সর্বানীর পণ প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আর বাবাকে অসম্মানের হাত থেকে রক্ষা করা দেখে মুগ্ধ দর্শক

আজকাল সিরিয়াল ছাড়া অবসর কাটে না দর্শকদের। দর্শকদের পছন্দের তালিকায় থাকায় যেমন একাধিক ধারাবাহিক কেউ স্লট লিড করে ঠিক তেমনি তাদের অপছন্দের জন্য বন্ধও হয়েছে একাধিক সিরিয়াল। এই সিরিয়ালগুলি টিআরপির তালিকায় নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে কম কেরামতি করে না। যেমন গত কয়েক মাস আগেই ভালো ভালো সিরিয়াল গুলি টিআরপির তালিকায় নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি বলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু ধারাবাহিকের গল্প অপূর্ণ রেখেই শেষ হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে টেলিভিশনের পর্দায় সম্প্রচারিত হচ্ছে রামপ্রসাদ এবং সর্বানীর যাত্রা। শুরু হয়েছে ধারাবাহিক রামপ্রসাদ(Ramprasad)। যে ধারাবাহিকের হাত ধরে বহু দিন পর ফিরলেন সব্যসাচী চৌধুরী(Sabyasachi Chowdhury)। এছাড়া মা কালীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পায়েল দে(Payel Dey)। সর্বানীর ভূমিকায় রয়েছেন সুস্মিলি আচার্য(Sushmili Acharya)।

বর্তমান ট্রাক অনুযায়ী, রামপ্রসাদের জীবনে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। এদিনের পর্বে দেখানো হয় রামপ্রসাদের পিসেমশাই পন না দিলে ছেলের বিয়ে দেবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছে বিয়ের মন্ডপে। অন্যদিকে সর্বানির বাবা প্রতিশ্রুতি দেয় বিয়ের পর সব টাকা মিটিয়ে দেবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে নতুন শর্ত জোরে পাত্রের বাবা। তার দাবি এরপর তাকে দ্বিগুন বন দিতে হবে। যা শুনে পাত্রের বাবার পায়ে পড়ে যান সর্বানির বাবা।

 বাবার এই করুন অবস্থা দেখে রুখে দাঁড়ায় সেই সময়ের মেয়ে সর্বাণী। সেই সময় বলা হচ্ছে কারণ তখন মেয়েদেরকে পণ্য বলে মনে করা হতো আলাদা করে তাদের মতামত নেওয়ার চেয়ে কোন প্রয়োজন আছে সেটা কখনো ভেবে দেখতেন না পুরুষেরা। সেই সময়ে মেয়েদের বিয়ে করে নিয়ে যাওয়া মানে বাবার বোঝা হালকা করা। আর তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে সেই দিনে মেয়েদের বিয়ে হত আর ছেলেরা মেয়েদের বিয়ে করে উদ্ধার করতো। এমন একটি সামাজিক পরিকাঠাময় দাঁড়িয়ে সবার সামনে সর্বাণী বলে ওঠে সে লগ্নভ্রোস্টা হলে হবে, তবে এমন কোন বাড়িতে যাবে না যেই বাড়ির লোক শুধু টাকার থলে নিয়ে যেতে চায়। সে তার বাবাকে বলে আজ দ্বিগুন চাইছে কাল দিন চাইবে, তারপরে দশগুণ চাইবে। আরে না দিতে পারলে হয়তো তাকে তাড়িয়ে দেবে। এই কথার পূর্ণ সমর্থন করেন রামপ্রসাদ।

আজকের দিনে এমন ঘটনা ঘটলে ইতিমধ্যে হয়তো পুলিশ চলে যেত। কারণ এখন নারীর অধিকার পুরুষের তুলনায় কিছু কম নয়। কিন্তু তখনকার দিনে একজন নারীর ক্ষেত্রে সবার সামনে শিরদাঁড়া সোজা করে এতগুলো কথা বলা সত্যিই অনেক বড় বিষয় যা হয়তো অনেকে কল্পনাও করতে পারেন না। আর এটাই করে দেখিয়েছে সর্বাণী। তার এমন রুখে দাঁড়ানোয় সেই সমাজে একটি মেয়ে হিসেবে সে সমালোচিত হলেও বর্তমান সমাজে মানুষজন তার এই চরিত্রটিকে বেশ পছন্দ করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Back to top button