শত কষ্ট চেপে নিজের মাকে “মা” বলতে পারছে না রুপা! সোনার থেকে অনেক বেশি উপস্থিত বুদ্ধি রুপার রয়েছে, এমনটাই মত দর্শকদের

বর্তমান সময়ে টিআরপি তালিকা দেখলে যে ধারাবাহিকটি বাংলা টেলিভিশন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করছে তার নাম স্টার জলসার অনুরাগের ছোঁয়া (Anurager chhowa)। ধারাবাহিকটি শুরুর প্রথম থেকেই সূর্য (Surya) এবং দীপার (Dipa) গল্প দর্শকের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু জনপ্রিয়তা বাড়ে তাদের দুই যমজ মেয়ে অর্থাৎ সোনা (Sona) এবং রুপাকে (Roopa) দর্শক টিভির পর্দায় দেখার থেকে। সূর্যর বন্ধু মিশকার (Mishka) জন্য সূর্য দীপার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে বহু বছর ধরে তারা একে অপরের থেকে দূরে রয়েছে। তবে আজ এই সবকিছুর মধ্যে রুপা (Roopa) যে পরিমাণ কষ্ট পাচ্ছে সেটাই অনুভব করছে দর্শক।
এমনকি তাদের দুই যমজ মেয়ে সোনা এবং রুপাও আলাদা হয়ে গেছে। একজন থাকে তার মায়ের কাছে এবং অন্যজন থাকে তার বাবার কাছে। এতকিছুর পরেও তারা এখনো জানতে পারেনি তাদের বাবা-মায়ের আসল পরিচয়। তবে এই সব কিছু জানে একমাত্র সূর্যর মা লাবণ্য সেনগুপ্ত। সে অনেক চেষ্টা করেছে সূর্যর মন থেকে ভুল ভাবনা মেটানোর কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। মিশকা তাকে ভুল বুঝিয়ে গেছে এবং এত বছর পরেও দীপার জন্য তার ক্ষোভ মনের মধ্যে চাপা রয়েছে। তবে এখনো যে সে দীপাকে সমানভাবেই ভালোবাসে সেটা মাঝে মাঝে প্রকাশ পেয়ে যায়। তাই দেখে দর্শকরা চাইছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়।

তবে যতই একে অপরের আসল পরিচয় না যেন কেউ বাবা-মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত সুন্দর দেখানো হচ্ছে টিভির পর্দাতে। যা বারে বারে দর্শকদের প্রশংসার মাধ্যম হয়ে উঠছে। একদিকে সোনা এবং অন্যদিকে রুপা দুজনেই দর্শকের খুবই পছন্দের হয়ে উঠেছে। তবে এই দুই বোনের মধ্যে যত সুন্দর মিল দেখানো হচ্ছে ততই সুন্দর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য দেখানো হচ্ছে গল্পে। আর দুই খুদে শিল্পী সেই দুটো চরিত্রকে এত সুন্দর ফুটিয়ে তুলছে যা বলাই বাহুল্য। কিছুদিন আগেই সোনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিল সকলে। কিন্তু রুপাও কিছু কম যায় না ।
প্রসঙ্গত এখানে সোনাকে দেখানো হচ্ছে বড়লোক বাড়ির খুবই আদরে মেয়ে। যাকে বাবা সূর্য চোখে হারায়, সেসঙ্গে দাদু, ঠাম্মা, কাকা, পিসি তাকে খুবই ভালোবাসে। কিন্তু উল্টোদিকে তারই বোন রুপা অভাবের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। এত ছোট বয়সে তাকে তার অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ আনতে দেখা গেছে। তবে দীপা তার সাধ্যমতো মেয়েকে মানুষ করার চেষ্টা করছে সেই সঙ্গে দীপার যে দাদা বৌদিকে দেখানো হয় তারাও তাদের সাধ্য মতো দীপা এবং রুপার খেয়াল রাখে। তবে রুপা যে খুবই বাস্তবের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে আর সোনার থেকে অনেক বেশি ম্যাচুরিটি রুপার রয়েছে, সেটা গল্পে ফুটে উঠছে।

তাকে লাবন্য সেনগুপ্ত এবং দীপা দুজনে মিলে বলেছে যে সে যেন কারোর সামনে তার মাকে “মা” না বলে ডাকে। সেও জানো সোনার মতোই দীপাকে “ফুল মা” বলে ডাকে সকলের সামনে। এমনকি সে কাউকে বলতেও পারবে না যে তারা আসল মা হলো দীপা। তাই যখন সূর্য এবং সোনার সামনাসামনি হতে হচ্ছে তাকে তার মায়ের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। তাই মেয়েটা শত কষ্ট হলেও সেই সত্যিটাকে আড়াল করছে। যতই তাকে সকলে বলুক না কেন এটা একটা খেলা, আর সে যদি দীপার পরিচয় লোকাতে পারে তবেই সে এই খেলায় জিতবে, সে কিন্তু মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে। সেটা তার মুখে ফুটে উঠছে। আর এত সুন্দর অভিনয় করছে এই চরিত্রে ছোট্ট খুদে শিল্পী দর্শকদের মুগ্ধ করে তুলেছে।

