বীথির জন্য চাঁদনী এবার ডোডো মৌয়ের সম্পর্কের মাঝে! পুরনো প্রেমিকা তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে প্রবেশ করবে জীবনে, ‘মেয়েবেলা’তে অন্য ধারাবাহিকের মতোই ট্র্যাক দেখে বিরক্ত দর্শক

স্টার জলসার সদ্য শুরু হওয়া ধারাবাহিক ‘মেয়েবেলা’ । এ এক অন্যরকম গল্পের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা। একটা সংসারে দিনের পর দিন বছরের পর বছর ধরে চলে আসা কিছু নিয়মের প্রতিচ্ছবি। শ্বাশুড়ি, জা’য়েদের সাথে মানিয়ে চলতে না পাড়ার গল্প। কখনও বা কিছু ভালোর স্বার্থে নিজেকে ভুলে যাওয়ার গল্প। এক ছাদের তলায় কিছু ভিন্ন পরিস্থিতিতে বয়ে চলা কয়েকটি মেয়ের জীবন। যারা আদৌ কেউ কারুর শত্রু নয়। তবে সমাজের চোখে কেউ এক হতে পারেনা কখনও।

এই ধারাবাহিক শুরু থেকেই মন কেড়েছে দর্শকের। এমন গল্প বর্তমান বাংলা ধারাবাহিক গুলিতে চোখে পড়েনা। এই গল্পে আছে এক অন্যরকম মন ছুঁয়ে যাওয়া কিছু কথা আর গল্পের রেষ। মৌ কে ডোডোর মা কখনোই পছন্দ করতেন না। মৌ এর প্রতি তার একটা রাগ জমে আছে মনের কোথাও। কিন্তু তার জন্য দায়ী মৌ নয় মৌ এর মা।

যে একসময় বীথির বন্ধু ছিল। কিন্তু কিছু অসৎ মানুষের জোরের মুখে পরে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। যে মৌ কে বীথি সহ্যই করতে পারেনা। সে কিনা ডোডোর বউ। টাকার জন্য মৌ এর মেসো মৌকে একপ্রকার ঘাড় থেকে নামিয়েছেন বলা চলে। নির্ঝরের বিপদে যখন কোন পথ খোলা নেই তখন আম্মা যান মৌ এর মেসোর কাছে। কিন্তু সে এমনি এমনি টাকা দিতে রাজি হয়না। তার শর্ত থাকে ডোডোকে মৌকে বিয়ে করতে হবে।

আর পরিস্থিতির শিকার হয়ে পাল্টে যায় মৌ ডোডো আর চাঁদনীর জীবন। নিজের বারো বছরের সম্পর্ককে নিমেষে বদলে ফেলতে বাধ্য হয় ডোডো। আইনসম্মত ভাবে বিয়ে করে মৌকে। অন্যদিকে, চাঁদনীও সবটা আপ্রাণ মেনে নেওয়ার চেষ্টায়। সে নির্ঝরকে ভুল বোঝেনি। সে তার পরিস্থিতিটা বুঝতে চেষ্টা করেছে। সাথে মৌকেও সে বোঝার চেষ্টা করেছে। মৌয়েরও একটা কালো অতীত চাপা আছে তার মনে সে জানাতে চাইলেও ডোডোর কাছে এখনও অজানা সে অতীত।

দর্শকরা ভেবেছিল এই ধারাবাহিককে অন্তত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পুরনো প্রেমিকা তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ঢুকে পড়েছে ভিলেন রূপে এমন কিছু দেখানো হবে না। কিন্তু সে গুরে বালি ডোডো অর্থাৎ নির্ঝরের মা বিথীর মদতেই ধীরে ধীরে ডোডো আর মৌ এর জীবনে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে প্রবেশ করছে চাঁদনী। এদিনের পর্বে তারই ইঙ্গিত দিল সে। একটা ক্যাফে তে চাঁদনী ও তার দাদা বসে কথা বলছিল। চাঁদনীর দাদা, তার বোনকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল এখন আর কিছু বদলানো সম্ভব নয়, চাঁদনীর নির্ঝরের জীবন থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসাটাই এই মুহূর্তে বুদ্ধিমানের কাজ। চাঁদনীও বোঝানোর চেষ্টা করছিল সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না এমন কিছু ঘটে গেছে। অবশেষে চাঁদনীর দাদা, চাঁদনীকে কথা দিতে বলে যে চার দিন নির্ঝরদের বাড়িতে যাতে কখনো না যায়। সামনাসামনি চাঁদনি বিষয়টাতে সম্মতি জানালেও মনে মনে সে বলে নির্ঝরে থেকে আর দূরে থাকতে পারবে না সে। আর এখান থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে খলনায়িকা হিসেবে গল্পের মোড় ঘোরাতে চলেছে চাঁদনী।

Back to top button