফাটি’র মত ছবি। সঙ্ঘশ্রী আরও যোগ করেন, “আমার ৩৫ বছরের উপর বয়স হয়ে গেল। এখন অবশ্য আর এত কিছু ভাবি না। জীবনে যা পেয়েছি তাতেই আমি খুশি। কটাক্ষকারীদের বুড়ো আঙুল।”

