টলিপাড়া জুড়ে এখন রুপা-বিতর্ক, অভিনেত্রীর হঠাৎ ধারাবাহিক ছেড়ে দেওয়া নিয়ে তার বক্তব্যকে আদেও সমর্থন করছেন অন্যান্য কলাকুশলীরা?

আট বছর রুপালী জগত থেকে দূরে ছিলেন অভিনেত্রী। তারপর ক্যামেরার সামনে ফিরলেন স্টার জলসার মেয়েবেলা ধারাবাহিকের হাত ধরে। শুরু থেকেই চর্চায় এই মেগা। ধারাবাহিক তার স্পর্শ পেয়ে জায়গা করতে শুরু করেছিল টিআরপি তালিকা। বীথিকা চরিত্রটা নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। কিন্তু মাত্র চার মাসে ধারাবাহিক ছাড়লেন রূপা। তিনি এই ধারাবাহিক করতে রাজিই হয়েছিলেন গল্পের কারণে। কিন্তু অভিনয় করতে করতে তিনি দেখেন যেটা তাকে বলা হয়েছিল তেমন কিছুই হচ্ছে না বরং দিন দিন নোংরামির দিকে চলে যাচ্ছে তার চরিত্রটি।

আগের সপ্তাহে ‘মেয়েবেলা’ ধারাবাহিক থেকে সরে গিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ানোর পিছনে রূপার যুক্তি ছিল, সময়ের সঙ্গে রূপার অভিনীত বীথিকা চরিত্রটি এতটাই ‘নেগেটিভ’ হয়ে গিয়েছিল যে, তুমি একজন সফল অভিনেত্রী তার পক্ষে এটা মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কিন্তু রূপার সিরিয়াল ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমাজমাধ্যম দ্বিধাবিভক্ত। কেউ বলছেন, এক জন অভিনেতার কাজ অভিনয় করা। ইতিবাচক বা নেতিবাচক, দু’রকম চরিত্রেই তিনি সমান দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করবেন। বেশকিছুদিন চরিত্র পছন্দ হয়নি তাই সিরিয়াল ছেড়ে দেবেন এটার কোন যুক্তি নেই। আবার রূপাকে সমর্থন করে অন্য পক্ষের মত, চরিত্রের কাঠামো যদি বদলে যায় সেটা অনৈতিক।

এই মুহূর্তে ‘নিম ফুলের মধু’ সিরিয়ালে অভিনয় করছেন লিলি চক্রবর্তী। রূপার ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত। লিলি বললেন, ‘‘ওকে যদি প্রথমে ইতিবাচক চরিত্র বলা হয় এবং পরে সেটা যদি নেতিবাচক হয়ে যায় সেটা ঠিক নয়।’’ কথা প্রসঙ্গেই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জানালেন যে, তিনি এখনো পর্যন্ত এইরকম অভিজ্ঞতা তার হয়নি। কিন্তু অভিনেতার কাজ তো অভিনয়। লিলি বললেন, ‘‘বুঝতে হবে ও তো আগে এ রকম কোনও নেগেটিভ চরিত্র করেনি। তাই ওর খারাপ লাগতেই পারে।’’

বাংলা ছোট পর্দার আর এক বর্ষীয়ান অভিনেতা সুমন্ত মুখোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে ‘রামপ্রসাদ’ এবং ‘গৌরী এল’ ধারাবাহিকে দর্শক তাঁকে দেখছেন। সুমন্ত বললেন, ‘‘বিষয়টা শুনেছি, তবে বিশদে জানি না। তাই মন্তব্য করা উচিত হবে না।’’ আচ্ছা নেগেটিভ চরিত্র কি একজন অভিনেতার জনপ্রিয়তা নষ্ট করে দিতে পারে? অভিনেতা পরিষ্কারভাবে বলেন, ‘‘আমি তো সারা জীবন খলনায়কের চরিত্রেই অভিনয় করেছি। তাই আজও আমার কাছে সে রকম চরিত্রেরই প্রস্তাব বেশি আসে। তাতে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মনে হয় না।’’

Back to top button